দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তুমুল লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি হিজবুল্লাহর এক তীব্র হামলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডো সদস্য নিহত এবং আরও তেরোজন আহত হয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম নির বেন আরি, যার বয়স একুশ বছর। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্রিগেডের ম্যাগলান ইউনিটের সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা দখলের বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় তিনি প্রাণ হারান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় সময় ভোররাতে নাবাতিহ অঞ্চলের কাফর তেবনিত এলাকায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা অতর্কিত রকেট ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এই আকস্মিক আক্রমণে নির বেন আরি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন এবং আহত তেরোজন সেনার মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিহ এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগের দিন শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের ওপর চালানো হামলায় ডর গেদালিয়া বেন সিমহোনসহ চারজন সেনা নিহত হয়েছিলেন। ডর গেদালিয়া ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আলি তাহের পাহাড়ের নিচে হিজবুল্লাহর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি রয়েছে, যা মূলত তাদের বদর আঞ্চলিক বিভাগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গোষ্ঠীটির বহু যোদ্ধা বর্তমানে এই ঘাঁটিসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মূলত এই শক্তিশালী ঘাঁটিটি কব্জা করার লক্ষ্যেই গত কয়েকদিন ধরে ভূগর্ভ ও ভূ-পৃষ্ঠে উভয় পক্ষ তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দাবি করেছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ প্রায় ১৭৫টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম ও উদ্ধারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ২৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তেজনাকর এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে বেসামরিক জনগণের মাঝে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর তুমুল লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি হিজবুল্লাহর এক তীব্র হামলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডো সদস্য নিহত এবং আরও তেরোজন আহত হয়েছেন। নিহত সেনাসদস্যের নাম নির বেন আরি, যার বয়স একুশ বছর। তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্রিগেডের ম্যাগলান ইউনিটের সার্জেন্ট ফার্স্ট ক্লাস হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হিজবুল্লাহর একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থাপনা দখলের বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় তিনি প্রাণ হারান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্থানীয় সময় ভোররাতে নাবাতিহ অঞ্চলের কাফর তেবনিত এলাকায় হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা অতর্কিত রকেট ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়। এই আকস্মিক আক্রমণে নির বেন আরি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন এবং আহত তেরোজন সেনার মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিহ এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগের দিন শুক্রবারও দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি ট্যাংকের ওপর চালানো হামলায় ডর গেদালিয়া বেন সিমহোনসহ চারজন সেনা নিহত হয়েছিলেন। ডর গেদালিয়া ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, আলি তাহের পাহাড়ের নিচে হিজবুল্লাহর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি রয়েছে, যা মূলত তাদের বদর আঞ্চলিক বিভাগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গোষ্ঠীটির বহু যোদ্ধা বর্তমানে এই ঘাঁটিসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মূলত এই শক্তিশালী ঘাঁটিটি কব্জা করার লক্ষ্যেই গত কয়েকদিন ধরে ভূগর্ভ ও ভূ-পৃষ্ঠে উভয় পক্ষ তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার দাবি করেছেন, গত চব্বিশ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ প্রায় ১৭৫টিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, লেবাননের স্থানীয় গণমাধ্যম ও উদ্ধারকর্মীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ২৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তেজনাকর এবং উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে বেসামরিক জনগণের মাঝে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন