জামালপুরের বকশীগঞ্জ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন বা ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার পারদ কেবল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কিংবা বিএসএফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক রূপ নেয় যে, বুধবার বিকেলের দিকে দুই দেশের সীমান্ত ঘেঁষে থাকা সাধারণ জনগণের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া এবং পালটা ধাওয়ার মতো মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় নাগরিকরা।
সীমান্তবর্তী বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, বুধবার সকালের দিকে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে আনুমানিক ষাট বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে জোরপূর্বক পুশইন করার চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। সেই মুহূর্তে সেখানে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির জওয়ান এবং স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসীদের তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের সেই পুশইনের মূল পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়ে যায়। তবে পুশইন করতে না পারলেও বিএসএফের সদস্যরা অমানবিক উপায়ে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমানা বা শূন্যরেখায় ফেলে রেখে নিজেদের ক্যাম্পের দিকে চলে যায়।
এরপর শূন্যরেখায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর নিরুপায় হয়ে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি যখনই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তখনই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শক্তভাবে বাধা প্রদান করেন। ফলশ্রুতিতে নিরুপায় হয়ে ওই প্রবীণ ব্যক্তি পুনরায় দুই দেশের নো ম্যানস ল্যান্ড বা শূন্যরেখাতেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। এই জটিল ও সংবেদনশীল মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনো পক্ষই ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে বা নিজেদের হেফাজতে নিতে রাজি হয়নি।
পতাকা বৈঠক কোনো ধরনের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ায় স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করে। এই পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে অবস্থানরত দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে ধাওয়া এবং পালটা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ভারতের বিএসএফ প্রায়শই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকবল বাংলাদেশে পুশইন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আর দেশের নাগরিক হিসেবে যখনই তারা বিজিবিকে এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা করতে যান, তখনই ওপাড়ের বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
তারা আরও জানান, বুধবার বিকেলের দিকে ভারতের ভেতরের কিছু উশৃঙ্খল যুবক হঠাৎ করেই বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এর জবাবে বাংলাদেশের সীমানায় থাকা সাধারণ মানুষও নিজেদের সুরক্ষায় পালটা ঢিল ছুড়তে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশিদের সম্মিলিত ও জোরালো প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় যুবকরা রণেভঙ্গ দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত উত্তেজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে জানমালের নিরাপত্তা ও যেকোনো ধরনের বড় সংঘর্ষ এড়াতে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম না করার জন্য তিনি দুই দেশেরই প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি বিনীত ও কঠোর অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করতে বিজিবিকে সবসময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয় সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
জামালপুরের বকশীগঞ্জ সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন বা ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার পারদ কেবল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কিংবা বিএসএফের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দুই দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক রূপ নেয় যে, বুধবার বিকেলের দিকে দুই দেশের সীমান্ত ঘেঁষে থাকা সাধারণ জনগণের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া এবং পালটা ধাওয়ার মতো মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় নাগরিকরা।
সীমান্তবর্তী বিশ্বস্ত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, বুধবার সকালের দিকে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে আনুমানিক ষাট বছর বয়সি এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে জোরপূর্বক পুশইন করার চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। সেই মুহূর্তে সেখানে দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির জওয়ান এবং স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসীদের তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের সেই পুশইনের মূল পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়ে যায়। তবে পুশইন করতে না পারলেও বিএসএফের সদস্যরা অমানবিক উপায়ে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমানা বা শূন্যরেখায় ফেলে রেখে নিজেদের ক্যাম্পের দিকে চলে যায়।
এরপর শূন্যরেখায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর নিরুপায় হয়ে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটি যখনই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তখনই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবির সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে শক্তভাবে বাধা প্রদান করেন। ফলশ্রুতিতে নিরুপায় হয়ে ওই প্রবীণ ব্যক্তি পুনরায় দুই দেশের নো ম্যানস ল্যান্ড বা শূন্যরেখাতেই ফিরে যেতে বাধ্য হন। এই জটিল ও সংবেদনশীল মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনো পক্ষই ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করতে বা নিজেদের হেফাজতে নিতে রাজি হয়নি।
পতাকা বৈঠক কোনো ধরনের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ায় স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মনে ক্ষোভ ও উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করতে শুরু করে। এই পুশইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের দিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে অবস্থানরত দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে সরাসরি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে কাঁটাতারের বেড়া ভেদ করে ধাওয়া এবং পালটা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, ভারতের বিএসএফ প্রায়শই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকবল বাংলাদেশে পুশইন করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। আর দেশের নাগরিক হিসেবে যখনই তারা বিজিবিকে এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সহযোগিতা করতে যান, তখনই ওপাড়ের বিএসএফ এবং ভারতীয় নাগরিকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
তারা আরও জানান, বুধবার বিকেলের দিকে ভারতের ভেতরের কিছু উশৃঙ্খল যুবক হঠাৎ করেই বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এর জবাবে বাংলাদেশের সীমানায় থাকা সাধারণ মানুষও নিজেদের সুরক্ষায় পালটা ঢিল ছুড়তে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশিদের সম্মিলিত ও জোরালো প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় যুবকরা রণেভঙ্গ দিয়ে সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত উত্তেজনা ও উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে জানমালের নিরাপত্তা ও যেকোনো ধরনের বড় সংঘর্ষ এড়াতে সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম না করার জন্য তিনি দুই দেশেরই প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি বিনীত ও কঠোর অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফলভাবে নস্যাৎ করতে বিজিবিকে সবসময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয় সীমান্তবর্তী সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন