বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের প্রথম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম পেনাল্টি শুটআউটে হারের স্বাদ পেল জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখালেও আক্রমণভাগে তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। উল্টো ম্যাচের প্রথমার্ধে জার্মানির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। স্ট্র্যাসবুর্গের মিডফিল্ডার হুলিও এনসিসো পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ডি-বক্সে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভাঙতে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। অবশেষে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন কাই হাভার্টজ। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের ডিফেন্স চেরা ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে জার্মানিকে ১-১ সমতায় ফেরান আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেড করে বল জালে পাঠান জার্মানির জোনাথান তাহ। কিন্তু গোল উদযাপনের পরপরই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ফাউলের ইঙ্গিত দেন। রেফারি জালাল জায়েদ ভিডিও রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, বল বাতাসে থাকা অবস্থায় জার্মানির ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ধাক্কা দিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারের শুরুতেই জার্মানির ওপর চাপ চেপে বসে। দলটির প্রথম পেনাল্টি শট নিতে এসে মিস করেন কাই হাভার্টজ, তার শটটি ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এরপর জার্মানির নিক ভোল্টমেডের শটটিও আটকে দিয়ে প্যারাগুয়েকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান গিল। শেষ শটে প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া গোল করলেই জয় নিশ্চিত—এমন সমীকরণে তিনি বল পোস্টের বাইরে মারলে জার্মানি সাময়িক আশা ফিরে পায়। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয়োল্লাসে মাতে প্যারাগুয়ে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) জার্মানির মতো পরাশক্তিকে হারানো প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডিফেন্সিভ ও কমপ্যাক্ট ফুটবল খেলে নজর কেড়েছিল তারা। অন্যদিকে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে জার্মানির টানা ব্যর্থতা এই হারের মাধ্যমে আরও দীর্ঘায়িত হলো। বিশেষ করে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির ঐতিহ্যগত যে অপরাজেয় রেকর্ড ছিল, তা আজ যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর মাঠে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের প্রথম রোমাঞ্চকর ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণী পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম পেনাল্টি শুটআউটে হারের স্বাদ পেল জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই জার্মানি বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য দেখালেও আক্রমণভাগে তেমন সুবিধা করতে পারছিল না। উল্টো ম্যাচের প্রথমার্ধে জার্মানির রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। স্ট্র্যাসবুর্গের মিডফিল্ডার হুলিও এনসিসো পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় ডি-বক্সে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণ ভাঙতে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। অবশেষে ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন কাই হাভার্টজ। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের ডিফেন্স চেরা ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত এক হেডে জার্মানিকে ১-১ সমতায় ফেরান আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে হেড করে বল জালে পাঠান জার্মানির জোনাথান তাহ। কিন্তু গোল উদযাপনের পরপরই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ফাউলের ইঙ্গিত দেন। রেফারি জালাল জায়েদ ভিডিও রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, বল বাতাসে থাকা অবস্থায় জার্মানির ভালদেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে ধাক্কা দিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারের শুরুতেই জার্মানির ওপর চাপ চেপে বসে। দলটির প্রথম পেনাল্টি শট নিতে এসে মিস করেন কাই হাভার্টজ, তার শটটি ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এরপর জার্মানির নিক ভোল্টমেডের শটটিও আটকে দিয়ে প্যারাগুয়েকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান গিল। শেষ শটে প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া গোল করলেই জয় নিশ্চিত—এমন সমীকরণে তিনি বল পোস্টের বাইরে মারলে জার্মানি সাময়িক আশা ফিরে পায়। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয়োল্লাসে মাতে প্যারাগুয়ে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২) জার্মানির মতো পরাশক্তিকে হারানো প্যারাগুয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এর আগে গ্রুপ পর্বে তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ডিফেন্সিভ ও কমপ্যাক্ট ফুটবল খেলে নজর কেড়েছিল তারা। অন্যদিকে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে নকআউট পর্বে জার্মানির টানা ব্যর্থতা এই হারের মাধ্যমে আরও দীর্ঘায়িত হলো। বিশেষ করে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির ঐতিহ্যগত যে অপরাজেয় রেকর্ড ছিল, তা আজ যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবোরোর মাঠে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

আপনার মতামত লিখুন