দিকপাল

বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রই কার্যকর: রাশিয়া


আকাশ মোল্লা
আকাশ মোল্লা স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ | ১০:১৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রই কার্যকর: রাশিয়া

বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো যে ক্রমাগত ভেঙে পড়ছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার মতে, পারমাণবিক অস্ত্রই এখন বিশ্বকে একটি সর্বগ্রাসী বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার একমাত্র কার্যকর প্রতিরক্ষা বা গ্যারান্টি হিসেবে টিকে আছে। মস্কোতে অনুষ্ঠিত এক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক ফোরামে রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এমন মন্তব্য করেছেন। বর্তমান বিশ্বে বহুদেশীয় নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে তার এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

পেসকভ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান পৃথিবীতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যা একটি বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধকে ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অনেক নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরি হতে পারে যা পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই ভয়ংকর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পন্ন। ফলে যুদ্ধের প্রকৃতি এবং সক্ষমতা যে অদূর ভবিষ্যতে আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ ঐতিহাসিক চুক্তিটির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের মোতায়েন করা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০টিতে সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য ছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই চুক্তির ফলে দুই পরমাণু শক্তির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় ছিল। কিন্তু এখন চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, নতুন করে কোনো কার্যকর সমঝোতা না হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই পারমাণবিক শক্তির ওপর এখন আর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই।

চুক্তি নবায়ন বা নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে দুই পক্ষ উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনার জন্য সম্মত হলেও, বাস্তবে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাশিয়া এবং আমেরিকা উভয়ই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। এরই মধ্যে ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন একটি নতুন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বেইজিং এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান হলো, যদি নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হয়, তবে আমেরিকার পরমাণু-সমৃদ্ধ মিত্র দেশ ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও সেই চুক্তির আওতায় আনতে হবে। সার্বিক এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা   ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬


বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে পারমাণবিক অস্ত্রই কার্যকর: রাশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বের বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো যে ক্রমাগত ভেঙে পড়ছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার মতে, পারমাণবিক অস্ত্রই এখন বিশ্বকে একটি সর্বগ্রাসী বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করার একমাত্র কার্যকর প্রতিরক্ষা বা গ্যারান্টি হিসেবে টিকে আছে। মস্কোতে অনুষ্ঠিত এক পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক ফোরামে রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এমন মন্তব্য করেছেন। বর্তমান বিশ্বে বহুদেশীয় নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে তার এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

পেসকভ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান পৃথিবীতে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই যা একটি বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধকে ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অনেক নতুন ধরনের অস্ত্র তৈরি হতে পারে যা পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই ভয়ংকর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা সম্পন্ন। ফলে যুদ্ধের প্রকৃতি এবং সক্ষমতা যে অদূর ভবিষ্যতে আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের সর্বশেষ ঐতিহাসিক চুক্তিটির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হয়ে গেছে। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ তাদের মোতায়েন করা পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজার ৫৫০টিতে সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য ছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই চুক্তির ফলে দুই পরমাণু শক্তির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্য বজায় ছিল। কিন্তু এখন চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়, নতুন করে কোনো কার্যকর সমঝোতা না হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম এই দুই পারমাণবিক শক্তির ওপর এখন আর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই।

চুক্তি নবায়ন বা নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে দুই পক্ষ উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনার জন্য সম্মত হলেও, বাস্তবে এখনো তেমন কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। রাশিয়া এবং আমেরিকা উভয়ই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল। এরই মধ্যে ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পশ্চিমা বিশ্বে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন একটি নতুন চুক্তির জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, বেইজিংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বেইজিং এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান হলো, যদি নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই হয়, তবে আমেরিকার পরমাণু-সমৃদ্ধ মিত্র দেশ ব্রিটেন এবং ফ্রান্সকেও সেই চুক্তির আওতায় আনতে হবে। সার্বিক এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার শঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা   ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল