দিকপাল

প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ | ০২:২২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পণ্যের একক বা ইউনিট মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পরও আশানুরূপ বা প্রত্যাশিত ক্রয়াদেশ পাচ্ছে না বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিয়েও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা বা প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে একদিকে যেমন পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি মোট রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউমও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস এই তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।


ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক ও সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০blank৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৯ কোটি ইউরো। অথচ এর আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৫৭ কোটি ইউরো। সেই হিসাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯.২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গভীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, রপ্তানি আয়ের এই বড় পতনের পেছনে কেবল বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াই একমাত্র কারণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কম দামে পণ্য বিক্রি করার প্রবণতাও এখানে একটি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক মূল্য কমেছে ৯.১৩ শতাংশ এবং একই সঙ্গে রপ্তানির সামগ্রিক পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ১১.১৪ শতাংশ। এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিশেষ মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দেওয়ার পরও বাজারে পণ্যের চাহিদা মোটেও বাড়ানো সম্ভব হয়নি।


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএর দায়িত্বশীল নেতা মহিউদ্দিন রুবেল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন বিদেশি ক্রেতাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় যে চাপটি আসছে তা হলো পণ্যের দাম কমানো। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ পোশাক উৎপাদন করার সামগ্রিক খরচ বা ব্যয় কোনোভাবেই কমছে না। দেশের কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের সুদের হার এবং শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে কারখানাগুলোর স্বাভাবিক মুনাফার হার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনেক বিদেশি ক্রেতা এখন বড় আকারের অর্ডার না দিয়ে ছোট ছোট লটে পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন এবং দাম নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি দর-কষাকষি করছেন, যার ফলে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই এখন দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কেবল দুই মাসের সামগ্রিক চিত্রই নয়, মাসভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনা করলেও এই মন্দাভাবের একই রকম ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি মূল্য প্রায় ১২.৩৯ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে এই এক মাসে রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ৩.৩০ শতাংশ এবং পণ্যের একক মূল্য কমেছে ৯.৩৯ শতাংশ। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন যে, পণ্যের দামে বড় ছাড় দেওয়ার পরও নতুন কোনো বড় অর্ডার আসছে না—এমন এক নজিরবিহীন ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেক পোশাক কারখানাকে। বিশেষ করে সাধারণ ও মৌলিক পোশাক যেমন সাধারণ টি-শার্ট, ট্রাউজার এবং সোয়েটারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দর-কষাকষির প্রবণতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি মূল্য কমে যাওয়ায় ব্যবসার টিকে থাকার সামর্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।


একই সুর শোনা গেছে নিট পোশাক খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএর এক জ্যেষ্ঠ নেতার কণ্ঠেও। তিনি জানান যে, নিটওয়্যার খাতের কারখানাগুলো এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা হলো পণ্যের একক বা ইউনিট প্রাইস আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কম দামে নতুন অর্ডার বা ক্রয়াদেশ গ্রহণ করতে হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা দুর্বল থাকায় এই বিপুল পরিমাণ মূল্যছাড় দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণের অর্ডার কোনোভাবেই মিলছে না।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখনো মূলত তুলনামূলক কম দামের সাধারণ ও মৌলিক পোশাকের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে যখনই কোনো ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা বা মূল্যের চাপ তৈরি হয়, তখনই দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি সরাসরি এবং খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিপরীতে বিশ্ববাজারের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেমন ভিয়েতনাম বা চীন অনেক আগে থেকেই উচ্চমূল্যের আধুনিক ফ্যাশন পণ্য, কারিগরি ও বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তারা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজে ও সফলতার সঙ্গে সামাল দিতে পারছে।


প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ৪২০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ পোশাক রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ে চীনের পোশাকের সার্বিক রপ্তানি মূল্য ৪.০১ শতাংশ কমলেও তাদের রপ্তানির মোট পরিমাণ বা ভলিউম প্রায় ১.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ হলো, পণ্যের দাম কিছুটা কম হলেও চীন বিশ্ববাজারে নিজেদের তৈরি পোশাকের সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে পেরেছে এবং বাজার ধরে রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এখানে পণ্যের মূল্য এবং রপ্তানির পরিমাণ—উভয় সূচকেই একসঙ্গে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

 

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পণ্যের একক বা ইউনিট মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর পরও আশানুরূপ বা প্রত্যাশিত ক্রয়াদেশ পাচ্ছে না বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের মূল্যছাড় দিয়েও রপ্তানির ইতিবাচক ধারা বা প্রবৃদ্ধি কোনোভাবেই ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে একদিকে যেমন পোশাকের গড় রপ্তানি মূল্য ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি মোট রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউমও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস এই তৈরি পোশাকশিল্পে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।


ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক ও সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০blank৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮৯ কোটি ইউরো। অথচ এর আগের বছরের ঠিক একই সময়ে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৫৭ কোটি ইউরো। সেই হিসাবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯.২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গভীর অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, রপ্তানি আয়ের এই বড় পতনের পেছনে কেবল বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াই একমাত্র কারণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কম দামে পণ্য বিক্রি করার প্রবণতাও এখানে একটি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক মূল্য কমেছে ৯.১৩ শতাংশ এবং একই সঙ্গে রপ্তানির সামগ্রিক পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ১১.১৪ শতাংশ। এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের বিশেষ মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দেওয়ার পরও বাজারে পণ্যের চাহিদা মোটেও বাড়ানো সম্ভব হয়নি।


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএর দায়িত্বশীল নেতা মহিউদ্দিন রুবেল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন বিদেশি ক্রেতাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় যে চাপটি আসছে তা হলো পণ্যের দাম কমানো। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ পোশাক উৎপাদন করার সামগ্রিক খরচ বা ব্যয় কোনোভাবেই কমছে না। দেশের কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকের সুদের হার এবং শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে কারখানাগুলোর স্বাভাবিক মুনাফার হার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। অনেক বিদেশি ক্রেতা এখন বড় আকারের অর্ডার না দিয়ে ছোট ছোট লটে পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন এবং দাম নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি দর-কষাকষি করছেন, যার ফলে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাই এখন দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


কেবল দুই মাসের সামগ্রিক চিত্রই নয়, মাসভিত্তিক হিসাব পর্যালোচনা করলেও এই মন্দাভাবের একই রকম ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি মূল্য প্রায় ১২.৩৯ শতাংশ কমে গেছে। একই সঙ্গে এই এক মাসে রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ৩.৩০ শতাংশ এবং পণ্যের একক মূল্য কমেছে ৯.৩৯ শতাংশ। এই খাতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন যে, পণ্যের দামে বড় ছাড় দেওয়ার পরও নতুন কোনো বড় অর্ডার আসছে না—এমন এক নজিরবিহীন ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেক পোশাক কারখানাকে। বিশেষ করে সাধারণ ও মৌলিক পোশাক যেমন সাধারণ টি-শার্ট, ট্রাউজার এবং সোয়েটারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দর-কষাকষির প্রবণতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ প্রতিনিয়ত বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি মূল্য কমে যাওয়ায় ব্যবসার টিকে থাকার সামর্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।


একই সুর শোনা গেছে নিট পোশাক খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বিকেএমইএর এক জ্যেষ্ঠ নেতার কণ্ঠেও। তিনি জানান যে, নিটওয়্যার খাতের কারখানাগুলো এখন সবচেয়ে বড় যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা হলো পণ্যের একক বা ইউনিট প্রাইস আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। টিকে থাকার লড়াইয়ে অনেক ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ কম দামে নতুন অর্ডার বা ক্রয়াদেশ গ্রহণ করতে হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও চাহিদা দুর্বল থাকায় এই বিপুল পরিমাণ মূল্যছাড় দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণের অর্ডার কোনোভাবেই মিলছে না।


অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি কাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এখনো মূলত তুলনামূলক কম দামের সাধারণ ও মৌলিক পোশাকের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে যখনই কোনো ধরনের অর্থনৈতিক মন্দা বা মূল্যের চাপ তৈরি হয়, তখনই দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি সরাসরি এবং খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর বিপরীতে বিশ্ববাজারের অন্যান্য প্রতিযোগী দেশ যেমন ভিয়েতনাম বা চীন অনেক আগে থেকেই উচ্চমূল্যের আধুনিক ফ্যাশন পণ্য, কারিগরি ও বিশেষায়িত টেক্সটাইল এবং কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তারা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজে ও সফলতার সঙ্গে সামাল দিতে পারছে।


প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ৪২০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ পোশাক রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময়ে চীনের পোশাকের সার্বিক রপ্তানি মূল্য ৪.০১ শতাংশ কমলেও তাদের রপ্তানির মোট পরিমাণ বা ভলিউম প্রায় ১.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ হলো, পণ্যের দাম কিছুটা কম হলেও চীন বিশ্ববাজারে নিজেদের তৈরি পোশাকের সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে পেরেছে এবং বাজার ধরে রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এখানে পণ্যের মূল্য এবং রপ্তানির পরিমাণ—উভয় সূচকেই একসঙ্গে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

 


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল