দিকপাল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গতি আসার ইঙ্গিত


স্বাধীন আহমেদ
স্বাধীন আহমেদ স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | ১১:৪৫ এ এম | প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গতি আসার ইঙ্গিত

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও এই কমিটির চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সর্বমোট সাত হাজার তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে চার হাজার পাঁচশ ছত্রিশ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে দুই হাজার চারশ সাতষট্টি কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্প।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় আটশ একর ভূমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি সরকারি পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও অর্থায়ন ও ডেভেলপার নির্বাচনের জটিলতায় দীর্ঘ সময় স্থবির ছিল। তবে বর্তমানে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি নতুন করে একনেকের টেবিলে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে এবং এর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের কাজ করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে সরকারি তহবিল ও চীন সরকারের ঋণের সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং আরও চার লাখ মানুষের পরোক্ষ কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই প্রকল্পের নির্মাণব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেতু ও রাস্তা নির্মাণ বাবদ যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে এক হাজার ২৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা ও ৩৩০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য যে বিশাল অংকের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের খরচ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কমিশন মনে করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যয় যৌক্তিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।

আজকের এই সভায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী এলাকা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে একশটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীটিও অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের নীতি-নির্ধারণী এই সভার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই প্রকল্পগুলোর জট কাটবে এবং বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষ করে চীন সফর ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার মুখে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত আলোর মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে গতি আসার ইঙ্গিত

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও এই কমিটির চেয়ারপারসনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সর্বমোট সাত হাজার তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে চার হাজার পাঁচশ ছত্রিশ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে দুই হাজার চারশ সাতষট্টি কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্প।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় আটশ একর ভূমির ওপর এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি সরকারি পর্যায়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও অর্থায়ন ও ডেভেলপার নির্বাচনের জটিলতায় দীর্ঘ সময় স্থবির ছিল। তবে বর্তমানে সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি নতুন করে একনেকের টেবিলে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এর অবকাঠামোগত উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে এবং এর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের কাজ করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে সরকারি তহবিল ও চীন সরকারের ঋণের সংস্থান রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় এক লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং আরও চার লাখ মানুষের পরোক্ষ কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ আসার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই প্রকল্পের নির্মাণব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সেতু ও রাস্তা নির্মাণ বাবদ যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে এক হাজার ২৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তা ও ৩৩০ মিটার সেতু নির্মাণের জন্য যে বিশাল অংকের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের খরচ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কমিশন মনে করছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যয় যৌক্তিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি।

আজকের এই সভায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফেনীর মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, করতোয়া নদী ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী এলাকা রক্ষার সংশোধিত প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশে একশটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীটিও অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সরকারের নীতি-নির্ধারণী এই সভার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই প্রকল্পগুলোর জট কাটবে এবং বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে। বিশেষ করে চীন সফর ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার মুখে এই প্রকল্পগুলো দ্রুত আলোর মুখ দেখবে বলে প্রত্যাশা করছেন নীতিনির্ধারকরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল