সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘পুরো ইউরোপে নতুন করে ৭২ ঘণ্টার খাবার, পানি ও ওষুধ মজুতের বাধ্যতামূলক নির্দেশ’ সম্পর্কিত খবরটিকে বিভ্রান্তিকর ও গুঞ্জন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাস্তবে ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো হঠাৎ নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি, বরং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সক্ষম রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্বঘোষিত একটি সাধারণ নাগরিক নীতি এটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ নামে একটি সমন্বিত প্রস্তুতি কৌশল গ্রহণ করে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল বড় ধরনের কোনো বন্যা, দাবানল, সাইবার হামলা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা প্রযুক্তিগত সংকট দেখা দিলে প্রথম ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যেন নিজেদের মৌলিক চাহিদা নিজেরাই মেটাতে পারেন। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনের নিরাপত্তা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নেট দুনিয়ায় নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এই নীতি দীর্ঘদিন ধরেই বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। ফরাসি সরকার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও তাদের নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক নির্দেশিকা হালনাগাদ করে প্রতি ব্যক্তির জন্য ৬ লিটার পানীয় পানি, শুকনো খাবার, নিয়মিত ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চলাইট, রেডিও ও প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ মজুত রাখার পরামর্শ বহাল রেখেছে। বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতেও ডিজিটাল লেনদেন অচল হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ সাথে রাখা এবং ৭২ ঘণ্টার মৌলিক প্রস্তুতি নেওয়ার সাধারণ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বার্তা কোনো যুদ্ধের নির্দিষ্ট আগাম সতর্কবার্তা কিংবা হঠাৎ জারিকৃত আইনি আদেশ নয়। যেকোনো আকস্মিক বিপর্যয়ে সরকারি সেবা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ যেন শুরুর তিন দিন নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই সাধারণ নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘পুরো ইউরোপে নতুন করে ৭২ ঘণ্টার খাবার, পানি ও ওষুধ মজুতের বাধ্যতামূলক নির্দেশ’ সম্পর্কিত খবরটিকে বিভ্রান্তিকর ও গুঞ্জন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাস্তবে ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো হঠাৎ নতুন কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি, বরং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের সক্ষম রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্বঘোষিত একটি সাধারণ নাগরিক নীতি এটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ নামে একটি সমন্বিত প্রস্তুতি কৌশল গ্রহণ করে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য ছিল বড় ধরনের কোনো বন্যা, দাবানল, সাইবার হামলা, বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা প্রযুক্তিগত সংকট দেখা দিলে প্রথম ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত নাগরিকরা যেন নিজেদের মৌলিক চাহিদা নিজেরাই মেটাতে পারেন। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েনের নিরাপত্তা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নেট দুনিয়ায় নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এই নীতি দীর্ঘদিন ধরেই বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। ফরাসি সরকার ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও তাদের নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক নির্দেশিকা হালনাগাদ করে প্রতি ব্যক্তির জন্য ৬ লিটার পানীয় পানি, শুকনো খাবার, নিয়মিত ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চলাইট, রেডিও ও প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ মজুত রাখার পরামর্শ বহাল রেখেছে। বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতেও ডিজিটাল লেনদেন অচল হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ অর্থ সাথে রাখা এবং ৭২ ঘণ্টার মৌলিক প্রস্তুতি নেওয়ার সাধারণ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বার্তা কোনো যুদ্ধের নির্দিষ্ট আগাম সতর্কবার্তা কিংবা হঠাৎ জারিকৃত আইনি আদেশ নয়। যেকোনো আকস্মিক বিপর্যয়ে সরকারি সেবা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ যেন শুরুর তিন দিন নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন—সেই লক্ষ্যেই সাধারণ নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন