বিশ্বকাপ অভিযানে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিফার এক আকস্মিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাঠে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় তাঁকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনকল এবং ফিফা প্রধানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা ও কূটনৈতিক ঝড় উঠেছে।
বসনিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বালোগুনকে। দলের শীর্ষ গোলদাতাকে হারিয়ে মন্ট্রিল ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়ার শঙ্কায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে ফিফা আকস্মিক এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তাদের শৃঙ্খলা বিধিমালার বিশেষ ধারা বা অনুচ্ছেদ ২৭ প্রয়োগ করে বালোগুনের লাল কার্ডের এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছে। ফিফার এই সিদ্ধান্তে মার্কিন শিবিরে স্বস্তি ফিরলেও ফুটবল বিশ্ব হতবাক হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, “ফিফাকে ধন্যবাদ, তারা যা সঠিক তাই করেছে এবং একটি বড় অন্যায় ঘোচিয়েছে।”
ফিফার এই আকস্মিক পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেলজিয়াম ফুটবল দল। দলটির প্রধান কোচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, তারা ফুটবলের সততা, ঐতিহ্য ও মাঠের ন্যায্যতা রক্ষায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। ফুটবলার, বিশ্লেষক ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই ফিফা এই নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিয়েছে, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নগ্ন রাজনীতিকরণের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা প্রধানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আগে থেকেই নানা সমালোচনা চলছিল। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শান্তি সম্মেলনে ফিফা কর্তাকে ট্রাম্পের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে এবং ট্রাম্পকে একটি বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ও দেওয়া হয়েছিল। এবারের ঘটনাটি সেই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফিফা তাদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় জানিয়েছে যে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বিধি মোতাবেক নেওয়া হয়েছে, তবে সচেতন মহল এটিকে ফিফার ওপর মার্কিন ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা বলেই মনে করছেন।
আপাতত তারকা ফুটবলার ফোলারিন বালোগুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার ছাড়পত্র পেলেন। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলমান বিশ্বকাপের আগামী প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে এখন ফিফার এই নেতিবাচক উদাহরণের দাঁড়িপাল্লায় পরিমাপ করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের জৌলুস ও বিশ্বস্ততায় একটি স্থায়ী কালো দাগ ফেলে দিল।

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ অভিযানে বড় ধরনের ধাক্কা এড়ালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফিফার এক আকস্মিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাঠে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন দলটির তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুন। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় তাঁকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনকল এবং ফিফা প্রধানের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা ও কূটনৈতিক ঝড় উঠেছে।
বসনিয়ার বিপক্ষে গত ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বালোগুনকে। দলের শীর্ষ গোলদাতাকে হারিয়ে মন্ট্রিল ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়ার শঙ্কায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে ফিফা আকস্মিক এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তাদের শৃঙ্খলা বিধিমালার বিশেষ ধারা বা অনুচ্ছেদ ২৭ প্রয়োগ করে বালোগুনের লাল কার্ডের এই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছে। ফিফার এই সিদ্ধান্তে মার্কিন শিবিরে স্বস্তি ফিরলেও ফুটবল বিশ্ব হতবাক হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, “ফিফাকে ধন্যবাদ, তারা যা সঠিক তাই করেছে এবং একটি বড় অন্যায় ঘোচিয়েছে।”
ফিফার এই আকস্মিক পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেলজিয়াম ফুটবল দল। দলটির প্রধান কোচ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, তারা ফুটবলের সততা, ঐতিহ্য ও মাঠের ন্যায্যতা রক্ষায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন। ফুটবলার, বিশ্লেষক ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই ফিফা এই নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিয়েছে, যা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নগ্ন রাজনীতিকরণের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ফিফা প্রধানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আগে থেকেই নানা সমালোচনা চলছিল। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শান্তি সম্মেলনে ফিফা কর্তাকে ট্রাম্পের পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে এবং ট্রাম্পকে একটি বিশেষ ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ও দেওয়া হয়েছিল। এবারের ঘটনাটি সেই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফিফা তাদের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় জানিয়েছে যে সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বিধি মোতাবেক নেওয়া হয়েছে, তবে সচেতন মহল এটিকে ফিফার ওপর মার্কিন ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ আড়ালের ব্যর্থ চেষ্টা বলেই মনে করছেন।
আপাতত তারকা ফুটবলার ফোলারিন বালোগুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার ছাড়পত্র পেলেন। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চলমান বিশ্বকাপের আগামী প্রতিটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে এখন ফিফার এই নেতিবাচক উদাহরণের দাঁড়িপাল্লায় পরিমাপ করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপের জৌলুস ও বিশ্বস্ততায় একটি স্থায়ী কালো দাগ ফেলে দিল।

আপনার মতামত লিখুন