দিকপাল

৫০ বছরে প্রথমবার বিদেশিদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান, বদলাচ্ছে ভিসা নীতি


মোঃ রফিকুল ইসলাম
মোঃ রফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ | ১২:২৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

৫০ বছরে প্রথমবার বিদেশিদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান, বদলাচ্ছে ভিসা নীতি

প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ বিরতির পর জাপান সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পুরনো ফি কাঠামো পরিবর্তন করে ১ জুলাই বা তার পরবর্তী সময়ে জমা দেওয়া সকল ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একবার প্রবেশের ভিসার ফি তিন হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার জাপানি ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ছয় হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। জাপানের মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০ বছর পর দেশটিতে ভিসা ফি সংশোধনের ঘটনা ঘটল।


জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ১৯৭৮ সালে সর্বশেষ ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক মুদ্রা বিনিময়ের হার বিবেচনা করেই সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বিদেশি পর্যটকদের জাপানে আগমনের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। গত মাসে পার্লামেন্টে অভিবাসন সংক্রান্ত ফি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি আইন পাস হয়, যা মূলত জাপানকে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার একটি বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ। বর্তমানে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ও আবাসন আবেদন ফি অনেক কম ছিল, যা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ।


জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড হারে বেড়ে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সেবাদান এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্যয়ও আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভিসা ফি থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই তহবিল ব্যবহৃত হবে। ফি বৃদ্ধির তালিকায় কেবল পর্যটন ভিসাই নয়, বরং আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী আবাসনের আবেদনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণ করা হতে পারে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে স্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে, যেখানে আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ জাপানি ইয়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের পূর্বেই এই বড় ধরনের পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সব মিলিয়ে জাপানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং ক্রমবর্ধমান বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করা আরও সহজতর হবে।

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


৫০ বছরে প্রথমবার বিদেশিদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান, বদলাচ্ছে ভিসা নীতি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ বিরতির পর জাপান সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান পুরনো ফি কাঠামো পরিবর্তন করে ১ জুলাই বা তার পরবর্তী সময়ে জমা দেওয়া সকল ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, একবার প্রবেশের ভিসার ফি তিন হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার জাপানি ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ছয় হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন করা হয়েছে। জাপানের মন্ত্রিসভা ইতোমধ্যে এই পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০ বছর পর দেশটিতে ভিসা ফি সংশোধনের ঘটনা ঘটল।


জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ১৯৭৮ সালে সর্বশেষ ভিসা ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক মুদ্রা বিনিময়ের হার বিবেচনা করেই সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বিদেশি পর্যটকদের জাপানে আগমনের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। গত মাসে পার্লামেন্টে অভিবাসন সংক্রান্ত ফি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি আইন পাস হয়, যা মূলত জাপানকে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থানে নেওয়ার একটি বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ। বর্তমানে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ও আবাসন আবেদন ফি অনেক কম ছিল, যা এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ।


জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড হারে বেড়ে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকের সেবাদান এবং অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ব্যয়ও আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ভিসা ফি থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও আধুনিকায়ন করতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই তহবিল ব্যবহৃত হবে। ফি বৃদ্ধির তালিকায় কেবল পর্যটন ভিসাই নয়, বরং আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো এবং স্থায়ী আবাসনের আবেদনের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সীমা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণ করা হতে পারে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে স্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে, যেখানে আবেদন ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ জাপানি ইয়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের পূর্বেই এই বড় ধরনের পরিবর্তনগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সব মিলিয়ে জাপানি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে অভিবাসন সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং ক্রমবর্ধমান বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করা আরও সহজতর হবে।

সূত্র: দ্য জাপান টাইমস।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল