সিন্ধু নদের পানিবণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। গত ৬৬ বছর ধরে চলে আসা সিন্ধু পানি চুক্তি বর্তমানে বাতিলের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানির ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা সামরিক পথ বেছে নিতেও দ্বিধা করবে না। যদিও তিনি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এখনই যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও উভয় দেশের সরকারি অবস্থান যেভাবে কঠোর হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো বন্ধ না করলে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের পরিকল্পনায় রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অভিমুখে পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ভারত যদি সত্যিই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে তা পাকিস্তানের জন্য এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ কৃষিজমি সেচ সুবিধার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সবকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সরাসরি সিন্ধু নদের পানির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এই দেশে পানির প্রবাহে যেকোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা খাদ্য নিরাপত্তা ও জনজীবনকে স্থবির করে দিতে পারে।
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, ভারত যদি সরাসরি পানি প্রবাহ বন্ধ না করেও কেবল বাঁধের পানির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের কৌশল অবলম্বন করে, তাতেও পাকিস্তান অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেচের প্রয়োজনীয় মৌসুমে পানি আটকে রাখলে পাকিস্তানে তীব্র খরা দেখা দেবে, আবার অসময়ে বা অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে হঠাৎ করে বন্যার কবলে পড়বে দেশটি। চেনাব নদীর পানিপ্রবাহের অস্বাভাবিক হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই পাকিস্তান বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের অনমনীয় মনোভাব সংকটকে জটিলতর করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে মধ্যস্থতার আহ্বান জানানো হলেও, দীর্ঘমেয়াদী এই বিরোধের কোনো সহজ সমাধান আপাতত পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
সিন্ধু নদের পানিবণ্টনকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। গত ৬৬ বছর ধরে চলে আসা সিন্ধু পানি চুক্তি বর্তমানে বাতিলের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানির ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তবে তারা সামরিক পথ বেছে নিতেও দ্বিধা করবে না। যদিও তিনি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এখনই যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন, তবুও উভয় দেশের সরকারি অবস্থান যেভাবে কঠোর হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো বন্ধ না করলে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিলের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের পরিকল্পনায় রয়েছে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যার ফলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অভিমুখে পানির প্রবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। ভারত যদি সত্যিই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তবে তা পাকিস্তানের জন্য এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। দেশটির প্রায় নব্বই শতাংশ কৃষিজমি সেচ সুবিধার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সবকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সরাসরি সিন্ধু নদের পানির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির এই দেশে পানির প্রবাহে যেকোনো ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা খাদ্য নিরাপত্তা ও জনজীবনকে স্থবির করে দিতে পারে।
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, ভারত যদি সরাসরি পানি প্রবাহ বন্ধ না করেও কেবল বাঁধের পানির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের কৌশল অবলম্বন করে, তাতেও পাকিস্তান অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেচের প্রয়োজনীয় মৌসুমে পানি আটকে রাখলে পাকিস্তানে তীব্র খরা দেখা দেবে, আবার অসময়ে বা অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে হঠাৎ করে বন্যার কবলে পড়বে দেশটি। চেনাব নদীর পানিপ্রবাহের অস্বাভাবিক হ্রাস-বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই পাকিস্তান বেশ কয়েকবার ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের অনমনীয় মনোভাব সংকটকে জটিলতর করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই ইস্যুতে মধ্যস্থতার আহ্বান জানানো হলেও, দীর্ঘমেয়াদী এই বিরোধের কোনো সহজ সমাধান আপাতত পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন