দিকপাল

দুই কিংবদন্তির শেষ যুদ্ধের মঞ্চ হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ০২:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই কিংবদন্তির শেষ যুদ্ধের মঞ্চ হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ

ফুটবলের চিরসবুজ রূপকথার পাতায় সোনালী কালির ছোঁয়া যেন এখনো ফুরিয়ে যায়নি; বরং বর্তমান সময়টা রূপ নিয়েছে এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ে। বিশ্ব ফুটবলের দুই অবিসংবাদিত সম্রাট লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—যাদের নামের পাশে এবার যুক্ত হতে চলেছে নিজেদের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় কীর্তি। যথাক্রমে ৩৯ ও ৪১ বছর বয়সে এসেও তারা যখন সবুজ গালিচায় বল পায়ে নামেন, তখন ফুটবল বিশ্বের ঘড়ির কাঁটা যেন মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। বিশ্বমঞ্চের কোটি কোটি দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তির ষষ্ঠ উপস্থিতির সাক্ষী হতে। এটি কেবল ইতিহাসের পাতায় কোনো সাধারণ রেকর্ড বা পরিসংখ্যান নয়; বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে কোটি ভক্তের আবেগ, দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং এক সোনালী বিদায়লগ্নের সুর।


একবার কল্পনা করে দেখুন, ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চের জমকালো প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে মেসি তাঁর স্বভাবসুলভ জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিচ্ছেন, আর অন্যদিকে রোনালদো গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর চেনা খুনে মেজাজে। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনোই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি দেখা না মিললেও, এবারের মহাযজ্ঞে ফুটবল বিধাতা যেন এক রোমাঞ্চকর ও অবিশ্বাস্য সমীকরণ তৈরি করে রেখেছেন।


বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী এই দুই দেশের লড়াইয়ের হিসাব-নিকাশটি বেশ চমৎকার। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল—উভয় দলকেই যদি নকআউট পর্বে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে হয়, তবে প্রথমে তাদের নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম পর্ব শেষ করতে হবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। আর অন্যদিকে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।


প্রাথমিক এই পর্ব শেষ করার পর রাউন্ড অব থার্টি টু এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনের মতো অত্যন্ত কঠিন ও স্নায়ুচাপের বাধাগুলো যদি দুই দল সফলভাবে পেরিয়ে আসতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা মিলতে পারে মেসি বনাম রোনালদোর সেই বহু প্রতীক্ষিত মহারণ। তবে সমীকরণ এখানেই শেষ নয়; যদি কোনো কারণে দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে, তবুও শেষ ষোলোর মঞ্চেই তাদের মুখোমুখি হওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর যদি নাটকীয়ভাবে এক দল গ্রুপসেরা এবং অন্য দল রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখে, তবে সব বাধা টপকে যদি তারা এগিয়ে যেতে পারে, তবে এই দুই ফুটবল সম্রাটের দেখা হতে পারে বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে। যদি তেমন কিছু ঘটে, তবে সেখানে সোনার ট্রফির চেয়েও বড় হয়ে উঠবে দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের এক অমর আখ্যান।


বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে মেসি ইতিমধ্যেই ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৩টি গোল করার মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য ও প্রায় অনতিক্রম্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে রোনালদো ২২টি ম্যাচ খেলে ৮টি গোল করে এবারের আসরে নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র অপেক্ষায় আছেন। মেসি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার এবং মাঠে সবচেয়ে বেশি মিনিট কাটানোর বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। সেই সাথে এবার তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে গোল করানোর ক্ষেত্রেও নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করার।


আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রেকর্ড ১৪৩টি গোল এবং ২২৬টি ম্যাচ খেলা রোনালদোও নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘ পথচলায় এই দুই তারকা একে অপরের বিরুদ্ধে ৩৫ বার লড়াইয়ে নেমেছেন, যার মধ্যে মেসি ১৬ বার এবং রোনালদো ১০ বার বিজয়ের হাসি হেসেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের জার্সিতে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের আমেজ এবং উত্তেজনা যে একেবারেই অন্যরকম হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


ক্রীড়ামোদী বিশ্ববাসী কি তবে প্রস্তুত হতে চলেছে এই অবিশ্বাস্য মহাকাব্যের সাক্ষী হতে? ড্রেসিংরুম থেকে খেলোয়াড়দের টানেল পেরিয়ে মাঠে প্রবেশের মাহেন্দ্রক্ষণ এবং গ্যালারির গর্জন এখন একদম দোরগোড়ায়। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই বিশাল বিশ্বযজ্ঞ আমাদের উপহার দিতে পারে ফুটবলের ইতিহাসের সেই কাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফুটবলের এই অমীমাংসিত শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত লড়াই দেখার সময় এখন সমাসন্ন।



আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


দুই কিংবদন্তির শেষ যুদ্ধের মঞ্চ হতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ফুটবলের চিরসবুজ রূপকথার পাতায় সোনালী কালির ছোঁয়া যেন এখনো ফুরিয়ে যায়নি; বরং বর্তমান সময়টা রূপ নিয়েছে এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ে। বিশ্ব ফুটবলের দুই অবিসংবাদিত সম্রাট লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—যাদের নামের পাশে এবার যুক্ত হতে চলেছে নিজেদের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় কীর্তি। যথাক্রমে ৩৯ ও ৪১ বছর বয়সে এসেও তারা যখন সবুজ গালিচায় বল পায়ে নামেন, তখন ফুটবল বিশ্বের ঘড়ির কাঁটা যেন মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়ায়। বিশ্বমঞ্চের কোটি কোটি দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তির ষষ্ঠ উপস্থিতির সাক্ষী হতে। এটি কেবল ইতিহাসের পাতায় কোনো সাধারণ রেকর্ড বা পরিসংখ্যান নয়; বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে কোটি ভক্তের আবেগ, দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতা এবং এক সোনালী বিদায়লগ্নের সুর।


একবার কল্পনা করে দেখুন, ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চের জমকালো প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সেখানে মেসি তাঁর স্বভাবসুলভ জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে খণ্ড-বিখণ্ড করে দিচ্ছেন, আর অন্যদিকে রোনালদো গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর চেনা খুনে মেজাজে। বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনোই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি দেখা না মিললেও, এবারের মহাযজ্ঞে ফুটবল বিধাতা যেন এক রোমাঞ্চকর ও অবিশ্বাস্য সমীকরণ তৈরি করে রেখেছেন।


বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী এই দুই দেশের লড়াইয়ের হিসাব-নিকাশটি বেশ চমৎকার। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল—উভয় দলকেই যদি নকআউট পর্বে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে হয়, তবে প্রথমে তাদের নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম পর্ব শেষ করতে হবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। আর অন্যদিকে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া।


প্রাথমিক এই পর্ব শেষ করার পর রাউন্ড অব থার্টি টু এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনের মতো অত্যন্ত কঠিন ও স্নায়ুচাপের বাধাগুলো যদি দুই দল সফলভাবে পেরিয়ে আসতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনাল বা কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা মিলতে পারে মেসি বনাম রোনালদোর সেই বহু প্রতীক্ষিত মহারণ। তবে সমীকরণ এখানেই শেষ নয়; যদি কোনো কারণে দুই দলই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে, তবুও শেষ ষোলোর মঞ্চেই তাদের মুখোমুখি হওয়ার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। আর যদি নাটকীয়ভাবে এক দল গ্রুপসেরা এবং অন্য দল রানার্স-আপ হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখে, তবে সব বাধা টপকে যদি তারা এগিয়ে যেতে পারে, তবে এই দুই ফুটবল সম্রাটের দেখা হতে পারে বিশ্বকাপের স্বপ্নের ফাইনালে। যদি তেমন কিছু ঘটে, তবে সেখানে সোনার ট্রফির চেয়েও বড় হয়ে উঠবে দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের এক অমর আখ্যান।


বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে মেসি ইতিমধ্যেই ২৬টি ম্যাচ খেলে ১৩টি গোল করার মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য ও প্রায় অনতিক্রম্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে রোনালদো ২২টি ম্যাচ খেলে ৮টি গোল করে এবারের আসরে নিজেকে আরও ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র অপেক্ষায় আছেন। মেসি ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার এবং মাঠে সবচেয়ে বেশি মিনিট কাটানোর বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। সেই সাথে এবার তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে গোল করানোর ক্ষেত্রেও নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করার।


আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে রেকর্ড ১৪৩টি গোল এবং ২২৬টি ম্যাচ খেলা রোনালদোও নিজেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত। ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘ পথচলায় এই দুই তারকা একে অপরের বিরুদ্ধে ৩৫ বার লড়াইয়ে নেমেছেন, যার মধ্যে মেসি ১৬ বার এবং রোনালদো ১০ বার বিজয়ের হাসি হেসেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের জার্সিতে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের আমেজ এবং উত্তেজনা যে একেবারেই অন্যরকম হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


ক্রীড়ামোদী বিশ্ববাসী কি তবে প্রস্তুত হতে চলেছে এই অবিশ্বাস্য মহাকাব্যের সাক্ষী হতে? ড্রেসিংরুম থেকে খেলোয়াড়দের টানেল পেরিয়ে মাঠে প্রবেশের মাহেন্দ্রক্ষণ এবং গ্যালারির গর্জন এখন একদম দোরগোড়ায়। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের এই বিশাল বিশ্বযজ্ঞ আমাদের উপহার দিতে পারে ফুটবলের ইতিহাসের সেই কাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফুটবলের এই অমীমাংসিত শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত লড়াই দেখার সময় এখন সমাসন্ন।




দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল