দিকপাল

বন্যায় বিপর্যস্ত ৩ পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার


ইয়াসরির মাহবুব
ইয়াসরির মাহবুব স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৯ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যায় বিপর্যস্ত ৩ পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের তিন পার্বত্য জেলা (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) এবং কক্সবাজারের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত হয়ে এসব অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি উপচে বান্দরবানের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির (BGB) তত্ত্বাবধানে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে এখনও কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকাগুলো টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনও জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ের মাটি ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়িতে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নিচু এলাকাগুলো থেকে চেঙ্গী নদী এবং আশেপাশের ছড়া-খালের পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ায় পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে খাগড়াছড়ির ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও হাজার হাজার পরিবার জলমগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত হয়ে আছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিমজ্জিত হলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যাকবলিত এই এলাকায় এখন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬


বন্যায় বিপর্যস্ত ৩ পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজার

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের তিন পার্বত্য জেলা (বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি) এবং কক্সবাজারের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত হয়ে এসব অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন এবং দুর্গত এলাকায় তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি উপচে বান্দরবানের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সাথে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দুর্গত এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির (BGB) তত্ত্বাবধানে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে এখনও কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন নিচু এলাকাগুলো টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনও জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাঘাইছড়িতে পাহাড়ের মাটি ধসে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে খাগড়াছড়ি ও দীঘিনালা হয়ে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়িতে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। নিচু এলাকাগুলো থেকে চেঙ্গী নদী এবং আশেপাশের ছড়া-খালের পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ায় পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে খাগড়াছড়ির ছোট মেরুং ইউনিয়নে এখনও হাজার হাজার পরিবার জলমগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও রামুসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত হয়ে আছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা নিমজ্জিত হলেও বর্তমানে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। বন্যাকবলিত এই এলাকায় এখন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল