সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিটি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে আসছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিএসএফ একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন। গত ৭ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোর অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী বন্দি ২ হাজার ৭৭ জন।
অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ২ ফেনী জেলা কারাগার ২ এবং খুলনা জেলা কারাগার ২ চালু করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার ২ শিগগিরই চালু করা হবে। মন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণকাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বাড়বে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে বিভিন্ন মিশনে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট চালু করা হয়েছে। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি সেবা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। দ্রুত পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একই সময়ে দেশে কারাগারের অতিরিক্ত বন্দি ও প্রবাসীদের সেবা সহজীকরণও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার অংশ।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিটি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে আসছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিএসএফ একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি রয়েছেন। গত ৭ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের কারাগারগুলোর অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৭৭ হাজার ৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী বন্দি ২ হাজার ৭৭ জন।
অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার ২ ফেনী জেলা কারাগার ২ এবং খুলনা জেলা কারাগার ২ চালু করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ মাদারীপুর ও পিরোজপুর জেলা কারাগার ২ শিগগিরই চালু করা হবে। মন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণকাজ চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বাড়বে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট সেবা সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে বিভিন্ন মিশনে মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট চালু করা হয়েছে। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হোম ডেলিভারি সেবা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। দ্রুত পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে বিদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। একই সময়ে দেশে কারাগারের অতিরিক্ত বন্দি ও প্রবাসীদের সেবা সহজীকরণও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার অংশ।

আপনার মতামত লিখুন