বুয়েনোস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন রাতে কেবল গ্যালারির আশি হাজার দর্শক কিংবা সতীর্থরাই কাঁদেননি, ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিদায়ে অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল তাঁর পুরো পরিবারও।
আকাশি-শাদা জার্সিতে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে আফ্রিকার দেশ বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক রাতে গ্যালারিতে বসে স্বামী মেসির শেষ জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রত্যক্ষ করেন স্ত্রী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জো এবং মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। শৈশবের খেলার সঙ্গী থেকে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের সোনালী মুহূর্ত—মেসির প্রতিটি ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে ছায়ার মতো পাশে থাকা অ্যান্তোনেলা এবারও ছিলেন গ্যালারির সামনের সারিতে। অন্যদিকে বাবার হাত ধরে ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠে নেমেছিল মেসির তিন পুত্র থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো।
জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময়ই চোখের জল সংবরণ করতে কষ্ট হচ্ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই অধিনায়কের। তবে আবেগ সামলে মাঠে নামতেই দেখা গেল সেই চিরচেনা জাদুকরকে! নিকোলাস ওটামেন্ডি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭০তম মিনিটে নিজেই পেনাল্টি থেকে করেন দৃষ্টিনন্দন এক গোল। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ১২৬তম এবং শেষ গোল।
পুরো ৯০ মিনিট খেলে ম্যাচ জয়ের পর যখন আবেগময় সমাপনী ভাষণ দিতে ওঠেন মেসি, তখন কান্নাভেজা কণ্ঠে স্মরণ করেন গত আগস্টে প্রয়াত হওয়া বাবা হোর্হে মেসিকে। আবেগ চেপে মেসি বলেন, "আজ হৃদয়ে অসংখ্য অনুভূতির তোলপাড়, তবে এই আবেগঘন রাতে আমি প্রথমেই যার কথা ভাবছি, তিনি আমার বাবা।" অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি আরও যোগ করেন, "আমার এই মাঠ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। আপনারা সবাইকে খুব মিস করব। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরেছি এবং আপনাদের সঙ্গে এই স্বপ্নের জয় উদযাপন করতে পেরেছি।"
ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই মাঠে নেমে আসে মেসির পুরো পরিবার। বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বিষাদময় বিদায়বেলায় নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি বড় ছেলে থিয়াগো। বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে ১২ বছরের থিয়াগো; মেসিও পরম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেন সন্তানকে। পাশে দাঁড়িয়ে তখন চোখের জল মুছছিলেন অ্যান্তোনেলা এবং বাকি দুই সন্তান মাতেও ও চিরো।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুয়েনোস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন রাতে কেবল গ্যালারির আশি হাজার দর্শক কিংবা সতীর্থরাই কাঁদেননি, ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসির মহাকাব্যিক বিদায়ে অশ্রুসজল হয়ে উঠেছিল তাঁর পুরো পরিবারও।
আকাশি-শাদা জার্সিতে জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে আফ্রিকার দেশ বেনিনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক রাতে গ্যালারিতে বসে স্বামী মেসির শেষ জাদুকরী পারফরম্যান্স প্রত্যক্ষ করেন স্ত্রী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জো এবং মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি। শৈশবের খেলার সঙ্গী থেকে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ের সোনালী মুহূর্ত—মেসির প্রতিটি ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে ছায়ার মতো পাশে থাকা অ্যান্তোনেলা এবারও ছিলেন গ্যালারির সামনের সারিতে। অন্যদিকে বাবার হাত ধরে ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠে নেমেছিল মেসির তিন পুত্র থিয়াগো, মাতেও এবং চিরো।
জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময়ই চোখের জল সংবরণ করতে কষ্ট হচ্ছিল ৩৯ বছর বয়সী এই অধিনায়কের। তবে আবেগ সামলে মাঠে নামতেই দেখা গেল সেই চিরচেনা জাদুকরকে! নিকোলাস ওটামেন্ডি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭০তম মিনিটে নিজেই পেনাল্টি থেকে করেন দৃষ্টিনন্দন এক গোল। এটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির ১২৬তম এবং শেষ গোল।
পুরো ৯০ মিনিট খেলে ম্যাচ জয়ের পর যখন আবেগময় সমাপনী ভাষণ দিতে ওঠেন মেসি, তখন কান্নাভেজা কণ্ঠে স্মরণ করেন গত আগস্টে প্রয়াত হওয়া বাবা হোর্হে মেসিকে। আবেগ চেপে মেসি বলেন, "আজ হৃদয়ে অসংখ্য অনুভূতির তোলপাড়, তবে এই আবেগঘন রাতে আমি প্রথমেই যার কথা ভাবছি, তিনি আমার বাবা।" অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি আরও যোগ করেন, "আমার এই মাঠ ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। আপনারা সবাইকে খুব মিস করব। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি একজন আর্জেন্টাইন হতে পেরেছি এবং আপনাদের সঙ্গে এই স্বপ্নের জয় উদযাপন করতে পেরেছি।"
ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই মাঠে নেমে আসে মেসির পুরো পরিবার। বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বিষাদময় বিদায়বেলায় নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি বড় ছেলে থিয়াগো। বাবার বুকে মুখ লুকিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে ১২ বছরের থিয়াগো; মেসিও পরম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরেন সন্তানকে। পাশে দাঁড়িয়ে তখন চোখের জল মুছছিলেন অ্যান্তোনেলা এবং বাকি দুই সন্তান মাতেও ও চিরো।

আপনার মতামত লিখুন