কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা সদরের প্রধান বাজারের কাপড়ের পট্টিসহ বিভিন্ন সারির অন্তত ১০৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যখন পুরো বাজার মাত্র জমজমাট হতে শুরু করেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হঠাৎ লাগা এই আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের চোখের সামনেই তাদের সারা জীবনের উপার্জনে গড়া দোকান ও মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাজারের কাপড় পট্টির ভেতরের একটি বন্ধ দোকান থেকে হঠাৎ করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুকনো কাপড় এবং কাঠের কাঠামোর কারণে আগুন তীব্র আকার ধারণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো কাপড়ের মার্কেট ও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তারা ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার দুটি এবং ফুলবাড়ী উপজেলার একটিসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনতার প্রায় দুই ঘণ্টার আপ্রাণ ও যৌথ চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের অন্তত ১০৫টি দোকানপাট পুড়ে সম্পূর্ণ কয়লায় পরিণত হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ। তিনি বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের জানান, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০৫টি দোকান পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত ও তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও ব্যবসায়ীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল ও সম্পদ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের ঈদ ও পরবর্তী মৌসুমের জন্য নতুন মালামাল তুলেছিলেন, যা এই আগুনে এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, এই আকস্মিক ও বড় ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়া মাত্রই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ধারণামতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। এই ঘটনার পর থেকে পুরো ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর শোক ও এক অনিশ্চিত হাহাকার বিরাজ করছে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা সদরের প্রধান বাজারের কাপড়ের পট্টিসহ বিভিন্ন সারির অন্তত ১০৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে যখন পুরো বাজার মাত্র জমজমাট হতে শুরু করেছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। হঠাৎ লাগা এই আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের চোখের সামনেই তাদের সারা জীবনের উপার্জনে গড়া দোকান ও মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাজারের কাপড় পট্টির ভেতরের একটি বন্ধ দোকান থেকে হঠাৎ করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুকনো কাপড় এবং কাঠের কাঠামোর কারণে আগুন তীব্র আকার ধারণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো কাপড়ের মার্কেট ও পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তারা ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার দুটি এবং ফুলবাড়ী উপজেলার একটিসহ ফায়ার সার্ভিসের মোট তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনতার প্রায় দুই ঘণ্টার আপ্রাণ ও যৌথ চেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের অন্তত ১০৫টি দোকানপাট পুড়ে সম্পূর্ণ কয়লায় পরিণত হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ। তিনি বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের জানান, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০৫টি দোকান পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের জন্য ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত ও তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও ব্যবসায়ীদের দাবির ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের মালামাল ও সম্পদ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের ঈদ ও পরবর্তী মৌসুমের জন্য নতুন মালামাল তুলেছিলেন, যা এই আগুনে এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, এই আকস্মিক ও বড় ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ সম্পন্ন হওয়া মাত্রই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন ও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ধারণামতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। এই ঘটনার পর থেকে পুরো ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর শোক ও এক অনিশ্চিত হাহাকার বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন