দিকপাল

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখেই তিস্তা প্রকল্পে সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান


সুমাইয়া জাবির
সুমাইয়া জাবির ন্যাশনাল ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখেই তিস্তা প্রকল্পে সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

বাংলাদেশ নিজের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে তিস্তা নদীর সমন্বিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এই প্রকল্পে সরকার দেশের সার্বিক কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পে অর্থায়নের ধরন কী হবে কিংবা চীন এতে অর্থায়ন করবে কি না—তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের অস্থিরতার কারণেই মূল সংকটটি তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হয়ে এলে সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ইতিমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের জ্বালানিবাহী বিমান দেশে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের অস্থিরতার প্রভাব দেশীয় বাজারেও কিছুটা পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকট সাময়িক। সরকার বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দরিদ্র মানুষের জন্য ভিজিএফ (VGF) কার্ডের চাল বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করা হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হলেও সরকারের খাদ্যসহায়ক কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ৯৮৪টি তদারকি অভিযান চালিয়েছে। তবে শুধু অভিযান চালানোই বাজার নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো বাজারে সরবরাহের ঘাটতি মেটানো। 

রাজনৈতিক পরিবেশ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও যারা অপরাধ করে পালিয়ে গেছেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন। দেশে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যেও কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না; উল্টো দলটির শীর্ষ নেত্রী প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই এবং এই আবেদন তাদের পক্ষ থেকেই প্রথম আসতে হবে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারি দলের কেউ জড়িত নেই—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তবে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, সরকার কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহীর অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখেই তিস্তা প্রকল্পে সিদ্ধান্ত: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ নিজের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রেখে তিস্তা নদীর সমন্বিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এই প্রকল্পে সরকার দেশের সার্বিক কল্যাণকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পে অর্থায়নের ধরন কী হবে কিংবা চীন এতে অর্থায়ন করবে কি না—তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো আসেনি। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতের অস্থিরতার কারণেই মূল সংকটটি তৈরি হয়েছে। তবে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হয়ে এলে সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ইতিমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম পর্যায়ের জ্বালানিবাহী বিমান দেশে পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের অস্থিরতার প্রভাব দেশীয় বাজারেও কিছুটা পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংকট সাময়িক। সরকার বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দরিদ্র মানুষের জন্য ভিজিএফ (VGF) কার্ডের চাল বরাদ্দ ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করা হয়েছে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হলেও সরকারের খাদ্যসহায়ক কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ৯৮৪টি তদারকি অভিযান চালিয়েছে। তবে শুধু অভিযান চালানোই বাজার নিয়ন্ত্রণের একমাত্র সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো বাজারে সরবরাহের ঘাটতি মেটানো। 

রাজনৈতিক পরিবেশ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও যারা অপরাধ করে পালিয়ে গেছেন, তাদের বিষয়টি ভিন্ন। দেশে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যেও কোনো অনুশোচনা দেখা যাচ্ছে না; উল্টো দলটির শীর্ষ নেত্রী প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই এবং এই আবেদন তাদের পক্ষ থেকেই প্রথম আসতে হবে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরকারি দলের কেউ জড়িত নেই—এমন দাবি করা হচ্ছে না। তবে অপরাধী যে-ই হোক না কেন, সরকার কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহীর অপ্রীতিকর ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল