দিকপাল

গুগলের ইসরায়েল নীতি নিয়ে স্ট্যানফোর্ডে সুন্দার পিচাইকে দুয়োধ্বনি


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ১২:৩০ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

গুগলের ইসরায়েল নীতি নিয়ে স্ট্যানফোর্ডে সুন্দার পিচাইকে দুয়োধ্বনি

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হলো। এই বিদায়ী আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পড়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দার পিচাই। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একসময় তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, সেই প্রাঙ্গণেই বর্তমান শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়লেন তিনি। সমাবর্তন চলাকালীন প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ স্বরূপ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং বাকিরা সমস্বরে দুয়োধ্বনি দিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা কেবল মৌখিকভাবেই নয়, বরং ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে এবং নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলকে উত্তাল করে তোলেন।


শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের মূল কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুগলের বাণিজ্যিক চুক্তি। বিশেষ করে অ্যামাজনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ১২০ কোটি ডলারের সেই আলোচিত প্রযুক্তি প্রকল্প, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে গুগলের প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘গুগলের প্রযুক্তিতে গণহত্যা চলছে’ এবং ‘মুক্ত করো ফিলিস্তিন’সহ বিভিন্ন বার্তা ফুটে ওঠে। সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর দাবি, যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সংঘাত ও সহিংসতার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, তাদের কোনোভাবেই নৈতিক সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়।


গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গুগলের এই ব্যবসায়িক নীতি নিয়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ও বহির্গত মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। গত বছর এই চুক্তির প্রতিবাদ করায় গুগল তাদের অন্তত ২৮ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল, যা কোম্পানিটির ভাবমূর্তিকে আরও সংকটের মুখে ফেলেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগ তুলেছে যে, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনকে যেভাবে সংঘাতের কাজে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছে, তা নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন। তবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে গুগল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সিলিকন ভ্যালির অনেক ব্যবসায়ী নেতা অবশ্য শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি দূরদর্শিতার অভাব এবং একপেশে মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলা বৃহত্তর আন্দোলনেরই একটি অংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির চটকদার প্রচারণার আড়ালে যে ভয়াবহ মানবিক মূল্য দিতে হচ্ছে, তা এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দার পিচাইয়ের প্রতি এই সরাসরি ক্ষোভ প্রদর্শন এটাই প্রমাণ করে যে, করপোরেট মুনাফার চেয়েও এখন নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আগামীর নেতৃত্ব।


তথ্যসূত্র: টেকক্রাঞ্চ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


গুগলের ইসরায়েল নীতি নিয়ে স্ট্যানফোর্ডে সুন্দার পিচাইকে দুয়োধ্বনি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হলো। এই বিদায়ী আয়োজনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পড়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দার পিচাই। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একসময় তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন, সেই প্রাঙ্গণেই বর্তমান শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়লেন তিনি। সমাবর্তন চলাকালীন প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী প্রতিবাদ স্বরূপ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন এবং বাকিরা সমস্বরে দুয়োধ্বনি দিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা কেবল মৌখিকভাবেই নয়, বরং ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে এবং নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলকে উত্তাল করে তোলেন।


শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের মূল কারণ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুগলের বাণিজ্যিক চুক্তি। বিশেষ করে অ্যামাজনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত ১২০ কোটি ডলারের সেই আলোচিত প্রযুক্তি প্রকল্প, যার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্লাউড সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে গুগলের প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘গুগলের প্রযুক্তিতে গণহত্যা চলছে’ এবং ‘মুক্ত করো ফিলিস্তিন’সহ বিভিন্ন বার্তা ফুটে ওঠে। সমাবর্তন অনুষ্ঠান বর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর দাবি, যেসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক সংঘাত ও সহিংসতার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, তাদের কোনোভাবেই নৈতিক সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়।


গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গুগলের এই ব্যবসায়িক নীতি নিয়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ও বহির্গত মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে। গত বছর এই চুক্তির প্রতিবাদ করায় গুগল তাদের অন্তত ২৮ জন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল, যা কোম্পানিটির ভাবমূর্তিকে আরও সংকটের মুখে ফেলেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগ তুলেছে যে, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উদ্ভাবনকে যেভাবে সংঘাতের কাজে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছে, তা নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন। তবে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে গুগল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সিলিকন ভ্যালির অনেক ব্যবসায়ী নেতা অবশ্য শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি দূরদর্শিতার অভাব এবং একপেশে মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থানে অনড়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলা বৃহত্তর আন্দোলনেরই একটি অংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির চটকদার প্রচারণার আড়ালে যে ভয়াবহ মানবিক মূল্য দিতে হচ্ছে, তা এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দার পিচাইয়ের প্রতি এই সরাসরি ক্ষোভ প্রদর্শন এটাই প্রমাণ করে যে, করপোরেট মুনাফার চেয়েও এখন নৈতিক দায়বদ্ধতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আগামীর নেতৃত্ব।


তথ্যসূত্র: টেকক্রাঞ্চ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল