জাতীয় সংসদে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, বরং জনকল্যাণ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিরোধী দল কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধীদলের ভূমিকা আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, যা জনস্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
বিগত সংসদগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে দেশে প্রকৃতপক্ষে কোনো শক্তিশালী বা কার্যকর বিরোধী দল ছিল না। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, সরকার নিজেই নিজের বিরোধী দল ও সরকারের দ্বৈত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে সংসদের চিত্র বদলেছে। বর্তমানে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা জনস্বার্থসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিরোধী দল আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদের অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে সংসদ অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, ফাইল-কাগজ ছোড়াছুড়ি এবং একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ ভবন থেকে ওয়াকআউটের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটত। কিন্তু একটি সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করা কতটা ব্যয়বহুল, তা সচেতন নাগরিক মাত্রই জানেন। জনগণের সেই কষ্টার্জিত অর্থ যেন যথাযথভাবে দেশের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটি নিশ্চিত করাই বিরোধী দলের প্রধান লক্ষ্য। আর এ কারণেই বর্তমান বিরোধী দল জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদে গঠনমূলক বক্তব্য রাখছে।
বিরোধী দলের অবস্থান পরিষ্কার করে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের নরম কিংবা গরম বিরোধী দল হিসেবে বিবেচনা করবেন না। আমরা সংসদে একটি ‘যৌক্তিক বিরোধী দল’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। জনস্বার্থেই আমরা সংসদে আছি এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরব থাকব।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যতদিন পর্যন্ত জনগণের পক্ষে সংসদে কথা বলার সুযোগ ও পরিবেশ বজায় থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তারা সংসদে থেকে জনগণের অধিকারের কথা বলে যাবেন।
মতবিনিময় সভায় দেশের অর্থনৈতিক ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব আনেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, প্রতি বছর জুন মাসে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, তা যদি এগিয়ে এনে জানুয়ারি মাসে নির্ধারণ করা যায়, তবে জাতীয় অর্থের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। আগামী সংসদ অধিবেশনে এই বাজেট সংস্কারের বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারও জোর দিয়ে কথা বলা হবে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
জাতীয় সংসদে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, বরং জনকল্যাণ ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিরোধী দল কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধীদলের ভূমিকা আবারও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, যা জনস্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
বিগত সংসদগুলোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ২০০৮ সালের পর থেকে দেশে প্রকৃতপক্ষে কোনো শক্তিশালী বা কার্যকর বিরোধী দল ছিল না। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, সরকার নিজেই নিজের বিরোধী দল ও সরকারের দ্বৈত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে সংসদের চিত্র বদলেছে। বর্তমানে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা জনস্বার্থসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে জোরালো ভূমিকা রাখছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিরোধী দল আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংসদের অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে সংসদ অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, ফাইল-কাগজ ছোড়াছুড়ি এবং একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ ভবন থেকে ওয়াকআউটের মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটত। কিন্তু একটি সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করা কতটা ব্যয়বহুল, তা সচেতন নাগরিক মাত্রই জানেন। জনগণের সেই কষ্টার্জিত অর্থ যেন যথাযথভাবে দেশের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটি নিশ্চিত করাই বিরোধী দলের প্রধান লক্ষ্য। আর এ কারণেই বর্তমান বিরোধী দল জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংসদে গঠনমূলক বক্তব্য রাখছে।
বিরোধী দলের অবস্থান পরিষ্কার করে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "আমাদের নরম কিংবা গরম বিরোধী দল হিসেবে বিবেচনা করবেন না। আমরা সংসদে একটি ‘যৌক্তিক বিরোধী দল’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। জনস্বার্থেই আমরা সংসদে আছি এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরব থাকব।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যতদিন পর্যন্ত জনগণের পক্ষে সংসদে কথা বলার সুযোগ ও পরিবেশ বজায় থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তারা সংসদে থেকে জনগণের অধিকারের কথা বলে যাবেন।
মতবিনিময় সভায় দেশের অর্থনৈতিক ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব আনেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, প্রতি বছর জুন মাসে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়, তা যদি এগিয়ে এনে জানুয়ারি মাসে নির্ধারণ করা যায়, তবে জাতীয় অর্থের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। আগামী সংসদ অধিবেশনে এই বাজেট সংস্কারের বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আবারও জোর দিয়ে কথা বলা হবে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান।

আপনার মতামত লিখুন