সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় জলপথ ব্যবহার করে পুশইনের এক বড় ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোকবল পুশইন বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর নজরদারি, অতিরিক্ত টহল এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মুখে সেই সব অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত দেশের এই অতন্দ্র প্রহরীদের তীক্ষ্ণ চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন মানুষকেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীটি।
সংশ্লিষ্ট সীমান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, গত আট জুন থেকে শুরু করে দশ জুন ভোররাত পর্যন্ত ভারতের ৭৪ এবং ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপরতা শুরু করে। তারা প্রায় আঠারো থেকে বিশ জন সাধারণ নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্তসংলগ্ন ভারতের ভেতরের এলাকায় জড়ো করে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে দুর্গম নদীপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে তাদেরকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সাতক্ষীরার নীলডুমুরে অবস্থিত বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত জোয়ানদের কঠোর অবস্থান ও তাৎক্ষণিক সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের এই অনৈতিক ও বেআইনি প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।
সীমান্তবর্তী এই সংবেদনশীল এলাকায় পুশইন চিরতরে বন্ধ করতে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি বা বিওপিগুলোতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে রাতের আঁধারে চোরাকারবারি বা অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেজন্য মোটরসাইকেল এবং বিশেষ ধরনের অল টেরেন ভেহিকল বা পার্বত্য যান ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। পুরো সীমান্তজুড়ে মেগাফোন বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, পাশাপাশি বাঁশি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের সতর্কতামূলক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
যেহেতু সুন্দরবন উপকূলীয় এই সীমান্ত এলাকাটি মূলত নদীপ্রধান, তাই জলপথে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে উচ্চগতির বোট বা স্পিডবোটের সাহায্যে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করতে নানামুখী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই স্থানীয়রা বিজিবিকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। এর বাইরেও সীমান্তে যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য ব্যাটালিয়নের প্রধান দপ্তরে সার্বক্ষণিক দুই সেকশনের একটি বিশেষ কুইক রেসপন্স ফোর্স বা দ্রুত সাড়াদানকারী দলকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই পুরো অভিযানের বিষয়ে নীলডুমুরস্থ বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বাইরের কোনো বাহিনীকে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশের পবিত্র ভূখণ্ডে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইনের মতো যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা যেকোনো মূল্যে কঠোর হাতে দমন করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে রাতভর বিশেষ টহল ও নদীপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিনরাত সমান তালে নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং ও সতর্কতামূলক হুইসেল বাজিয়ে ওপাড়ের বিএসএফকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, বিজিবি দেশের সীমানা পাহারা দিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের মানচিত্র ও সীমান্ত সুরক্ষার মহান দায়িত্বে বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য সর্বদা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের যেকোনো অনুপ্রবেশ রুখে দিতে তারা প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: বিজিবি মিডিয়া উইং।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় জলপথ ব্যবহার করে পুশইনের এক বড় ধরনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের পক্ষ থেকে একাধিকবার বাংলাদেশে অবৈধভাবে লোকবল পুশইন বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর নজরদারি, অতিরিক্ত টহল এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মুখে সেই সব অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত দেশের এই অতন্দ্র প্রহরীদের তীক্ষ্ণ চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন মানুষকেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীটি।
সংশ্লিষ্ট সীমান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, গত আট জুন থেকে শুরু করে দশ জুন ভোররাত পর্যন্ত ভারতের ৭৪ এবং ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্টে তৎপরতা শুরু করে। তারা প্রায় আঠারো থেকে বিশ জন সাধারণ নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্তসংলগ্ন ভারতের ভেতরের এলাকায় জড়ো করে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে দুর্গম নদীপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ব্যবহার করে তাদেরকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সাতক্ষীরার নীলডুমুরে অবস্থিত বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত জোয়ানদের কঠোর অবস্থান ও তাৎক্ষণিক সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের এই অনৈতিক ও বেআইনি প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।
সীমান্তবর্তী এই সংবেদনশীল এলাকায় পুশইন চিরতরে বন্ধ করতে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি বা বিওপিগুলোতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে রাতের আঁধারে চোরাকারবারি বা অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, সেজন্য মোটরসাইকেল এবং বিশেষ ধরনের অল টেরেন ভেহিকল বা পার্বত্য যান ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দ্বিগুণ জোরদার করা হয়েছে। পুরো সীমান্তজুড়ে মেগাফোন বা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে, পাশাপাশি বাঁশি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের সতর্কতামূলক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
যেহেতু সুন্দরবন উপকূলীয় এই সীমান্ত এলাকাটি মূলত নদীপ্রধান, তাই জলপথে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে উচ্চগতির বোট বা স্পিডবোটের সাহায্যে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করতে নানামুখী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই স্থানীয়রা বিজিবিকে দ্রুত তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। এর বাইরেও সীমান্তে যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য ব্যাটালিয়নের প্রধান দপ্তরে সার্বক্ষণিক দুই সেকশনের একটি বিশেষ কুইক রেসপন্স ফোর্স বা দ্রুত সাড়াদানকারী দলকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই পুরো অভিযানের বিষয়ে নীলডুমুরস্থ বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা বাইরের কোনো বাহিনীকে অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশের পবিত্র ভূখণ্ডে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইনের মতো যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা যেকোনো মূল্যে কঠোর হাতে দমন করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে রাতভর বিশেষ টহল ও নদীপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দিনরাত সমান তালে নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং ও সতর্কতামূলক হুইসেল বাজিয়ে ওপাড়ের বিএসএফকেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, বিজিবি দেশের সীমানা পাহারা দিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের মানচিত্র ও সীমান্ত সুরক্ষার মহান দায়িত্বে বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য সর্বদা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের যেকোনো অনুপ্রবেশ রুখে দিতে তারা প্রস্তুত।
তথ্যসূত্র: বিজিবি মিডিয়া উইং।

আপনার মতামত লিখুন