দিকপাল

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল-স্বপ্না


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ | ০৯:১৬ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ রবিবার (৭ জুন) এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আদালত। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ দুই আসামির উপস্থিতিতে এই রায় প্রকাশ করা হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় আজ সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং তার কিছু সময় আগে মামলার দ্বিতীয় আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের এজলাসে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আইনি ইতিহাসে এত দ্রুততম সময়ে কোনো হত্যা ও নির্যাতনের মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ার ঘটনা মেলা ভার। ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৯ মে। ঘটনার পর ২০ মে মধ্যরাতে পল্লবী থানায় নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সেই চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনও অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়ে গেলেও এই স্পর্শকাতর মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারকের নির্ধারিত ছুটি বাতিল করা হয় এবং দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেও দেখা গেছে এক অভাবনীয় তৎপরতা। গত ১ জুন দুই আসামির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সাথে মামলার বাদীসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। ২ জুন শুনানির দিনে মামলার বাদী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাত্র এক দিনেই এই বিপুল সংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে এক নাটকীয় মোড় আসে, যখন প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের নির্মম অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে নেন এবং আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রক্রিয়া শেষে গত ৪ জুন মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ নিজেদের পক্ষে জোরালো যুক্তিতর্ক পেশ করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক আজকের দিনটিকে রায়ের জন্য চূড়ান্ত করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নৃশংসতার শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে নানা ছলাকলায় ফুসলিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেলেও রামিসা ঘরে না ফেরায় এবং স্কুলে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান তারা। সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা-বাবা এবং ভবনের অন্যান্য প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন।

সেখানে ঢুকেই তারা এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল শিশু রামিসার রক্তাক্ত ও মস্তকবিহীন দেহ, আর ঘরের কোণে রাখা একটি বড় বালতির ভেতরে রাখা ছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি। সেই লোমহর্ষক পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্না আক্তার। উপস্থিত লোকজন তাকে চেপে ধরলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, তার স্বামী মো. সোহেল রানা নিজের কুৎসিত ও পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে।

এই চরম অমানবিক ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মূল ঘাতক সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যার ধারাবাহিকতায় আজ এই দৃষ্টান্তমূলক মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে যাচ্ছে। পুরো দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির আদেশ দেখার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ রবিবার (৭ জুন) এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন আদালত। ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ দুই আসামির উপস্থিতিতে এই রায় প্রকাশ করা হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় আজ সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সকাল ৮টা ৪৯ মিনিটে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এবং তার কিছু সময় আগে মামলার দ্বিতীয় আসামি ও সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। বেলা ১১টায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের এজলাসে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

আইনি ইতিহাসে এত দ্রুততম সময়ে কোনো হত্যা ও নির্যাতনের মামলার বিচারকাজ শেষ হওয়ার ঘটনা মেলা ভার। ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ১৯ মে। ঘটনার পর ২০ মে মধ্যরাতে পল্লবী থানায় নিহতের পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সেই চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনও অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়ে গেলেও এই স্পর্শকাতর মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারকের নির্ধারিত ছুটি বাতিল করা হয় এবং দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমেও দেখা গেছে এক অভাবনীয় তৎপরতা। গত ১ জুন দুই আসামির উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সাথে মামলার বাদীসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। ২ জুন শুনানির দিনে মামলার বাদী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। আদালত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাত্র এক দিনেই এই বিপুল সংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে এক নাটকীয় মোড় আসে, যখন প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের নির্মম অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে নেন এবং আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তার স্ত্রী ও মামলার অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রক্রিয়া শেষে গত ৪ জুন মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু এবং রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ নিজেদের পক্ষে জোরালো যুক্তিতর্ক পেশ করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক আজকের দিনটিকে রায়ের জন্য চূড়ান্ত করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, নৃশংসতার শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে নানা ছলাকলায় ফুসলিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি কক্ষে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেলেও রামিসা ঘরে না ফেরায় এবং স্কুলে যাওয়ার সময় পার হয়ে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতো জোড়া দেখতে পান তারা। সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা-বাবা এবং ভবনের অন্যান্য প্রতিবেশীরা মিলে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন।

সেখানে ঢুকেই তারা এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। শয়নকক্ষের মেঝেতে পড়ে ছিল শিশু রামিসার রক্তাক্ত ও মস্তকবিহীন দেহ, আর ঘরের কোণে রাখা একটি বড় বালতির ভেতরে রাখা ছিল তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি। সেই লোমহর্ষক পরিস্থিতিতে ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে ছিলেন স্বপ্না আক্তার। উপস্থিত লোকজন তাকে চেপে ধরলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, তার স্বামী মো. সোহেল রানা নিজের কুৎসিত ও পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে।

এই চরম অমানবিক ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মূল ঘাতক সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যার ধারাবাহিকতায় আজ এই দৃষ্টান্তমূলক মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে যাচ্ছে। পুরো দেশবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই জঘন্য অপরাধের উপযুক্ত শাস্তির আদেশ দেখার জন্য।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল