চলতি বছর বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারের সমন্বিত জাতীয় তেল ও গ্যাস করপোরেশন ‘কাতারএনার্জি’। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থল ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মূল কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা ইতিমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে বেশি পরিমাণে এলএনজি কেনা হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য এলএনজি উৎপাদনকারী দেশের সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুবিধাজনক বাণিজ্যিক বিকল্পটিই বেছে নেওয়া হবে।”
তবে নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার এবং বাংলাদেশে আমদানি হওয়া এলএনজির সবচেয়ে বড় ও প্রধান সরবরাহকারীও তারা। গত বছর বাংলাদেশ সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছিল, যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ টনই এসেছিল কাতার থেকে। বর্তমানে কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চালু রয়েছে; যার একটির আওতায় বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় বছরে ১৮ লাখ টন এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহ করার কথা।
জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি বছরের প্রথম দিকে কাতার থেকে ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের ‘রাস লাফান’ রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো নতুন এলএনজি কার্গো আসেনি।
ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের তীব্র চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে বিকল্প চালান কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি নামক আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই সংবেদনশীল নৌপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
চলতি বছর বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারের সমন্বিত জাতীয় তেল ও গ্যাস করপোরেশন ‘কাতারএনার্জি’। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের সংযোগস্থল ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এই সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের মূল কারণ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ। সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা ইতিমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে বেশি পরিমাণে এলএনজি কেনা হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য এলএনজি উৎপাদনকারী দেশের সরকারের সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুবিধাজনক বাণিজ্যিক বিকল্পটিই বেছে নেওয়া হবে।”
তবে নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার এবং বাংলাদেশে আমদানি হওয়া এলএনজির সবচেয়ে বড় ও প্রধান সরবরাহকারীও তারা। গত বছর বাংলাদেশ সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছিল, যার মধ্যে সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ টনই এসেছিল কাতার থেকে। বর্তমানে কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চালু রয়েছে; যার একটির আওতায় বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় বছরে ১৮ লাখ টন এলএনজি বাংলাদেশে সরবরাহ করার কথা।
জ্বালানি বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি বছরের প্রথম দিকে কাতার থেকে ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের ‘রাস লাফান’ রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো নতুন এলএনজি কার্গো আসেনি।
ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের তীব্র চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে বিকল্প চালান কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। গত মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি নামক আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই সংবেদনশীল নৌপথে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আপনার মতামত লিখুন