দিকপাল

হিমাগার বিকল হয়ে পচে গেল ২০ মরদেহ সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | ১০:৫৩ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

হিমাগার বিকল হয়ে পচে গেল ২০ মরদেহ সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল

দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালগুলোর অন্যতম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজারো রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মৌলিক উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কটন, গজ, ব্যান্ডেজ, সুতা ও অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রী রোগী ও স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সংকটের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে মর্গে। মর্গের একমাত্র হিমাগার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় সেখানে সংরক্ষিত অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হিমাগারটি অকেজো থাকায় কয়েকটি মরদেহে পচন ধরে এবং মর্গজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাশকাটা কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি মরদেহ দাফনের জন্য একটি দাতব্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমাগারটি মেরামত করে সচল করে।

দেশের বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা, সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে আহত রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে কয়েকশ রোগী গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হন। হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ হলেও প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অর্থোপেডিক ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ড্রেসিংয়ের গজ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ব্যান্ডেজ এবং কিছু জীবাণুনাশক উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এসব সামগ্রী রোগীদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, জরুরি ইনজেকশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবায় কোনো বড় ধরনের সংকট নেই।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, প্রতিবছর অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারি বরাদ্দ সীমিত হয়ে আসায় কিছু সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরবরাহ হাসপাতালে পৌঁছাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


হিমাগার বিকল হয়ে পচে গেল ২০ মরদেহ সংকটে ঢাকা মেডিক্যাল

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের বৃহত্তম সরকারি হাসপাতালগুলোর অন্যতম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বর্তমানে চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে ভুগছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হাজারো রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু মৌলিক উপকরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই কটন, গজ, ব্যান্ডেজ, সুতা ও অন্যান্য সাধারণ চিকিৎসাসামগ্রী রোগী ও স্বজনদের বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সংকটের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে মর্গে। মর্গের একমাত্র হিমাগার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় সেখানে সংরক্ষিত অজ্ঞাতনামা নবজাতকসহ প্রায় ২০টি মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হিমাগারটি অকেজো থাকায় কয়েকটি মরদেহে পচন ধরে এবং মর্গজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাশকাটা কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি মরদেহ দাফনের জন্য একটি দাতব্য সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমাগারটি মেরামত করে সচল করে।

দেশের বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা, সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে আহত রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে কয়েকশ রোগী গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হন। হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ হলেও প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অর্থোপেডিক ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ড্রেসিংয়ের গজ, ব্যান্ডেজ, প্লাস্টার ব্যান্ডেজ এবং কিছু জীবাণুনাশক উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে এসব সামগ্রী রোগীদের বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, জরুরি ইনজেকশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবায় কোনো বড় ধরনের সংকট নেই।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, প্রতিবছর অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারি বরাদ্দ সীমিত হয়ে আসায় কিছু সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দেয়। তবে এটি সাময়িক পরিস্থিতি। হাসপাতাল প্রশাসন জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সরবরাহ হাসপাতালে পৌঁছাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশা করছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল