দিকপাল

যুদ্ধ চলাকালেই আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর রহস্যময় সফর


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ | ০৬:৪৯ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

যুদ্ধ চলাকালেই আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর রহস্যময় সফর

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তেল আবিব ও আবুধাবির মধ্যকার গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। তবে দুবাইয়ের পক্ষ থেকে এই সফরের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তের কাছে অবস্থিত আল আইন শহরে শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এক দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, গোয়েন্দা পর্যায়ের যোগাযোগও এখন তুঙ্গে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইতোমধ্যে অন্তত দুইবার আমিরাত সফর করেছেন বলে জানা গেছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে পারস্পরিক সমন্বয় সাধন করা। এই সামরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সুরক্ষা দিতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তার মতে, বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যে এক নজিরবিহীন সম্পর্ক বিদ্যমান।

অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং ইরানের ওপর সরাসরি গোপন হামলাতেও অংশ নিয়েছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার নেপথ্যে আমিরাতের হাত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আগে চালানো হামলার একটি প্রতিশোধমূলক জবাব। ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই আমিরাত অন্য যেকোনো আরব দেশের তুলনায় তেল আবিবের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি এই সম্পর্কের খাতিরে তারা সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তবে এই ক্রমবর্ধমান সখ্যতার পেছনে রয়েছে কিছু বিতর্কিত অধ্যায়। গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্প্রতি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে। সুদানের গৃহযুদ্ধে কুখ্যাত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে অর্থ ও মরণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করে সেখানে গণহত্যায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিরুদ্ধে। যদিও আবুধাবি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ ও গোপন সামরিক আঁতাত গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তথ্যের উৎস: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


যুদ্ধ চলাকালেই আরব আমিরাতে নেতানিয়াহুর রহস্যময় সফর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই তেল আবিব ও আবুধাবির মধ্যকার গোপন কূটনৈতিক তৎপরতার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অত্যন্ত গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। তবে দুবাইয়ের পক্ষ থেকে এই সফরের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তের কাছে অবস্থিত আল আইন শহরে শেখ মোহামেদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এক দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, গোয়েন্দা পর্যায়ের যোগাযোগও এখন তুঙ্গে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ইতোমধ্যে অন্তত দুইবার আমিরাত সফর করেছেন বলে জানা গেছে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে পারস্পরিক সমন্বয় সাধন করা। এই সামরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির বক্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সুরক্ষা দিতে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তার মতে, বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যে এক নজিরবিহীন সম্পর্ক বিদ্যমান।

অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং ইরানের ওপর সরাসরি গোপন হামলাতেও অংশ নিয়েছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলার নেপথ্যে আমিরাতের হাত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মূলত ইরানের পক্ষ থেকে আগে চালানো হামলার একটি প্রতিশোধমূলক জবাব। ২০২০ সালে ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই আমিরাত অন্য যেকোনো আরব দেশের তুলনায় তেল আবিবের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি এই সম্পর্কের খাতিরে তারা সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তবে এই ক্রমবর্ধমান সখ্যতার পেছনে রয়েছে কিছু বিতর্কিত অধ্যায়। গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সম্প্রতি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত হচ্ছে। সুদানের গৃহযুদ্ধে কুখ্যাত র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে অর্থ ও মরণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করে সেখানে গণহত্যায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিরুদ্ধে। যদিও আবুধাবি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ ও গোপন সামরিক আঁতাত গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক অজানা ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তথ্যের উৎস: দ্য গার্ডিয়ান


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল