আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। রোববার (২৪ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ঊর্ধ্বতন সূত্র এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের সাথে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই তেহরানের এমন কঠোর অবস্থান বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সূত্রটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বর্তমান যে প্রাথমিক আলোচনা বা সমঝোতা চলছে, তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টি মোটেও অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি বর্তমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। ফলে এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুটি ভবিষ্যতের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তির আলোচনার টেবিলে সমাধানের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। এর বাইরে এখনই ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তি তেহরান মেনে নেয়নি।
এদিকে তেহরানের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-কে জানিয়েছেন, ইরান ঠিক কীভাবে তাদের ইউরেনিয়াম ত্যাগ করবে, সে বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে তেহরান দৃশ্যত এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, মূল চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে, সেখানেই এর সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কৌশলগুলো নির্ধারণ করা হবে।
এই পুরো কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং ইসরাইলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
কয়েক সপ্তাহের তীব্র ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতের পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই শত্রু ভাবাপন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে কয়েক দফায় কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হয়। যদিও পাকিস্তান সরকারের সেই আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী চুক্তিতে পুরোপুরি একমত হতে পারেনি। তবে পর্দার আড়ালে উভয় পক্ষের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। রোববার (২৪ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও ঊর্ধ্বতন সূত্র এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াশিংটনের সাথে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই তেহরানের এমন কঠোর অবস্থান বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
সূত্রটি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বর্তমান যে প্রাথমিক আলোচনা বা সমঝোতা চলছে, তার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টি মোটেও অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি বর্তমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাভুক্ত নয়। ফলে এই জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুটি ভবিষ্যতের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তির আলোচনার টেবিলে সমাধানের জন্য তুলে রাখা হয়েছে। এর বাইরে এখনই ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত বা চুক্তি তেহরান মেনে নেয়নি।
এদিকে তেহরানের এই অনড় অবস্থানের বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-কে জানিয়েছেন, ইরান ঠিক কীভাবে তাদের ইউরেনিয়াম ত্যাগ করবে, সে বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে তেহরান দৃশ্যত এই ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, মূল চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে, সেখানেই এর সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও কৌশলগুলো নির্ধারণ করা হবে।
এই পুরো কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতিহাস। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি ভূখণ্ডে এক ভয়াবহ মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং ইসরাইলি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
কয়েক সপ্তাহের তীব্র ও ধ্বংসাত্মক সংঘাতের পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই শত্রু ভাবাপন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে কয়েক দফায় কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হয়। যদিও পাকিস্তান সরকারের সেই আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তেহরান ও ওয়াশিংটন এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী চুক্তিতে পুরোপুরি একমত হতে পারেনি। তবে পর্দার আড়ালে উভয় পক্ষের মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন