দিকপাল

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়নে এডিবির ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:২৭ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়নে এডিবির ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। 'সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস প্রজেক্ট'-এর আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ২৬টি প্রত্যন্ত উপজেলায় বিদ্যমান বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে, যার ফলে অতিরিক্ত অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার সরাসরি বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।

ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতায়নের হার অনেক কম। খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় রয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিড বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতাবিশিষ্ট ৬টি নতুন ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে। এছাড়া পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন, ৪টি উপকেন্দ্র, ১টি সুইচিং স্টেশন ও ১টি জোনাল মেরামত কারখানা আধুনিক রূপ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সৌর ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ার যুক্ত করার উপযোগিতার পাশাপাশি ২০টি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সৌর ব্যাকআপ এবং ৩০টি এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

প্রকল্পটি বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে অন্তত ১ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে পেশাগত প্রশিক্ষণ, ২০০টির বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিকভাবে নারীদের অংশীদারত্ব বাড়াতে নিরাপদ পানি ব্যবস্থার পরিচালনা পর্ষদে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখা এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এডিবির ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি এতে জাপান সরকার ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করবে। এর বাইরে বাংলাদেশ সরকার ৩৬ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৪৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক জোগান দেবে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং জানান, এই বিদ্যুৎ সুবিধা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ উন্নয়নে এডিবির ১৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণে ১৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। 'সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস প্রজেক্ট'-এর আওতায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের অধীনে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার ২৬টি প্রত্যন্ত উপজেলায় বিদ্যমান বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে, যার ফলে অতিরিক্ত অন্তত ৮৮ হাজার পরিবার সরাসরি বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।

ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুতায়নের হার অনেক কম। খাগড়াছড়িতে ৪৯ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে মাত্র ৪১ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় রয়েছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩২ সালের মধ্যে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে গ্রিড বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতাবিশিষ্ট ৬টি নতুন ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন স্থাপন করা হবে। এছাড়া পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন, ৪টি উপকেন্দ্র, ১টি সুইচিং স্টেশন ও ১টি জোনাল মেরামত কারখানা আধুনিক রূপ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সৌর ও পিকো-হাইড্রোপাওয়ার যুক্ত করার উপযোগিতার পাশাপাশি ২০টি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সৌর ব্যাকআপ এবং ৩০টি এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

প্রকল্পটি বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি আঞ্চলিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে অন্তত ১ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে পেশাগত প্রশিক্ষণ, ২০০টির বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিকভাবে নারীদের অংশীদারত্ব বাড়াতে নিরাপদ পানি ব্যবস্থার পরিচালনা পর্ষদে অন্তত ৩০ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রাখা এবং শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এডিবির ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের পাশাপাশি এতে জাপান সরকার ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রদান করবে। এর বাইরে বাংলাদেশ সরকার ৩৬ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৪৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক জোগান দেবে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং জানান, এই বিদ্যুৎ সুবিধা পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে কাজ করবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল