দিকপাল

এসএসসি-এইচএসসিতে বড় পরিবর্তনের আভাস


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ | ১০:৪৬ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

এসএসসি-এইচএসসিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

দেশের দুই বৃহত্তম পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসির বর্তমান কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার সময়কাল ও বিষয় সংখ্যা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস এবং শিক্ষাবর্ষে স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে এনসিটিবি। প্রস্তাবে পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সীমা, অতিরিক্ত বিষয়ভিত্তিক চাপ এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্ট বিঘ্ন কমানোর বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেখানে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে পরীক্ষা পরিচালনা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে যুক্ত থাকতে হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফল প্রকাশ, ভর্তি কার্যক্রম এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতেও বিলম্ব দেখা দেয়, যা সেশনজটের ঝুঁকি বাড়ায়।

এনসিটিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালায় এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় কাঠামো, পরীক্ষার ব্যাপ্তি কমানোর কৌশল, ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ এবং পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ন্যূনতম কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া যৌক্তিক, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কোন বিষয়গুলো একীভূত করা যায়, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস, প্রশ্নপত্র কাঠামোর পরিবর্তন এবং ব্যবহারিক মূল্যায়নের আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হবে।

প্রস্তাবিত কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ৯০ জন অংশীজন অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদরা থাকবেন।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেছেন, বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পাবলিক পরীক্ষার সময় ও বিষয়ভিত্তিক চাপ কমবে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং শিক্ষাবর্ষে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


এসএসসি-এইচএসসিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের দুই বৃহত্তম পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসির বর্তমান কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার সময়কাল ও বিষয় সংখ্যা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ হ্রাস এবং শিক্ষাবর্ষে স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে এনসিটিবি। প্রস্তাবে পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সীমা, অতিরিক্ত বিষয়ভিত্তিক চাপ এবং শিক্ষা কার্যক্রমে সৃষ্ট বিঘ্ন কমানোর বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেখানে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের ওপরও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে পরীক্ষা পরিচালনা ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে যুক্ত থাকতে হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফল প্রকাশ, ভর্তি কার্যক্রম এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অগ্রগতিতেও বিলম্ব দেখা দেয়, যা সেশনজটের ঝুঁকি বাড়ায়।

এনসিটিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালায় এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় কাঠামো, পরীক্ষার ব্যাপ্তি কমানোর কৌশল, ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের অনুপাত নির্ধারণ এবং পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ন্যূনতম কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া যৌক্তিক, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কোন বিষয়গুলো একীভূত করা যায়, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস, প্রশ্নপত্র কাঠামোর পরিবর্তন এবং ব্যবহারিক মূল্যায়নের আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হবে।

প্রস্তাবিত কর্মশালায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞসহ প্রায় ৯০ জন অংশীজন অংশ নেবেন। বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদরা থাকবেন।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেছেন, বিষয় ও কর্মদিবস কমানোর বিষয়ে একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে পাবলিক পরীক্ষার সময় ও বিষয়ভিত্তিক চাপ কমবে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তি বাড়বে এবং শিক্ষাবর্ষে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল