বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারিংয়ে চরম পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করতে সরাসরি থানায় হাজির হয়েছেন নোয়াখালীর এক যুবক। তাঁর দাবি, ম্যাচে রেফারির অন্যায্য সিদ্ধান্তের কারণে মিশরের ওপর চরম অবিচার করা হয়েছে এবং এর বিচার হওয়া দরকার। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার সুধারাম মডেল থানায় এই অদ্ভুত অভিযোগ নিয়ে হাজির হন মো. রাকিব (২২) নামের ওই যুবক। তিনি উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা।
তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনি এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় পুলিশ তাঁর লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের রেফারিং বিতর্ক নিয়ে থানায় মামলা করতে আসার এমন ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রথমে বেশ বিস্মিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগকারী রাকিবের লিখিত এজাহার অনুযায়ী, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিট পর তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিশর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিশর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিশরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিশর দলের খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিশর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক যুবক এমন একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাঁকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে মো. রাকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাচে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি মনে করি, কোটি কোটি দর্শকের আবেগের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, তাই আমি এখন আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করব।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মজা করে মন্তব্য করছেন, ‘ভিএআর (VAR) যদি কথা না শোনে, তাহলে নোয়াখালীর থানাই এখন শেষ ভরসা!’

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচে রেফারিংয়ে চরম পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করতে সরাসরি থানায় হাজির হয়েছেন নোয়াখালীর এক যুবক। তাঁর দাবি, ম্যাচে রেফারির অন্যায্য সিদ্ধান্তের কারণে মিশরের ওপর চরম অবিচার করা হয়েছে এবং এর বিচার হওয়া দরকার। গত বুধবার (৮ জুলাই) রাতে নোয়াখালী সদর উপজেলার সুধারাম মডেল থানায় এই অদ্ভুত অভিযোগ নিয়ে হাজির হন মো. রাকিব (২২) নামের ওই যুবক। তিনি উপজেলার মান্দারতলী গ্রামের বাসিন্দা।
তবে বিষয়টি স্থানীয় থানার আইনি এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় পুলিশ তাঁর লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের রেফারিং বিতর্ক নিয়ে থানায় মামলা করতে আসার এমন ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা প্রথমে বেশ বিস্মিত হয়ে পড়েন।
অভিযোগকারী রাকিবের লিখিত এজাহার অনুযায়ী, ম্যাচের ১৪তম মিনিটে মিশর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিট পর তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিশর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিশর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিশরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিশরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিশর দলের খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।
বাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিশর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক যুবক এমন একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংক্রান্ত এ ধরনের বিষয়ে স্থানীয় থানার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। বিষয়টি তাঁকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে।
এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে মো. রাকিব গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাচে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি মনে করি, কোটি কোটি দর্শকের আবেগের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, তাই আমি এখন আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করব।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মজা করে মন্তব্য করছেন, ‘ভিএআর (VAR) যদি কথা না শোনে, তাহলে নোয়াখালীর থানাই এখন শেষ ভরসা!’

আপনার মতামত লিখুন