সামগ্রিক দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক যুগান্তকারী লক্ষ্য সামনে রেখে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল আবর্তনযোগ্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এরপরই নীতিমালাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তহবিল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক কৃষক এবং কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত নীতিমালায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, দেশের মূল চালিকাশক্তি কৃষি খাতের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই তহবিলের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন সাধন করাও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া পরিবেশগত বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব আমাদের কৃষিখাতে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষির আধুনিকায়ন ও সুরক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই বিশেষ আর্থিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ ও কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহজ শর্তে অর্থায়নের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এই বিশেষ তহবিলের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক তহবিলের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি একটি আবর্তনযোগ্য তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে, যার অর্থ হলো ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় হওয়া অর্থ পুনরায় নতুন করে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সংস্থান করা এই বিশেষ স্কিমের প্রাথমিক মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কৃষি ঋণ বিভাগ সরাসরি এই বিশাল তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বাৎসরিক ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ব্যাংকগুলো সেই বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি কৃষক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে সাশ্রয়ী সুদে বিতরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই বিশেষ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ কৃষি ও পল্লী ঋণ বা বিনিয়োগ বিতরণ করবে, তা তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের বাৎসরিক নিয়মিত কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যামাত্রার একটি অংশ হিসেবেই গণ্য করা হবে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্যও একটি বড় ধরনের বাড়তি সুবিধা ও উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬
সামগ্রিক দেশের খাদ্য নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে কৃষি উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক যুগান্তকারী লক্ষ্য সামনে রেখে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল আবর্তনযোগ্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এরপরই নীতিমালাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তহবিল মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক কৃষক এবং কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত নীতিমালায় অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, দেশের মূল চালিকাশক্তি কৃষি খাতের সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই তহবিলের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক অবস্থার টেকসই উন্নয়ন সাধন করাও এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে দেখা দেওয়া পরিবেশগত বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব আমাদের কৃষিখাতে প্রতিনিয়ত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই ধরনের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষির আধুনিকায়ন ও সুরক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই বিশেষ আর্থিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ ও কৃষি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহজ শর্তে অর্থায়নের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
নতুন এই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, এই বিশেষ তহবিলের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৃষি ও পল্লী খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক তহবিলের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি একটি আবর্তনযোগ্য তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে, যার অর্থ হলো ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় হওয়া অর্থ পুনরায় নতুন করে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে সংস্থান করা এই বিশেষ স্কিমের প্রাথমিক মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কৃষি ঋণ বিভাগ সরাসরি এই বিশাল তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বাৎসরিক ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং ব্যাংকগুলো সেই বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি কৃষক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে সাশ্রয়ী সুদে বিতরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই বিশেষ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ কৃষি ও পল্লী ঋণ বা বিনিয়োগ বিতরণ করবে, তা তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের বাৎসরিক নিয়মিত কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যামাত্রার একটি অংশ হিসেবেই গণ্য করা হবে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্যও একটি বড় ধরনের বাড়তি সুবিধা ও উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন