দিকপাল

ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া যুবদল নেতা লিটু গ্রেপ্তার


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৫২ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া যুবদল নেতা লিটু গ্রেপ্তার

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে নির্মমভাবে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের 'টপ টেন' নামক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদার শনিবার রাতে তার কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয় এবং শহরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সরাসরি এমডিকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আব্দুল আজিজের অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক এবং একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের শিকার আজিজ 'বাচ্চু, বাচ্চু' বলে চিৎকার করলে অন্য এক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালান, তবে লিটুর সহযোগীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবিও তুলে রাখে অভিযুক্তরা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়কে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। লিটু নিজে নগরীতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে এলাকায় গুঞ্জন থাকলেও আজ দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। দলীয় নেতাদের দাবি, লিটু যুবদলের কোনো ওয়ার্ড কমিটিরও সদস্য নন এবং দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।


ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তবে তার বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে জমি বুঝিয়ে দিয়ে তা বিক্রিও করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই মর্মে লিটুর লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। আজিজের অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার সহযোগীদের নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করে। এরপর জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাংক (সাদা) চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করায় লিটু ও তার চক্র কোনো টাকা উত্তোলন করতে পারেনি। এরপর গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর (এজাহার) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।


গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছিলেন, সেদিন যারা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পরিচালকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা থাকলেও তার আগেই লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতের মামলার বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন। আদালতের আদেশের কপি আজ রোববার থানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬


ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া যুবদল নেতা লিটু গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে নির্মমভাবে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার বেলা ২টার দিকে নগরের সদর রোডের 'টপ টেন' নামক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরের সদর রোডে অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার এমডি আব্দুল আজিজ হাওলাদার শনিবার রাতে তার কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয় এবং শহরজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সরাসরি এমডিকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আব্দুল আজিজের অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক এবং একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের শিকার আজিজ 'বাচ্চু, বাচ্চু' বলে চিৎকার করলে অন্য এক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালান, তবে লিটুর সহযোগীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেক ও স্ট্যাম্প হস্তান্তরের ছবিও তুলে রাখে অভিযুক্তরা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়কে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। লিটু নিজে নগরীতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে এলাকায় গুঞ্জন থাকলেও আজ দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। দলীয় নেতাদের দাবি, লিটু যুবদলের কোনো ওয়ার্ড কমিটিরও সদস্য নন এবং দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।


ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের অংশীদার ছিলেন। তবে তার বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে জমি বুঝিয়ে দিয়ে তা বিক্রিও করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই মর্মে লিটুর লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। আজিজের অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার সহযোগীদের নিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে মারধর করে। এরপর জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাংক (সাদা) চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করায় লিটু ও তার চক্র কোনো টাকা উত্তোলন করতে পারেনি। এরপর গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর (এজাহার) হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।


গ্রেপ্তার হওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেছিলেন, সেদিন যারা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তারা সবাই ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে এ বিষয়ে পরিচালকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা থাকলেও তার আগেই লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ শনিবার রাতে থানায় এসে আদালতের মামলার বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন। আদালতের আদেশের কপি আজ রোববার থানায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল