প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬
আশেক ই খোদা’র একগুচ্ছ কবিতা
আশেক ই খোদা, কবি ||
(০১)ঝরাফুলআমি এক ঝরাফুল ঝরেছি অকালেঅন্ধকার দেখি সদা কোথাও তাকালে।অট্টালিকা ভেদ করে আসে না যে আলোবেঁচে থাকা অমূলক ইচ্ছেটা ফুরালো।(০২)আমায় ডাকেনদী আমায় ডাকে, সাথে সাগরঅনেক নাম ডাক আমার সাথে যশ, খ্যাতিআজকের আমি পুরাই আবরণে অন্য এক মানুষপ্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছি গন্ধময় অতীত ঢাকতে আমি দিশেহারা, খুবই অসহায়আশ্রয় খুঁজে চলেছি কিন্তু মিলছেনা কোথাওদৌঁড়াতে দৌঁড়াতে আমি বড্ডই ক্লান্তমাঝে মাঝে বেশ হীনমণ্যতায় ভুগিকি কারণে এমন নষ্ট করেছি সেই বর্তমানকেযা আজ আমার অতীত, আমার সামনে যাওয়ার পথে অন্তরায়।একটি অন্ধকার ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়েছে সে,আমি সামনে গিয়েও পিছু হটছি বারেবারেহিসাবের খাতায় অনেক শূণ্যতা, ঋণাত্মক অবস্থানবারেবারে আমায় ডাকছে সেই হিসাব মিলাতে।(০৩)নিজেকে বদলাইপৃথিবী কাঁপছে আজ ভীত কত জনচারিদিকে অমানিশা নেই যে আপন।মানুষে মানে না তবু স্বাস্থ্যবিধি যতনিকটাত্মীয় হারিয়ে হয় শোকাহত।রিক্ত নিঃস্ব আছে বহু জোটে না খাবারআক্রান্ত হলেই কেউ কাছে নেই আর।হাসপাতালে চেম্বারে কত শত রোগীএর মাঝে কেউ কেউ আছে অতি লোভী।গরীবের ত্রাণ লুটে গড়ে অট্টালিকামানবতার বাণীতে লিখে দেয়ালিকা।পাপাচারে লিপ্ত হয়ে বাড়িয়েছি ক্ষোভসামান্য টাকায় বলো দমেছে কি লোভ..?অনেকে স্রষ্টার ভয়ে বদলেছে পথসুন্দর জীবনে ফিরে নিয়েছে শপথ।থাকবে না মহামারি যত রোগবালাইআসুন সবার আগে নিজে বদলাই।(০৪)অশ্রুকে বলেছিঅশ্রুকে বলেছি,তুই আর ঝরিসনে অঝোর ধারায়তোর এই ঝরা দেখেঅনেকেই আনমনে ঝরিয়ে দেয়ক’ফোঁটা আমাকে ভালবেসে,অধীর আগ্রহে জানতে চায় কারণঅশ্রু তুই-ই বলসব কথা কি সবাইকে বলা যায়..?না, যায় না।আপন মনে পোড়াতে হয় কষ্টের অনলেতুই আমাকে হালকা করিস বটে,ধুয়ে দিস হৃদয়ের গহীনে জমে থাকা কষ্টগুলো,জানিস অশ্রু? আমার আনন্দেও কিন্তু তুই ঝরিসপাওয়ার আনন্দ,হারানোর বেদনা সব জায়গায় তুইতোর অবস্থান আমি অনুভব করি অন্তরেতুই আমাকে নিয়ে যাস অতীতে,জাগিয়ে দিস সুপ্ত অবস্থায় থাকা কষ্টগুলোকে,তখন ক’ফোঁটা ঝরে যাস আনমনে,তুই আমার পরম বন্ধু,আমাকে হালকা করিসঅশ্রু তুই সবার পাশে থাকিস সব সময়,কষ্টগুলো ধুয়ে দিসপাওয়ার আনন্দেও তুই ঝরিস,বন্ধু হয়ে থাকিস সব সময়।(০৫)তুমি ঘুমিয়ে গেলেতুমি ঘুমিয়ে গেলে,চাঁদ হারিয়ে যায় মেঘের গভীরে,রাতের আলোয় নেমে আসে অন্ধকার।মুখরিত পৃথিবী হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়চারিদিকে শুনশান নীরবতা,ঝিঁ ঝিঁ পোকারাও চুপ হয়ে যায়,তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,প্রকৃতি অকৃপণ ভাবে বইয়ে দেয়।ঠাণ্ডা সুশীতল বাতাসতোমাকে ভালবেসে,গভীর রাত ভোর হতে চায় নাসূর্য একটু দেরিতেই আলো দেয়তোমার ঘুম ভাঙবে বলে,আর আমি তাকিয়ে থাকি আনমনেতোমার সেই মিষ্টি চেহারাখানি,অবলোকন করি ঘুমিয়ে থাকা তোমার সৌন্দর্য।(০৬)শূন্যতাশূন্য এই জীবন,সময়ের হাত ধরে তবু হাঁটি,কখনও হই বিচলিত,অতীতের কষ্টের স্মৃতিগুলো,দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে ফেলে,অর্ধমৃত একটা মানুষ আরও মরে, তবুও মরে না,চোখের নোনাজলে বারেবারে ধুই,মিছে কিছু স্বপ্ন ছুঁই,এভাবে জীবন পার করেভাল আছি'র মিথ্যে অভিনয়ে।(০৭)স্রষ্টাপথ খুলে দেয় স্রষ্টাআমি কেবল হাঁটিউপরে আকাশ ওইপায়ের তলায় মাটি।(০৮)আস্থাস্রষ্টায় আস্থা আমারসম্মুখে পথ চলিবেশ জটিল এই ভূবনখুঁজে নেবে গলি।(০৯)বর্ণিল জীবন, রঙহীন জীবনসম্ভাবনা থাকে সবখানেতবু করে ভুল, হাতের পুতুলসময় ও স্রোতের টানে।(১০)সময়ের কাঁটাটিঘোরে নিজ ঢঙ্গেসুখ দুঃখ নিয়তমিশে তার সঙ্গে।
প্রধান সম্পাদক : কাদির নোমান, সম্পাদক : আল জাবিরী, প্রকাশক : আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল