দিকপাল

বাঙালি মুসলমানদের পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ | ০১:৫৭ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঙালি মুসলমানদের পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভয়াবহ এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেরই ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের দলিল ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিতাড়িত করা হচ্ছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী চলতি বছরের জুন মাসের শুরু থেকে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে পুশব্যাকের চেষ্টা চালিয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চগড় সীমান্তে ৭৫ ঘণ্টার দীর্ঘ অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ওই সময় কয়েকটি পরিবার সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যেখানে তাদের ন্যূনতম অন্ন-বস্ত্র কিংবা আশ্রয়ের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বহিষ্কারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমেই এই অমানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাদ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাদের নাগরিকত্বের সপক্ষে কোনো যুক্তি বা আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগটুকু পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, ব্যক্তি বা পরিবারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে দেশান্তর করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সীমান্ত স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের সরকারের প্রতিই আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং পুশব্যাকের মতো অমানবিক কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে সংস্থাটি। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে দুই দেশের প্রশাসনকেই অতি দ্রুত এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ এবং আইনি সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

তথ্যসূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


বাঙালি মুসলমানদের পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image

ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশব্যাক করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভয়াবহ এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেরই ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের দলিল ও প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিতাড়িত করা হচ্ছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী চলতি বছরের জুন মাসের শুরু থেকে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে পুশব্যাকের চেষ্টা চালিয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চগড় সীমান্তে ৭৫ ঘণ্টার দীর্ঘ অচলাবস্থার কথা উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। ওই সময় কয়েকটি পরিবার সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর পরিস্থিতিতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যেখানে তাদের ন্যূনতম অন্ন-বস্ত্র কিংবা আশ্রয়ের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বহিষ্কারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ নীতিমালা কার্যকর করা হয়েছে, যার মাধ্যমেই এই অমানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাদ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাদের নাগরিকত্বের সপক্ষে কোনো যুক্তি বা আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগটুকু পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, ব্যক্তি বা পরিবারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এভাবে দেশান্তর করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনছে না, বরং দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সীমান্ত স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের সরকারের প্রতিই আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে জোরপূর্বক বহিষ্কার এবং পুশব্যাকের মতো অমানবিক কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তুলেছে সংস্থাটি। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে দুই দেশের প্রশাসনকেই অতি দ্রুত এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ এবং আইনি সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

তথ্যসূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল