দিকপাল

কঠোর হচ্ছে মার্কিন গ্রিন কার্ড নীতি বাতিল হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে


শামিমা লিয়া
শামিমা লিয়া আন্তর্জাতিক ডেস্ক এডিটর
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | ০৪:০৫ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

কঠোর হচ্ছে মার্কিন গ্রিন কার্ড নীতি বাতিল হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক অভাবনীয় এবং আমূল পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন এক কঠোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মার্কিন ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সেখানকার আমেরিকান দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত লাখ লাখ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক প্রধান সংস্থাটি শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নতুন নিয়মের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অত্যন্ত বিশেষ বা জরুরি কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এখন থেকে মার্কিন সীমানার ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস বা মর্যাদা পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। এর সহজ অর্থ হলো, যারা বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বৈধ ভিসা যেমন—উচ্চশিক্ষার জন্য আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী চুক্তিতে নিয়োজিত বিদেশি কর্মী কিংবা পর্যটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে হলে সবার আগে মার্কিন মুলুক ছাড়তে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রচলিত নিয়মে যেখানে বৈধ ভিসাধারীরা আমেরিকার ভেতরে বসেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং অনুমোদন পেয়ে যেতেন, নতুন এই আদেশের ফলে সেই দীর্ঘদিনের চেনা পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

অভিবাসন প্রক্রিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাটির দাবি, এই বড় ধরনের রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো গোটা অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন করে তোলা, পাশাপাশি অবৈধভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে মার্কিন মাটিতে অবস্থান করার প্রবণতাকে পুরোপুরি বন্ধ করা। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীরা যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না থেকে নিজ দেশ থেকে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চালাবেন, তখন কোনো কারণে আবেদন বাতিল হলে তাদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ অবস্থানকারীদের বহিষ্কার করা প্রশাসনের জন্য অনেক বেশি সহজ হবে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে এর অপব্যবহার করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটানো হয়েছে। সরকারি মুখপাত্ররা এই পদক্ষেপকে দেশের আইন অনুযায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানোর একটি জরুরি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসনের মতে, এর ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য তৈরি হওয়া দীর্ঘ জটলা এবং সংস্থার ওপর বাড়তি চাপ অনেকটাই কমবে, যার ফলে নাগরিকত্ব দেওয়া বা ভুক্তভোগী শ্রেণির বিশেষ ভিসা দেওয়ার মতো অন্যান্য জরুরি কাজগুলো আরও দ্রুততার সাথে করা সম্ভব হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম কড়াকড়ি নীতিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা। তারা এই নতুন নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে একে অমানবিক ও চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বের নিয়মে একটি পরিবার একসাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেই গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ আইনি লড়াই বা আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু নতুন নিয়মের ফলে হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলকভাবে সাজানো সংসার আর চাকরি ফেলে দেশ ছাড়তে হবে, যা অনেক পরিবারকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে। শুধু তাই নয়, একবার দেশ ছাড়ার পর পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার আইনি অনুমতি বা ভিসা মিলবে কিনা—তা নিয়েও এক বিশাল ঝুঁকির মুখে পড়বেন আবেদনকারীরা। অভিবাসন সংস্থার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তটি লাখ লাখ পরিবার এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন নিয়োগকর্তাদের সমস্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেবে এবং এটি বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগকে অত্যন্ত সংকুচিত করে তুলবে।

একটি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং বহু ধাপের, যা সম্পন্ন হতে সাধারণভাবেই কয়েক মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি যে আরও কয়েক গুণ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা সহজেই অনুমেয়। একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় দশ লাখের বেশি বৈধ অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে লাভজনক কোনো ক্ষেত্র থাকলে সেটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, তবে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য কোনো ছাড় থাকছে না। এমনকি ইতোমধ্যে যারা আমেরিকার ভেতরে থেকে আবেদন জমা দিয়ে রেখেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে ঠিক কীভাবে প্রভাবিত হবে, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানেরই একটি ধারাবাহিক রূপ। জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা কিংবা কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার নিয়মিত প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কড়া হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, কোনো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি কেউ অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে তাকে চরম শাস্তিস্বরূপ দেশ থেকে বহিষ্কার, ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ভিসা পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর রূপান্তরের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উচ্চদক্ষ পেশাদার কর্মী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য মার্কিন স্বপ্ন এখন এক বিশাল গোলকধাঁধায় পরিণত হলো।

তথ্য: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


কঠোর হচ্ছে মার্কিন গ্রিন কার্ড নীতি বাতিল হলে ফিরতে হবে নিজ দেশে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে এক অভাবনীয় এবং আমূল পরিবর্তন এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন এক কঠোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে না। তার পরিবর্তে আবেদনকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে মার্কিন ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে সেখানকার আমেরিকান দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত লাখ লাখ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক প্রধান সংস্থাটি শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নতুন নিয়মের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অত্যন্ত বিশেষ বা জরুরি কোনো পরিস্থিতি ছাড়া এখন থেকে মার্কিন সীমানার ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস বা মর্যাদা পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। এর সহজ অর্থ হলো, যারা বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বৈধ ভিসা যেমন—উচ্চশিক্ষার জন্য আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী চুক্তিতে নিয়োজিত বিদেশি কর্মী কিংবা পর্যটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করতে হলে সবার আগে মার্কিন মুলুক ছাড়তে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রচলিত নিয়মে যেখানে বৈধ ভিসাধারীরা আমেরিকার ভেতরে বসেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন এবং অনুমোদন পেয়ে যেতেন, নতুন এই আদেশের ফলে সেই দীর্ঘদিনের চেনা পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

অভিবাসন প্রক্রিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাটির দাবি, এই বড় ধরনের রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো গোটা অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিয়মতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন করে তোলা, পাশাপাশি অবৈধভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে মার্কিন মাটিতে অবস্থান করার প্রবণতাকে পুরোপুরি বন্ধ করা। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, আবেদনকারীরা যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না থেকে নিজ দেশ থেকে দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি চালাবেন, তখন কোনো কারণে আবেদন বাতিল হলে তাদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ অবস্থানকারীদের বহিষ্কার করা প্রশাসনের জন্য অনেক বেশি সহজ হবে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে এর অপব্যবহার করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটানো হয়েছে। সরকারি মুখপাত্ররা এই পদক্ষেপকে দেশের আইন অনুযায়ী অভিবাসন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজানোর একটি জরুরি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসনের মতে, এর ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য তৈরি হওয়া দীর্ঘ জটলা এবং সংস্থার ওপর বাড়তি চাপ অনেকটাই কমবে, যার ফলে নাগরিকত্ব দেওয়া বা ভুক্তভোগী শ্রেণির বিশেষ ভিসা দেওয়ার মতো অন্যান্য জরুরি কাজগুলো আরও দ্রুততার সাথে করা সম্ভব হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম কড়াকড়ি নীতিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা। তারা এই নতুন নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করে একে অমানবিক ও চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্বের নিয়মে একটি পরিবার একসাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেই গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ আইনি লড়াই বা আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারতো। কিন্তু নতুন নিয়মের ফলে হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলকভাবে সাজানো সংসার আর চাকরি ফেলে দেশ ছাড়তে হবে, যা অনেক পরিবারকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেবে। শুধু তাই নয়, একবার দেশ ছাড়ার পর পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার আইনি অনুমতি বা ভিসা মিলবে কিনা—তা নিয়েও এক বিশাল ঝুঁকির মুখে পড়বেন আবেদনকারীরা। অভিবাসন সংস্থার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তটি লাখ লাখ পরিবার এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল মার্কিন নিয়োগকর্তাদের সমস্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দেবে এবং এটি বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগকে অত্যন্ত সংকুচিত করে তুলবে।

একটি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং বহু ধাপের, যা সম্পন্ন হতে সাধারণভাবেই কয়েক মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি যে আরও কয়েক গুণ কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি হবে, তা সহজেই অনুমেয়। একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় দশ লাখের বেশি বৈধ অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষা করছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় কিংবা দেশের অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে লাভজনক কোনো ক্ষেত্র থাকলে সেটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, তবে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য কোনো ছাড় থাকছে না। এমনকি ইতোমধ্যে যারা আমেরিকার ভেতরে থেকে আবেদন জমা দিয়ে রেখেছেন, তাদের ভবিষ্যৎ এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে ঠিক কীভাবে প্রভাবিত হবে, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানেরই একটি ধারাবাহিক রূপ। জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসন বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা কিংবা কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার নিয়মিত প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কড়া হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, কোনো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি কেউ অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে তাকে চরম শাস্তিস্বরূপ দেশ থেকে বহিষ্কার, ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ভিসা পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর রূপান্তরের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উচ্চদক্ষ পেশাদার কর্মী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য মার্কিন স্বপ্ন এখন এক বিশাল গোলকধাঁধায় পরিণত হলো।

তথ্য: বিবিসি।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল