দিকপাল

শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ | ১১:৫১ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পবিত্র নগরী কোমে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী তেহরানে স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম গণমিছিল ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার রাতে হেলিকপ্টারযোগে খামেনির মরদেহ শিয়া সম্প্রদায়ের অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহাসিক এই নগরীতে নিয়ে আসা হয়। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই কোমের সড়কগুলোতে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।

কোমের ঐতিহাসিক ‘জামকারান মসজিদ’ প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের অন্য চার সদস্যের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মানুষ হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপস্থিত জনতা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। কোমের আচার-অনুষ্ঠান শেষে তাঁর কফিন ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বাবার জানাজাতেও তাঁর অনুপস্থিতি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যে বিমান হামলায় তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন, সেই একই হামলায় তিনিও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি নিজেও মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে যাতে দুর্বলতার কোনো প্রকাশ না ঘটে, সেজন্যই সম্ভবত তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি বা অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অংশ হিসেবে পবিত্র নগরী কোমে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী তেহরানে স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম গণমিছিল ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সোমবার রাতে হেলিকপ্টারযোগে খামেনির মরদেহ শিয়া সম্প্রদায়ের অত্যন্ত পবিত্র ও ঐতিহাসিক এই নগরীতে নিয়ে আসা হয়। আজ মঙ্গলবার ভোর থেকেই কোমের সড়কগুলোতে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।

কোমের ঐতিহাসিক ‘জামকারান মসজিদ’ প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তাঁর সঙ্গে নিহত পরিবারের অন্য চার সদস্যের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ মানুষ হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপস্থিত জনতা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। কোমের আচার-অনুষ্ঠান শেষে তাঁর কফিন ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বাবার জানাজাতেও তাঁর অনুপস্থিতি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যে বিমান হামলায় তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিহত হন, সেই একই হামলায় তিনিও গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি নিজেও মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে যাতে দুর্বলতার কোনো প্রকাশ না ঘটে, সেজন্যই সম্ভবত তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি বা অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল