দিকপাল

গুচ্ছকবিতা


 মাহমুদা আক্তার
মাহমুদা আক্তার
প্রকাশ : বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:৩১ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গুচ্ছকবিতা
কবি : মাহমুদা আক্তার

১

মানুষ থেকে দূরে

আমি মানুষ থেকে দূরে থাকি।
মানুষে আছে হিংসা, গীবত, পরনিন্দা
আছে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় ভেদাভেদ,
কটুবাক্য প্র‍য়োগে আহত করার ক্ষমতা।

আমি মানুষ থেকে দূরে থাকি।
মানুষে আছে আড়চোখে ক্ষীণ করে দেখার প্রবণতা
আছে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, জিঘাংসা
মিথ্যা, ভয়, প্রতারণা। 

আমি তাই প্রকৃতির কাছেই থাকি।
আকাশের সাথে কথা বলি,
নদীর ঢেউএর কলতান শুনি,
পাখির কলরবের সাথে গুনগুন করে গান গাই,
মাটির উপর শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে
সাহস, উৎসাহ, উদ্দীপনা যোগাই।

আযানের ধ্বনিতে খুঁজে পাই
পবিত্রতা, শান্তি আর সৌন্দর্য,
আল্লাহর আরো নিকটবর্তী হওয়ার
জন্য পাই আবেগ, তাড়না ও অন্তরের ডাক।

আমি তাই মানুষ থেকে দূরে থাকি
মানুষ থেকে দূরে থাকি।

২
মা

প্রতিটি মা সন্তানকে ভালোবাসে-
সন্তান তা বুঝতে পারে মায়ের মৃত্যুর পর।
প্রতিটি মা'এর আঁচল সন্তানের জন্য ছায়াতল,
সন্তান তা বুঝতে পারে মায়ের আঁচল হারানোর পর।

প্রতিটি মা'এর দোয়া সন্তানের জন্য নিরাপত্তা।
সন্তান তা বুঝতে পারে যখন সে হোঁচট খায় আবার উঠে দাঁড়ায়।

প্রতিটি মা'এর চোখের জল সন্তানের চলার পথকে পরিষ্কার করে,
সন্তান তা বুঝতে পারে যখন টের সে পায় তার পথে কোন বাঁধা নেই। 

মা আল্লাহ প্রদত্ত একজন ফেরেশতার মতো
যা সন্তানকে দৃশ্য ও অদৃশ্যভাবে
আগলে রাখে, জড়িয়ে রাখে যা আর কেউ পারে না।
মায়ের বিকল্প কেবল মা'ই হয় আর কেহ নয়।

৩
চক্ষের ভ্রম

বাপে যেইদিন আমার হাতখান তর হাতে রাখলো
আমি ভাবসিলাম দুনিয়াডা পাইয়া গেলাম।

মনে অইলো আজ থেইক্কা আমার আন্ধার ঘরখান
চান্দের আলোয় দিনের লাহান চকমক করবো।

আমি খোয়াব দেখতাম আমি আর তুই
জোড়া কইতরের লাহান হারাদিন
বাকবাকুম বাকবাকুম করি
আর উইড়া বেড়াই, ঘুইরা বেড়াই।

মাইঝে মইধ্যে মনে অইতো
তুই আর আমি প্রজাপতির মতন
রঙিন পাখনা মেইলা বন বাদাড়ে
রঙিন ফুল, পাতার উপর বইসা গল্প করি।

একদিন ঝড় আইলো, ভীষণ ঝড়
বেবাক কিছু ওলট পালট কইরা দিলো
তুই যে কই গেলি আর খুঁইজা পাইলাম না।

অহনও সাঁঝের বেলা অইলে
পোলারে বুকে আগলাইয়া 

তর লাগি দুয়ারে বইসা থাহি।
মনে অয়! তোরে দেহা যায়
দূর হইতে দেহা যায়। 

কিন্তু, না! তুই না।
আমার চক্ষের ভ্রম।


৪

আল কুরআন 

আল কুরআন! হে আমার প্রিয় আল কুরআন!
তুমি ছিলে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত।
কদরের রাতে নেমে এসেছিলে এই ধরাধমে
জিবরাইল ফেরেশতার হাত ধরে।
পবিত্র ওহিস্বরূপ অন্ধকার গুহার অভ্যন্তরে
যেখানে ধ্যানরত ছিলেন আমার প্রিয় নবী মুহাম্মদ।
তুমি এলে সুমহান মুক্তির বার্তা নিয়ে
প্রথম কথা ছিলো সুরা আলাকের আয়াত
ইকরা বিসমিকাল্লাজি অর্থাৎ পড় তোমার প্রভুর নামে।
নবীজী পড়েছিলেন, আত্মস্থ করেছিলেন
সেই পবিত্র আয়াত, পবিত্র ওহি, পবিত্র সুর।

আল কুরআন! হে আমার প্রিয় আল কুরআন!
তুমি ধারণ করেছো ১১৪ টি সুরা
যার কিছু মক্কা ও কিছু মদিনায় অবতীর্ণ।
শুরুতে সুরা ফাতিহা আর শেষে নাস অব্দি
আদ্যোপান্ত জ্ঞান, তথ্য ভা রে পরিপূর্ণ।


৫

জীবন বনাম মৃত্যু 

লোকে বলে মৃত্য কঠিন
আমি বলি জীবন কঠিন,
মৃত্যু মানে পরীক্ষার অবসান
জীবন মানে পরীক্ষা চলমান।

আমাদের প্রতিটি কথা পরীক্ষা,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরীক্ষা,
প্রতিটি পদক্ষেপ পরীক্ষা।
সকল পরীক্ষার পরীক্ষক হলেন
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।

আমরা যা ভুল করি তা পরীক্ষা,
যা ঠিক করি তাও পরীক্ষা।
যার জবাবদিহিতা হবে মৃত্যুর পর,
সেদিন আমার কৃতকর্মই কথা বলবে।
তাই তো আমার কাছে জীবনটাই কঠিন।


১০

 পূর্ণিমার চাঁদ

 যদি বলি পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে এসো,
আসবে তো?
ঐ দূর আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ
যার আলোয় আলোকিত হয়
আঁধারে নিমজ্জিত পৃথিবী।
তেমনি তুমি আমায় আলোকিত করবে,
কি আলোকিত করবে না?

সাথে থাকবে তারার মেলা, ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ
কখনো বা সপ্তর্ষিমন্ডল, ধুমকেতু, মেঘমালা।
আমি আমার আকাশটাকে সাজাবো
আমার মনের মতো করে।

যখন দিনের শেষে রাত আসবে
আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে

তোমায় খুঁজবো পূর্ণিমার চাঁদরূপে
আর তুমি মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে থাকবে।

যখন মেঘ সরে যাবে তুমি দৃশ্যমান হবে
আমি তোমায় আমার ব্যস্ততম

পুরো দিনের কথাগুলো বলবো,
সুখের কথাগুলো বলে হাসবো, 

কখনো বা দুঃখের কথা বলে কাঁদবো।
কান্না পেলে তুমি আমায় ধমকে দিয়ে বলবে,

'থামো! আর কত? হাসো এবার প্রাণখুলে হাসো।'
আমার হাসির শব্দে তারাগুলো যেন
আরো মিটমিট করে জ্বলতে শুরু করবে,
রাতের জোনাকিগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে,

থেমে থেমে হুতুমপেঁচা ডেকে উঠবে
আর জানান দিবে রাতের গভীরতা কতটুকু।

আমার হাসি দেখে তুমিও দূর আকাশে হেসে উঠবে
আবদার করবে তোমায় আকাশের ঠিকানায় যেন

প্রতিদিন চিঠি লিখে পাঠাই লাল নীল খামে।
আমি লিখবো অবশ্যই লিখবো
শত সহস্র চিঠি কিন্তু, তুমি পড়বে তো?

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


গুচ্ছকবিতা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

১

মানুষ থেকে দূরে

আমি মানুষ থেকে দূরে থাকি।
মানুষে আছে হিংসা, গীবত, পরনিন্দা
আছে ধনী-দরিদ্র, ছোট-বড় ভেদাভেদ,
কটুবাক্য প্র‍য়োগে আহত করার ক্ষমতা।

আমি মানুষ থেকে দূরে থাকি।
মানুষে আছে আড়চোখে ক্ষীণ করে দেখার প্রবণতা
আছে দ্বন্দ্ব, সংঘাত, জিঘাংসা
মিথ্যা, ভয়, প্রতারণা। 

আমি তাই প্রকৃতির কাছেই থাকি।
আকাশের সাথে কথা বলি,
নদীর ঢেউএর কলতান শুনি,
পাখির কলরবের সাথে গুনগুন করে গান গাই,
মাটির উপর শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে
সাহস, উৎসাহ, উদ্দীপনা যোগাই।

আযানের ধ্বনিতে খুঁজে পাই
পবিত্রতা, শান্তি আর সৌন্দর্য,
আল্লাহর আরো নিকটবর্তী হওয়ার
জন্য পাই আবেগ, তাড়না ও অন্তরের ডাক।

আমি তাই মানুষ থেকে দূরে থাকি
মানুষ থেকে দূরে থাকি।

২
মা

প্রতিটি মা সন্তানকে ভালোবাসে-
সন্তান তা বুঝতে পারে মায়ের মৃত্যুর পর।
প্রতিটি মা'এর আঁচল সন্তানের জন্য ছায়াতল,
সন্তান তা বুঝতে পারে মায়ের আঁচল হারানোর পর।

প্রতিটি মা'এর দোয়া সন্তানের জন্য নিরাপত্তা।
সন্তান তা বুঝতে পারে যখন সে হোঁচট খায় আবার উঠে দাঁড়ায়।

প্রতিটি মা'এর চোখের জল সন্তানের চলার পথকে পরিষ্কার করে,
সন্তান তা বুঝতে পারে যখন টের সে পায় তার পথে কোন বাঁধা নেই। 

মা আল্লাহ প্রদত্ত একজন ফেরেশতার মতো
যা সন্তানকে দৃশ্য ও অদৃশ্যভাবে
আগলে রাখে, জড়িয়ে রাখে যা আর কেউ পারে না।
মায়ের বিকল্প কেবল মা'ই হয় আর কেহ নয়।

৩
চক্ষের ভ্রম

বাপে যেইদিন আমার হাতখান তর হাতে রাখলো
আমি ভাবসিলাম দুনিয়াডা পাইয়া গেলাম।

মনে অইলো আজ থেইক্কা আমার আন্ধার ঘরখান
চান্দের আলোয় দিনের লাহান চকমক করবো।

আমি খোয়াব দেখতাম আমি আর তুই
জোড়া কইতরের লাহান হারাদিন
বাকবাকুম বাকবাকুম করি
আর উইড়া বেড়াই, ঘুইরা বেড়াই।

মাইঝে মইধ্যে মনে অইতো
তুই আর আমি প্রজাপতির মতন
রঙিন পাখনা মেইলা বন বাদাড়ে
রঙিন ফুল, পাতার উপর বইসা গল্প করি।

একদিন ঝড় আইলো, ভীষণ ঝড়
বেবাক কিছু ওলট পালট কইরা দিলো
তুই যে কই গেলি আর খুঁইজা পাইলাম না।

অহনও সাঁঝের বেলা অইলে
পোলারে বুকে আগলাইয়া 

তর লাগি দুয়ারে বইসা থাহি।
মনে অয়! তোরে দেহা যায়
দূর হইতে দেহা যায়। 

কিন্তু, না! তুই না।
আমার চক্ষের ভ্রম।


৪

আল কুরআন 

আল কুরআন! হে আমার প্রিয় আল কুরআন!
তুমি ছিলে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত।
কদরের রাতে নেমে এসেছিলে এই ধরাধমে
জিবরাইল ফেরেশতার হাত ধরে।
পবিত্র ওহিস্বরূপ অন্ধকার গুহার অভ্যন্তরে
যেখানে ধ্যানরত ছিলেন আমার প্রিয় নবী মুহাম্মদ।
তুমি এলে সুমহান মুক্তির বার্তা নিয়ে
প্রথম কথা ছিলো সুরা আলাকের আয়াত
ইকরা বিসমিকাল্লাজি অর্থাৎ পড় তোমার প্রভুর নামে।
নবীজী পড়েছিলেন, আত্মস্থ করেছিলেন
সেই পবিত্র আয়াত, পবিত্র ওহি, পবিত্র সুর।

আল কুরআন! হে আমার প্রিয় আল কুরআন!
তুমি ধারণ করেছো ১১৪ টি সুরা
যার কিছু মক্কা ও কিছু মদিনায় অবতীর্ণ।
শুরুতে সুরা ফাতিহা আর শেষে নাস অব্দি
আদ্যোপান্ত জ্ঞান, তথ্য ভা রে পরিপূর্ণ।


৫

জীবন বনাম মৃত্যু 


লোকে বলে মৃত্য কঠিন
আমি বলি জীবন কঠিন,
মৃত্যু মানে পরীক্ষার অবসান
জীবন মানে পরীক্ষা চলমান।


আমাদের প্রতিটি কথা পরীক্ষা,
প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরীক্ষা,
প্রতিটি পদক্ষেপ পরীক্ষা।
সকল পরীক্ষার পরীক্ষক হলেন
পরম করুণাময় মহান আল্লাহ যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন।

আমরা যা ভুল করি তা পরীক্ষা,
যা ঠিক করি তাও পরীক্ষা।
যার জবাবদিহিতা হবে মৃত্যুর পর,
সেদিন আমার কৃতকর্মই কথা বলবে।
তাই তো আমার কাছে জীবনটাই কঠিন।


১০

 পূর্ণিমার চাঁদ

 যদি বলি পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে এসো,
আসবে তো?
ঐ দূর আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ
যার আলোয় আলোকিত হয়
আঁধারে নিমজ্জিত পৃথিবী।
তেমনি তুমি আমায় আলোকিত করবে,
কি আলোকিত করবে না?

সাথে থাকবে তারার মেলা, ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ
কখনো বা সপ্তর্ষিমন্ডল, ধুমকেতু, মেঘমালা।
আমি আমার আকাশটাকে সাজাবো
আমার মনের মতো করে।

যখন দিনের শেষে রাত আসবে
আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে

তোমায় খুঁজবো পূর্ণিমার চাঁদরূপে
আর তুমি মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে থাকবে।

যখন মেঘ সরে যাবে তুমি দৃশ্যমান হবে
আমি তোমায় আমার ব্যস্ততম

পুরো দিনের কথাগুলো বলবো,
সুখের কথাগুলো বলে হাসবো, 

কখনো বা দুঃখের কথা বলে কাঁদবো।
কান্না পেলে তুমি আমায় ধমকে দিয়ে বলবে,

'থামো! আর কত? হাসো এবার প্রাণখুলে হাসো।'
আমার হাসির শব্দে তারাগুলো যেন
আরো মিটমিট করে জ্বলতে শুরু করবে,
রাতের জোনাকিগুলো দৃশ্যমান হয়ে উঠবে,

থেমে থেমে হুতুমপেঁচা ডেকে উঠবে
আর জানান দিবে রাতের গভীরতা কতটুকু।

আমার হাসি দেখে তুমিও দূর আকাশে হেসে উঠবে
আবদার করবে তোমায় আকাশের ঠিকানায় যেন

প্রতিদিন চিঠি লিখে পাঠাই লাল নীল খামে।
আমি লিখবো অবশ্যই লিখবো
শত সহস্র চিঠি কিন্তু, তুমি পড়বে তো?


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল