ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেশটির সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং আবেগঘন শোকপ্রকাশ দেখে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ধারণা অনুযায়ী ভেবেছিলাম খামেনিকে ইরানের জনগণ ঘৃণা করে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া একটি বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (৫ জুলাই) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একদিকে যেমন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত শোকের চিত্র দেখে নিজের ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, অন্যদিকে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিতেও ছাড়েননি। তিনি দাবি করেন, মাত্র এক আঘাতেই তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেন।
অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন "ওরা সবাই ওখানে (জানাজায়) জড়ো হয়েছে। এক গুলিতেই আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না, কারণ তখন আলোচনার জন্য আমাদের আর কেউ থাকবে না। ওরা মূলত একটি চুক্তির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জানাজার অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের গুলিবর্ষণ বা সামরিক হামলা চালাবে না।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।
ইসলামী শরিয়াহ আইন অনুযায়ী সাধারণত মৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। গত মার্চ মাস থেকেই তার জানাজার সময়সূচী নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
অবশেষে ইরান খামেনির জানাজার জন্য বেছে নেয় ৪ জুলাই দিনটি, যা কাকতালীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (স্বাধীনতা দিবস)। দেশটির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোমে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই খামেনির নিজ শহর, উত্তর-পূর্বের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে।
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বর্তমানে দেশটির লাখ লাখ সাধারণ মানুষ রাস্তায় সমবেত হয়েছেন, যা এই অনুষ্ঠানটিকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও বৃহৎ জমায়েতে পরিণত করেছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতাদের অশ্রুসিক্ত চোখে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানে দেশটির সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং আবেগঘন শোকপ্রকাশ দেখে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ধারণা অনুযায়ী ভেবেছিলাম খামেনিকে ইরানের জনগণ ঘৃণা করে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া একটি বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। রোববার (৫ জুলাই) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প একদিকে যেমন জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত শোকের চিত্র দেখে নিজের ধারণা ভুল প্রমাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, অন্যদিকে ইরানকে নতুন করে হুমকি দিতেও ছাড়েননি। তিনি দাবি করেন, মাত্র এক আঘাতেই তিনি দেশটির অবশিষ্ট নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারেন।
অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন "ওরা সবাই ওখানে (জানাজায়) জড়ো হয়েছে। এক গুলিতেই আমরা ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না, কারণ তখন আলোচনার জন্য আমাদের আর কেউ থাকবে না। ওরা মূলত একটি চুক্তির জন্য কাকুতি-মিনতি করছে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার যৌথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জানাজার অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো পক্ষই একে অপরের ওপর কোনো ধরনের গুলিবর্ষণ বা সামরিক হামলা চালাবে না।
দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।
ইসলামী শরিয়াহ আইন অনুযায়ী সাধারণত মৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাফন করার নিয়ম থাকলেও, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। গত মার্চ মাস থেকেই তার জানাজার সময়সূচী নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
অবশেষে ইরান খামেনির জানাজার জন্য বেছে নেয় ৪ জুলাই দিনটি, যা কাকতালীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (স্বাধীনতা দিবস)। দেশটির সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোমে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই খামেনির নিজ শহর, উত্তর-পূর্বের পবিত্র শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করার মাধ্যমে এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটবে।
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বর্তমানে দেশটির লাখ লাখ সাধারণ মানুষ রাস্তায় সমবেত হয়েছেন, যা এই অনুষ্ঠানটিকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও বৃহৎ জমায়েতে পরিণত করেছে। গত শনিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ নেতাদের অশ্রুসিক্ত চোখে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন