দিকপাল

গুজব দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ | ১২:০৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গুজব দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর মারাত্মক বিস্তার রোধে দেশের বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক সব প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে যেকোনো ধরনের আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার কঠোর বিধানও এই নতুন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের আনা একটি বিশেষ নোটিসের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার কথা দেশবাসীকে জানান।

জাতীয় সংসদে দেওয়া নোটিসে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা ভুয়া পরিচয়পত্র বা আইডি, সুসংগঠিত বট নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইনে নানামুখী হয়রানি এবং দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে চলমান নোংরা অপপ্রচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে আসল পরিচয় লুকিয়ে অসংখ্য বেনামী অ্যাকাউন্ট ও পেজ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি সুসংগঠিত চক্র বট নেটওয়ার্কের অপব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে জনমতকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভুয়া ছবি, অডিও কিংবা ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি খোদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিরাট হুমকি।

সংসদ সদস্যের এই উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারের শীর্ষ প্রধান, তার সহধর্মিণী ও কন্যাসন্তানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যেসব আপত্তিকর কনটেন্ট প্রতিনিয়ত সামাজিক মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে, তা আসলেই প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি নাÑসেটি এখন নতুন করে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সময় সংসদকে স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশের সামগ্রিক সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্যের এই বিপজ্জনক বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা অপমানকর বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রচার রুখতে ইতিমধ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনটিকে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ নামে অবহিত করা হবে এবং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হবে।

পরবর্তীতে হেলেন জেরিন খান তার একটি সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, মেটাসহ অন্যান্য প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও কার্যকর ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এখনো এমন কোনো শক্তিশালী বা বাধ্যবাধকতামূলক বিধান নেই, যার মাধ্যমে ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে নিতে আইনিভাবে বাধ্য করা যায়। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন যে, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তারা নিজেদের আইনি সুরক্ষার পরিধি বাড়িয়ে এমন সুনির্দিষ্ট বিধান তৈরি করেছে, যার ফলে মেটা কর্তৃপক্ষ যেকোনো ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনিভাবে বাধ্য থাকে। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিটিআরসি কিংবা সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে এই ধরনের কোনো কঠোর সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই। এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে এখন থেকে দেশের প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং বিটিআরসিসহ সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও এই ধরনের বিতর্কিত কনটেন্ট সরাসরি অপসারণ, সাময়িকভাবে বন্ধ বা ব্লক করার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

ডিজিটাল মাধ্যমের অন্যান্য অপরাধের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জুয়া বা বাজি খেলার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে আমাদের এখনো ১৮৬৭ সালের অত্যন্ত প্রাচীন ও ব্রিটিশ আমলের একটি আইন দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান যুগের ডিজিটাল বাস্তবতায় অনলাইন ও অফলাইনের নানামুখী জুয়া এবং বিভিন্ন আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত হওয়া নতুন মাত্রার অপরাধগুলো রুখতে সম্পূর্ণ নতুন এবং যুগোপযোগী একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে, নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনটি তৈরির কাজ বর্তমানে একবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে যাতে জাতীয় সংসদের চলমান এই অধিবেশনেই আইনটি বিল আকারে উত্থাপন করে পাস করিয়ে নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে দেশের সাইবার জগৎ ও সামাজিক পরিবেশকে আরও অনেক বেশি নিরাপদ ও কলঙ্কমুক্ত করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


গুজব দমনে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর গুজব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য, মানহানিকর কনটেন্ট এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও অডিওর মারাত্মক বিস্তার রোধে দেশের বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইন বড় ধরনের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাসহ আন্তর্জাতিক সব প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে যেকোনো ধরনের আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার কঠোর বিধানও এই নতুন সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের আনা একটি বিশেষ নোটিসের আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার কথা দেশবাসীকে জানান।

জাতীয় সংসদে দেওয়া নোটিসে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা ভুয়া পরিচয়পত্র বা আইডি, সুসংগঠিত বট নেটওয়ার্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভুয়া কনটেন্ট, নারী ও শিশুদের অনলাইনে নানামুখী হয়রানি এবং দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে চলমান নোংরা অপপ্রচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে আসল পরিচয় লুকিয়ে অসংখ্য বেনামী অ্যাকাউন্ট ও পেজ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। একটি সুসংগঠিত চক্র বট নেটওয়ার্কের অপব্যবহার করে কৃত্রিম উপায়ে জনমতকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর চেয়েও বিপজ্জনক বিষয় হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভুয়া ছবি, অডিও কিংবা ভিডিও ক্লিপ তৈরি করে বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি খোদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বিরাট হুমকি।

সংসদ সদস্যের এই উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারের শীর্ষ প্রধান, তার সহধর্মিণী ও কন্যাসন্তানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যেসব আপত্তিকর কনটেন্ট প্রতিনিয়ত সামাজিক মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে, তা আসলেই প্রকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি নাÑসেটি এখন নতুন করে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সময় সংসদকে স্পষ্টভাবে জানান যে, দেশের সামগ্রিক সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্যের এই বিপজ্জনক বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা অপমানকর বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রচার রুখতে ইতিমধ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনটিকে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬’ নামে অবহিত করা হবে এবং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হবে।

পরবর্তীতে হেলেন জেরিন খান তার একটি সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, মেটাসহ অন্যান্য প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও কার্যকর ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এখনো এমন কোনো শক্তিশালী বা বাধ্যবাধকতামূলক বিধান নেই, যার মাধ্যমে ফেসবুক বা মেটা কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে নিতে আইনিভাবে বাধ্য করা যায়। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ টেনে বলেন যে, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তারা নিজেদের আইনি সুরক্ষার পরিধি বাড়িয়ে এমন সুনির্দিষ্ট বিধান তৈরি করেছে, যার ফলে মেটা কর্তৃপক্ষ যেকোনো ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনিভাবে বাধ্য থাকে। কিন্তু আমাদের বর্তমান বিটিআরসি কিংবা সংশ্লিষ্ট সাইবার আইনে এই ধরনের কোনো কঠোর সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই। এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে এখন থেকে দেশের প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা সংস্থা এবং বিটিআরসিসহ সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাকেও এই ধরনের বিতর্কিত কনটেন্ট সরাসরি অপসারণ, সাময়িকভাবে বন্ধ বা ব্লক করার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

ডিজিটাল মাধ্যমের অন্যান্য অপরাধের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে জুয়া বা বাজি খেলার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে আমাদের এখনো ১৮৬৭ সালের অত্যন্ত প্রাচীন ও ব্রিটিশ আমলের একটি আইন দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান যুগের ডিজিটাল বাস্তবতায় অনলাইন ও অফলাইনের নানামুখী জুয়া এবং বিভিন্ন আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত হওয়া নতুন মাত্রার অপরাধগুলো রুখতে সম্পূর্ণ নতুন এবং যুগোপযোগী একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে, নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনটি তৈরির কাজ বর্তমানে একবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে যাতে জাতীয় সংসদের চলমান এই অধিবেশনেই আইনটি বিল আকারে উত্থাপন করে পাস করিয়ে নেওয়া যায়। এর মাধ্যমে দেশের সাইবার জগৎ ও সামাজিক পরিবেশকে আরও অনেক বেশি নিরাপদ ও কলঙ্কমুক্ত করা সম্ভব হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল