দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে। টানা দুই কার্যদিবস কমার পর এবার এক ধাক্কায় ভরিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের মূল্যের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই চড়া দাম সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ Shack৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন ও মান অনুযায়ী এর সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি যোগ হবে। বাজুস স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণালঙ্কারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে আর কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
স্বর্ণের পাশাপাশি আজ থেকে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম পড়বে ২ লাখ ৮৫৮ টাকা।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ২৫ জুন বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি উবে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের লাফ দিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৮২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৪১ বার দাম বেড়েছে এবং ৪০ বার কমেছে। এর আগে ২০২৫ সালেও রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দামের হেরফের হয়েছিল। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ কম থাকায় অলঙ্কারের বাজারে এমন লাগামহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে। টানা দুই কার্যদিবস কমার পর এবার এক ধাক্কায় ভরিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের মূল্যের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এই চড়া দাম সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দামেই স্বর্ণ বিক্রি করতে হবে।
বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ Shack৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন ও মান অনুযায়ী এর সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি যোগ হবে। বাজুস স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণালঙ্কারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে আর কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
স্বর্ণের পাশাপাশি আজ থেকে দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে সর্বোচ্চ ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম পড়বে ২ লাখ ৮৫৮ টাকা।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই ওঠানামা এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ২৫ জুন বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়েছিল। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সেই ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি উবে গিয়ে বাজারে বড় ধরনের লাফ দিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে রেকর্ড ৮২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো, যার মধ্যে ৪১ বার দাম বেড়েছে এবং ৪০ বার কমেছে। এর আগে ২০২৫ সালেও রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দামের হেরফের হয়েছিল। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ কম থাকায় অলঙ্কারের বাজারে এমন লাগামহীন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন