কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (ইউইউভি) বা সাবমেরিন ড্রোন সফলভাবে আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। প্রযুক্তি জগতে 'ঘোস্ট সাব' নামে পরিচিত প্রায় আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চালকহীন ড্রোনটি অক্ষত অবস্থায় পানি থেকে তোলার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে তেহরান একে নিজেদের বড় সামরিক ও গোয়েন্দা সাফল্য হিসেবে দেখছে।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) এবং আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত জলযানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল'-এর তৈরি 'ডাইভ-এলডি' (Anduril Dive-LD) মডেলের একটি লার্জ ডায়ামিটার অটোনোমাস সাবমেরিন। প্রায় ৫.৮ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৩ টন ওজনের এই অটোনোমাস ড্রোনটি সমুদ্রের ৬,০০০ মিটার গভীরে টানা ১০ দিন নির্বিঘ্নে সংবেদনশীল মিশন চালাতে সক্ষম। এটি মূলত সমুদ্রতলের মাইন শনাক্তকরণ, সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেবল ও পাইপলাইনের ওপর উচ্চমানের নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ইরানি নৌবাহিনী একে বড় ধরনের গোয়েন্দা বিজয় বলে দাবি করলেও মার্কিন পেন্টাগন ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ঘটনার তাৎপর্য কিছুটা খর্ব করার চেষ্টা করেছে। মার্কিন সামরিক মুখপাত্র জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে ড্রোনটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ও বিকল ('ডেড ইন দ্য ওয়াটার') হয়ে ভাসছিল। এতে কোনো স্পর্শকাতর রাডার, গোপন তথ্য বা ক্লাসিফাইড ডেটা ছিল না এবং বিপজ্জনক পরিবেশে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা এই সাধারণ প্রোটোটাইপ হারানো মার্কিন অপারেশনে কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি করে ওয়াশিংটন।
পেন্টাগন অগভীর কিংবা সাধারণ ড্রোন দাবি করলেও ইউএস নেভিতে মাত্র ১৬-১৭ মাস আগে যুক্ত হওয়া এই অত্যাধুনিক সিস্টেম ইরানের হাতে পড়ার ঘটনাকে বেশ সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকরা। সমুদ্রতলে নিখুঁত সাবমেরিন যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির কাঠামো বিশ্লেষণ বা 'রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং' করার সুযোগ পেলে তা ইরানের নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের মাঝে এই ঘটনা মার্কিন-ইরান বৈরী সম্পর্ককে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল (ইউইউভি) বা সাবমেরিন ড্রোন সফলভাবে আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। প্রযুক্তি জগতে 'ঘোস্ট সাব' নামে পরিচিত প্রায় আড়াই থেকে তিন মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই চালকহীন ড্রোনটি অক্ষত অবস্থায় পানি থেকে তোলার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে তেহরান একে নিজেদের বড় সামরিক ও গোয়েন্দা সাফল্য হিসেবে দেখছে।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) এবং আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, আটককৃত জলযানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল'-এর তৈরি 'ডাইভ-এলডি' (Anduril Dive-LD) মডেলের একটি লার্জ ডায়ামিটার অটোনোমাস সাবমেরিন। প্রায় ৫.৮ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৩ টন ওজনের এই অটোনোমাস ড্রোনটি সমুদ্রের ৬,০০০ মিটার গভীরে টানা ১০ দিন নির্বিঘ্নে সংবেদনশীল মিশন চালাতে সক্ষম। এটি মূলত সমুদ্রতলের মাইন শনাক্তকরণ, সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ কেবল ও পাইপলাইনের ওপর উচ্চমানের নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ইরানি নৌবাহিনী একে বড় ধরনের গোয়েন্দা বিজয় বলে দাবি করলেও মার্কিন পেন্টাগন ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই ঘটনার তাৎপর্য কিছুটা খর্ব করার চেষ্টা করেছে। মার্কিন সামরিক মুখপাত্র জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে ড্রোনটি ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ও বিকল ('ডেড ইন দ্য ওয়াটার') হয়ে ভাসছিল। এতে কোনো স্পর্শকাতর রাডার, গোপন তথ্য বা ক্লাসিফাইড ডেটা ছিল না এবং বিপজ্জনক পরিবেশে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা এই সাধারণ প্রোটোটাইপ হারানো মার্কিন অপারেশনে কোনো বড় প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি করে ওয়াশিংটন।
পেন্টাগন অগভীর কিংবা সাধারণ ড্রোন দাবি করলেও ইউএস নেভিতে মাত্র ১৬-১৭ মাস আগে যুক্ত হওয়া এই অত্যাধুনিক সিস্টেম ইরানের হাতে পড়ার ঘটনাকে বেশ সংবেদনশীল বলে মনে করছেন বৈশ্বিক সামরিক বিশ্লেষকরা। সমুদ্রতলে নিখুঁত সাবমেরিন যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির কাঠামো বিশ্লেষণ বা 'রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং' করার সুযোগ পেলে তা ইরানের নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। হরমুজ প্রণালিতে চলমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের মাঝে এই ঘটনা মার্কিন-ইরান বৈরী সম্পর্ককে আরও জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন