ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি বড় সত্য ও উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আর তা হলো—এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, নিজেদের জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার মতো একটি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করা অত্যন্ত অবাস্তব, অকার্যকর এবং একটি চরম ভুল ধারণা মাত্র।
ইরানের প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উপস্থিত সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে ইরানের শত্রুপক্ষ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম অর্জন করে চলেছে। শত্রুদের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে পূর্বের চেয়ে আরও অনেক বেশি জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলছে, যা মোকাবিলায় ইরানকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে আরও বলা হয়েছে যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এখন থেকে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং জ্ঞান-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠভাবে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট মনে করেন, দেশের ভেতরের এই মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই কেবল সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে বিজ্ঞানের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মত দেন।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সেনাবাহিনীকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সর্বদা অটল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। একই সাথে দেশের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় প্রভাব থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রেখে দেশের সেবা করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি গভীর প্রত্যয়ের সাথে বলেন, যেকোনো মূল্যে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর এই পেশাদার, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অবস্থান বর্তমান দেশ এবং সমগ্র রাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এখন একটি বড় সত্য ও উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আর তা হলো—এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, নিজেদের জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার মতো একটি বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করা অত্যন্ত অবাস্তব, অকার্যকর এবং একটি চরম ভুল ধারণা মাত্র।
ইরানের প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উপস্থিত সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে ইরানের শত্রুপক্ষ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম অর্জন করে চলেছে। শত্রুদের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে পূর্বের চেয়ে আরও অনেক বেশি জটিল ও সংবেদনশীল করে তুলছে, যা মোকাবিলায় ইরানকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওই বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে আরও বলা হয়েছে যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে এখন থেকে বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং জ্ঞান-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড় ও ঘনিষ্ঠভাবে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট মনে করেন, দেশের ভেতরের এই মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই কেবল সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আধুনিক যুদ্ধকৌশলে বিজ্ঞানের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মত দেন।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের সেনাবাহিনীকে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সর্বদা অটল ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। একই সাথে দেশের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় প্রভাব থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রেখে দেশের সেবা করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি গভীর প্রত্যয়ের সাথে বলেন, যেকোনো মূল্যে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর এই পেশাদার, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল অবস্থান বর্তমান দেশ এবং সমগ্র রাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুন