পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটায় এক ভয়াবহ ও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে একটি যাত্রীবাহী শাটল ট্রেন। রবিবার সকালের এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। চামান ফটক নামক অত্যন্ত ব্যস্ত একটি এলাকার কাছাকাছি এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
রেলওয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শাটল ট্রেনটি কোয়েটা সেনানিবাস থেকে ছেড়ে এসে মূল রেলওয়ে স্টেশনের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সকাল আটটা বাজার কিছু সময় পর ট্রেনটি যখন চামান ফটক এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের কয়েকটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বগির ভেতরে থাকা যাত্রীরা রক্তাক্ত অবস্থায় এদিক-ওদিক ছিটকে পড়েন। কেবল ট্রেনের বগিরই ক্ষতি হয়নি, বরং বিস্ফোরণস্থল ও তার আশপাশের বেশ কিছু আবাসিক বাড়িঘর এবং রাস্তায় থাকা কয়েকটি যানবাহনে তাৎক্ষণিকভাবে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও ধরন নিয়ে শুরুতে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও পাকিস্তান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুতই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে ঘটনাস্থলে বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রাক ও একটি জরুরি ত্রাণবাহী বিশেষ ট্রেন পাঠানো হয়। একই সাথে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় আশপাশের ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে এই নির্মম ও রক্তক্ষয়ী হামলার পরপরই এর পেছনের দায় স্বীকার করেছে ওই অঞ্চলে সক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি। স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটি এটিকে একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী বা ফিদায়ী হামলা হিসেবে দাবি করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রেনে থাকা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই ভয়াবহ ঘটনায় দুই ডজনেরও বেশি মানুষ প্রচণ্ডভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরই মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত হতাহতদের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুরো কোয়েটা জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি এবং এআরওয়াই নিউজ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটায় এক ভয়াবহ ও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে একটি যাত্রীবাহী শাটল ট্রেন। রবিবার সকালের এই মর্মান্তিক ও আকস্মিক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। চামান ফটক নামক অত্যন্ত ব্যস্ত একটি এলাকার কাছাকাছি এই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও বহু মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে।
রেলওয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শাটল ট্রেনটি কোয়েটা সেনানিবাস থেকে ছেড়ে এসে মূল রেলওয়ে স্টেশনের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সকাল আটটা বাজার কিছু সময় পর ট্রেনটি যখন চামান ফটক এলাকা অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের কয়েকটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বগির ভেতরে থাকা যাত্রীরা রক্তাক্ত অবস্থায় এদিক-ওদিক ছিটকে পড়েন। কেবল ট্রেনের বগিরই ক্ষতি হয়নি, বরং বিস্ফোরণস্থল ও তার আশপাশের বেশ কিছু আবাসিক বাড়িঘর এবং রাস্তায় থাকা কয়েকটি যানবাহনে তাৎক্ষণিকভাবে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও ধরন নিয়ে শুরুতে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও পাকিস্তান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুতই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল সেখানে ছুটে যায়। উদ্ধার কাজে গতি আনতে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে ঘটনাস্থলে বিশেষ উদ্ধারকারী ট্রাক ও একটি জরুরি ত্রাণবাহী বিশেষ ট্রেন পাঠানো হয়। একই সাথে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় আশপাশের ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে এই নির্মম ও রক্তক্ষয়ী হামলার পরপরই এর পেছনের দায় স্বীকার করেছে ওই অঞ্চলে সক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি। স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যের বরাতে পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটি এটিকে একটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী বা ফিদায়ী হামলা হিসেবে দাবি করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রেনে থাকা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ ধরনের চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, এই ভয়াবহ ঘটনায় দুই ডজনেরও বেশি মানুষ প্রচণ্ডভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৩০ জন আহত রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের শরীরই মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত হতাহতদের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুরো কোয়েটা জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি এবং এআরওয়াই নিউজ

আপনার মতামত লিখুন