দিকপাল

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ | ০৪:৪৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তির আওতায় ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যকে ইরানি জনগণের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

সোমবার (২৯ জুন) ইরানের পবিত্র কোম শহর সফরে গিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দফায় ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ঐতিহাসিক ও বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডারদের পাশাপাশি সাধারণ স্কুলশিক্ষার্থীরাও দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিল।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল যে তীব্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু সাধারণ জনগণের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধে তাদের সেই হিসাব সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এই অবস্থান এখনো কঠোরভাবে বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও ঘোষিত শান্তিপূর্ণ নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু পশ্চিমা বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের মহাপরিকল্পনা শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তির আওতায় ইরানের জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যকে ইরানি জনগণের জন্য একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

সোমবার (২৯ জুন) ইরানের পবিত্র কোম শহর সফরে গিয়ে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এসব তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম দফায় ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আলোকে এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান পেজেশকিয়ান। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ঐতিহাসিক ও বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডারদের পাশাপাশি সাধারণ স্কুলশিক্ষার্থীরাও দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিল।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে অভ্যন্তরীণভাবে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল যে তীব্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু সাধারণ জনগণের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধে তাদের সেই হিসাব সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এই অবস্থান এখনো কঠোরভাবে বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও ঘোষিত শান্তিপূর্ণ নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু পশ্চিমা বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের মহাপরিকল্পনা শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল