কাতারে চলমান আন্তর্জাতিক পরমাণু ও কৌশলগত আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তেহরান একটি অত্যন্ত কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সমঝোতা কার্যকর করতে হলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবৈধভাবে আটকে রাখা ইরানের নিজস্ব চব্বিশ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ অবশ্যই পুরোপুরি অবমুক্ত বা মুক্ত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রটি আরও বিশদভাবে জানিয়েছে যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ রূপরেখা বা অবস্থান তৈরি করেছে। ইরানের মূল পরিকল্পনা হলো, দুই দেশের মধ্যে যখনই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই আটকে থাকা বিশাল তহবিলের অবশিষ্টাংশের অর্ধেক বা ঠিক বারো বিলিয়ন ডলার অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে। এরপর চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে বাকি অর্ধেক অর্থ আগামী ষাট দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফেরত পাঠাতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে তেহরান আলোচনার টেবিলে পরবর্তী পদক্ষেপে যাবে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, এই জটিল ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই ইরানের শীর্ষ এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বকর কালিবাফ বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন, যাতে করে এই অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের আইনি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। মূলত নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই ইরান এই আলোচনায় নিজেদের অবস্থানকে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন রেখেছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
কাতারে চলমান আন্তর্জাতিক পরমাণু ও কৌশলগত আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি বিশেষ সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বা চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তেহরান একটি অত্যন্ত কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সমঝোতা কার্যকর করতে হলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অবৈধভাবে আটকে রাখা ইরানের নিজস্ব চব্বিশ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ অবশ্যই পুরোপুরি অবমুক্ত বা মুক্ত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রটি আরও বিশদভাবে জানিয়েছে যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে তেহরান একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ রূপরেখা বা অবস্থান তৈরি করেছে। ইরানের মূল পরিকল্পনা হলো, দুই দেশের মধ্যে যখনই কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই আটকে থাকা বিশাল তহবিলের অবশিষ্টাংশের অর্ধেক বা ঠিক বারো বিলিয়ন ডলার অবিলম্বে অবমুক্ত করতে হবে। এরপর চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে বাকি অর্ধেক অর্থ আগামী ষাট দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফেরত পাঠাতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে তেহরান আলোচনার টেবিলে পরবর্তী পদক্ষেপে যাবে না বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, এই জটিল ও স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক দাবিটি বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতির বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই ইরানের শীর্ষ এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বকর কালিবাফ বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করছেন, যাতে করে এই অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের আইনি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। মূলত নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই ইরান এই আলোচনায় নিজেদের অবস্থানকে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন রেখেছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

আপনার মতামত লিখুন