তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর গ্রীন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক মিলনায়তনে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমনটি জানিয়েছেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বখ্যাত অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ আরও কয়েকটি বৈশ্বিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ডিজিটাল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তরুণদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষায়িত এই বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা রাখা হয়েছে। এতদিন ধরে বিদেশ থেকে উপার্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে যে জটিল ও ঝামেলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছিল, তা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ বিদেশ থেকে দেশে আনতে কোনো বাড়তি ফরম পূরণের প্রয়োজন হবে না। ছোট অংকের এই লেনদেন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়ার ফলে ফ্রিল্যান্সাররা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে আনতে পারবেন। তবে বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সিমসহ ডিজিটাল সেবাগুলোর খরচ কমিয়ে আনা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তার মতে, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা গেলে প্রশাসনিক দপ্তরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কমবে, যা পরোক্ষভাবে দুর্নীতি কমিয়ে আনবে। সরকারি দপ্তরে ফিজিক্যাল কন্টাক্ট বা সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেবার মান বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়েও অর্থমন্ত্রী আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দেশের বাজারে বড় বড় বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়নমূলক বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষ। বরাদ্দের সংখ্যাতত্ত্ব বা উপাত্তের চেয়ে বড় বিষয় হলো এই বরাদ্দ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটি নিশ্চিত করা। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ দেশের বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজেট বাস্তবায়ন ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর গ্রীন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক মিলনায়তনে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমনটি জানিয়েছেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বখ্যাত অনলাইন পেমেন্ট সেবা প্রতিষ্ঠান পেপ্যালসহ আরও কয়েকটি বৈশ্বিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। ডিজিটাল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তরুণদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, নতুন প্রজন্মের জন্য বিশেষায়িত এই বাজেটে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য কর অব্যাহতি সুবিধা রাখা হয়েছে। এতদিন ধরে বিদেশ থেকে উপার্জিত অর্থ দেশে আনার ক্ষেত্রে যে জটিল ও ঝামেলার দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছিল, তা অনেকটাই শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ বিদেশ থেকে দেশে আনতে কোনো বাড়তি ফরম পূরণের প্রয়োজন হবে না। ছোট অংকের এই লেনদেন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়ার ফলে ফ্রিল্যান্সাররা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে আনতে পারবেন। তবে বড় ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সিমসহ ডিজিটাল সেবাগুলোর খরচ কমিয়ে আনা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তার মতে, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করা গেলে প্রশাসনিক দপ্তরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত কমবে, যা পরোক্ষভাবে দুর্নীতি কমিয়ে আনবে। সরকারি দপ্তরে ফিজিক্যাল কন্টাক্ট বা সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সেবার মান বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া পুঁজিবাজার নিয়েও অর্থমন্ত্রী আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দেশের বাজারে বড় বড় বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়নমূলক বাজেট বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত সাধারণ মানুষ। বরাদ্দের সংখ্যাতত্ত্ব বা উপাত্তের চেয়ে বড় বিষয় হলো এই বরাদ্দ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটি নিশ্চিত করা। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ দেশের বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বাজেট বাস্তবায়ন ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন