আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর বিখ্যাত সোলজার ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা। হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ে জার্মানদের হয়ে জয়সূচক গোল দুটি করেন ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ ও উইঙ্গার লেরয় সানে। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি আসে অ্যান্তোনি রবিনসনের পা থেকে। এই জয়ের ফলে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে ইউরোপের এই পরাশক্তি দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে জার্মানি। ফলে খেলা শুরুর পর গ্যালারির দর্শকরা ঠিকঠাক আসন গ্রহণ করার আগেই লিড পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র দুই মিনিট, তখন জশুয়া কিমিখের চমৎকারভাবে নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সের ভেতরে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান কাই হাভার্টজ। এত দ্রুত গোল হজম করার পর মাঠের ভেতরে ও গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিক সমর্থকরা কিছুটা থমকে যান, আর মার্কিন রক্ষণভাগও বেশ চাপে পড়ে যায়। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মার্কিন শিবিরে আক্রমণ চালান হাভার্টজ এবং দ্বিতীয়বারের মতো বল জালে পাঠান। তবে রেফারি ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখেন যে, আক্রমণের সূত্রপাতের সময় বলটি সাইডলাইন অতিক্রম করে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। ফলে নিয়ম অনুযায়ী রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে নিয়ে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে ধীরে ধীরে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক পাল্টা আক্রমণে তারা জার্মান ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে। অবশেষে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে তারা কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায়। একটি কর্নার কিক থেকে জার্মান ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করলেও তা পুরোপুরি বিপদযুক্ত করতে পারেননি। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক স্থানে বলটি পেয়ে যান মার্কিন ফুটবলার অ্যান্তোনি রবিনসন। তিনি আর কোনো সময় নষ্ট না করে প্রায় পঁচিশ গজ দূর থেকে এক অনবদ্য ও দর্শনীয় ভলি শট নেন। বলটি বাতাসে ভাসতে ভাসতে চোখের পলকে জার্মান গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জালের এক কোণে আশ্রয় নেয়। এই দুর্দান্ত গোলের সুবাদে প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে জার্মানি আরও বেশি মরিয়া হয়ে ওঠে। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ রচনা করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই বিজয়ী গোল। মধ্যমাঠ থেকে শুরু হওয়া দারুণ এক দলীয় আক্রমণভাগের সমন্বয়ে বল চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ডি-বক্সে। সেখানে প্রথম গোলের নায়ক কাই হাভার্টজ অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সতীর্থ লেরয় সানের দিকে বাড়িয়ে দেন। বল পেয়েই নিখুঁত ও জোরালো শটে মার্কিন গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন সানে। শেষ পর্যন্ত এই গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের শেষ দিকে তারা আক্রমণভাগের জোর বাড়ায়। বিশেষ করে জো স্ক্যালি ও ব্রেন্ডেন অ্যারনসনের দুটি জোরালো শট নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু জার্মান গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গোলরক্ষক অলিভার বাউমান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন। তার চমৎকার দুটি সেভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে টানা নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি জয়ের ধারা বজায় রাখল জার্মানি। এই নয়টি ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে গোল উৎসব করে মোট ২৯টি গোল করেছে, যার বিপরীতে নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে মাত্র ৬ বার। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে কতটা সুসংহত ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে নাগেলসমানের এই দলটি। অপরদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আশানুরূপ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না। নিজেদের খেলা শেষ ১০টি প্রীতি ম্যাচের মধ্যে তারা ৫টিতে জয় পেলেও, ৪টিতে হারের মুখ দেখেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে এই পারফরম্যান্স মার্কিন কোচের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জার্মানি তাদের মিশন শুরু করবে গ্রুপ 'ই' এর ম্যাচ দিয়ে, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ কুরাসাও। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে খেলতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য থাকবে বিগত দুই দশকের খরা কাটিয়ে ২০০২ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি জয় তুলে নেওয়া।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর বিখ্যাত সোলজার ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করেছে জুলিয়ান নাগেলসমানের শিষ্যরা। হাইভোল্টেজ এই লড়াইয়ে জার্মানদের হয়ে জয়সূচক গোল দুটি করেন ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ ও উইঙ্গার লেরয় সানে। অন্যদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি আসে অ্যান্তোনি রবিনসনের পা থেকে। এই জয়ের ফলে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বমঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে ইউরোপের এই পরাশক্তি দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে জার্মানি। ফলে খেলা শুরুর পর গ্যালারির দর্শকরা ঠিকঠাক আসন গ্রহণ করার আগেই লিড পেয়ে যায় তারা। ম্যাচের বয়স যখন মাত্র দুই মিনিট, তখন জশুয়া কিমিখের চমৎকারভাবে নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সের ভেতরে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান কাই হাভার্টজ। এত দ্রুত গোল হজম করার পর মাঠের ভেতরে ও গ্যালারিতে থাকা স্বাগতিক সমর্থকরা কিছুটা থমকে যান, আর মার্কিন রক্ষণভাগও বেশ চাপে পড়ে যায়। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মার্কিন শিবিরে আক্রমণ চালান হাভার্টজ এবং দ্বিতীয়বারের মতো বল জালে পাঠান। তবে রেফারি ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখেন যে, আক্রমণের সূত্রপাতের সময় বলটি সাইডলাইন অতিক্রম করে মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। ফলে নিয়ম অনুযায়ী রেফারি গোলটি বাতিল করে দেন, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে।
গোল বাতিলের ধাক্কা সামলে নিয়ে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এসে ধীরে ধীরে নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একের পর এক পাল্টা আক্রমণে তারা জার্মান ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে। অবশেষে বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে তারা কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায়। একটি কর্নার কিক থেকে জার্মান ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করলেও তা পুরোপুরি বিপদযুক্ত করতে পারেননি। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে সুবিধাজনক স্থানে বলটি পেয়ে যান মার্কিন ফুটবলার অ্যান্তোনি রবিনসন। তিনি আর কোনো সময় নষ্ট না করে প্রায় পঁচিশ গজ দূর থেকে এক অনবদ্য ও দর্শনীয় ভলি শট নেন। বলটি বাতাসে ভাসতে ভাসতে চোখের পলকে জার্মান গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জালের এক কোণে আশ্রয় নেয়। এই দুর্দান্ত গোলের সুবাদে প্রথমার্ধের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হয়।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতি কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে জার্মানি আরও বেশি মরিয়া হয়ে ওঠে। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে তারা একের পর এক আক্রমণ রচনা করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই বিজয়ী গোল। মধ্যমাঠ থেকে শুরু হওয়া দারুণ এক দলীয় আক্রমণভাগের সমন্বয়ে বল চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রের ডি-বক্সে। সেখানে প্রথম গোলের নায়ক কাই হাভার্টজ অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সতীর্থ লেরয় সানের দিকে বাড়িয়ে দেন। বল পেয়েই নিখুঁত ও জোরালো শটে মার্কিন গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন সানে। শেষ পর্যন্ত এই গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের শেষ দিকে তারা আক্রমণভাগের জোর বাড়ায়। বিশেষ করে জো স্ক্যালি ও ব্রেন্ডেন অ্যারনসনের দুটি জোরালো শট নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু জার্মান গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গোলরক্ষক অলিভার বাউমান অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন। তার চমৎকার দুটি সেভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
এই জয়ের ফলে টানা নয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি জয়ের ধারা বজায় রাখল জার্মানি। এই নয়টি ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের জালে গোল উৎসব করে মোট ২৯টি গোল করেছে, যার বিপরীতে নিজেদের জালে বল জড়িয়েছে মাত্র ৬ বার। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে কতটা সুসংহত ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে নাগেলসমানের এই দলটি। অপরদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আশানুরূপ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না। নিজেদের খেলা শেষ ১০টি প্রীতি ম্যাচের মধ্যে তারা ৫টিতে জয় পেলেও, ৪টিতে হারের মুখ দেখেছে এবং একটি ম্যাচ ড্র করেছে। বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে এই পারফরম্যান্স মার্কিন কোচের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ হতে পারে।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে জার্মানি তাদের মিশন শুরু করবে গ্রুপ 'ই' এর ম্যাচ দিয়ে, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ কুরাসাও। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে খেলতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য থাকবে বিগত দুই দশকের খরা কাটিয়ে ২০০২ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি জয় তুলে নেওয়া।

আপনার মতামত লিখুন