পবিত্র হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে এখন পর্যন্ত মোট ৭১টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৬৯৪ জন বাংলাদেশি হাজি। তবে হজের এই আনন্দ ও পবিত্র আবহাওয়ার মধ্যেই সৌদি আরবে ৪৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা তাদের পরিবার এবং সহযাত্রীদের মাঝে শোকের ছায়া ফেলেছে। মৃতদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে ৩৫ জন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় ১১ জন হজযাত্রী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই দুঃখজনক মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে হজ-পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম অত্যন্ত জোরালোভাবে চলছে এবং আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রকাশিত তথ্য বিবরণীর বিবরণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যেসব হাজি নিরাপদ দেহে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গিয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ২৬ হাজার ৩৬৬ জন। বিমান সংস্থাগুলোর পরিবহনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৮১ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৩৩১ জন এবং দেশটির অন্যতম বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। এই তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা ছাড়াও অন্যান্য বিশেষায়িত এয়ারলাইনসের নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে আরও ৬৮২ জন হজযাত্রী ইতিমধ্যেই সৌদি আরব ছেড়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বা পৌঁছেছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি কমিটির সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২৬শে মে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় সব মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা বা আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা বা প্রাক-হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছিল গত ১৮ই এপ্রিল এবং দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যাত্রা প্রক্রিয়ার শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায় ২১শে মে।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও পূর্ণ গতিতে চালু রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশনের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে অসুস্থ হাজিদের চিকিৎসা সুবিধার্থে ৫৬ হাজার ৩১২টি স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে হাজিদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার বা পথ নির্দেশনাসহ মোট ২৫ হাজার ৭১০টি বিভিন্ন ধরনের তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্য বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ২৬২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সাময়িকভাবে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানেও বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জন হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রতিনিধিরা স্থানীয় চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, প্রতিটি হজযাত্রীর নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশন, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাসমূহ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সমন্বিত ও সুশৃঙ্খলভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩০শে জুনের শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মধ্য দিয়েই চলতি বছরের হজ যাত্রীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের এই বিশাল ও মহতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
পবিত্র হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে এখন পর্যন্ত মোট ৭১টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৬৯৪ জন বাংলাদেশি হাজি। তবে হজের এই আনন্দ ও পবিত্র আবহাওয়ার মধ্যেই সৌদি আরবে ৪৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা তাদের পরিবার এবং সহযাত্রীদের মাঝে শোকের ছায়া ফেলেছে। মৃতদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, পবিত্র মক্কা নগরীতে ৩৫ জন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় ১১ জন হজযাত্রী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই দুঃখজনক মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে হজ-পরবর্তী ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা কার্যক্রম অত্যন্ত জোরালোভাবে চলছে এবং আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রকাশিত তথ্য বিবরণীর বিবরণ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত যেসব হাজি নিরাপদ দেহে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে গিয়েছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ২৬ হাজার ৩৬৬ জন। বিমান সংস্থাগুলোর পরিবহনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৮১ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদি এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৩৩১ জন এবং দেশটির অন্যতম বিমান সংস্থা ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়েছে। এই তিনটি প্রধান বিমান সংস্থা ছাড়াও অন্যান্য বিশেষায়িত এয়ারলাইনসের নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের মাধ্যমে আরও ৬৮২ জন হজযাত্রী ইতিমধ্যেই সৌদি আরব ছেড়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বা পৌঁছেছেন।
হজ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি কমিটির সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত ২৬শে মে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় সব মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা বা আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে প্রথম যাত্রা বা প্রাক-হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছিল গত ১৮ই এপ্রিল এবং দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যাত্রা প্রক্রিয়ার শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যায় ২১শে মে।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রমও পূর্ণ গতিতে চালু রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশনের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে অসুস্থ হাজিদের চিকিৎসা সুবিধার্থে ৫৬ হাজার ৩১২টি স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে হাজিদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার বা পথ নির্দেশনাসহ মোট ২৫ হাজার ৭১০টি বিভিন্ন ধরনের তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্য বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ২৬২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সাময়িকভাবে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানেও বিভিন্ন হাসপাতালে ২৪ জন হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রতিনিধিরা স্থানীয় চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, প্রতিটি হজযাত্রীর নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ হজ মিশন, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাসমূহ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সমন্বিত ও সুশৃঙ্খলভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩০শে জুনের শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মধ্য দিয়েই চলতি বছরের হজ যাত্রীদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের এই বিশাল ও মহতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।

আপনার মতামত লিখুন