গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা বা সহায়তা বহরের মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি নৌবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর মুক্ত হয়ে ফিরে আসা স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, কারাবন্দি অবস্থায় তাদের ওপর চরম অমানবিক আচরণ, মারধর এবং যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ৫০টি জাহাজ থেকে ৪৩০ জন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে অনেককে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলে এই নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ সামনে আসে। 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র আয়োজকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, বন্দি অবস্থায় অন্তত ১৫ জন কর্মী ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এছাড়া খুব কাছ থেকে রবার বুলেট ছোড়া, টেজার গান দিয়ে শক দেওয়া এবং বেধড়ক মারধরের কারণে অনেকের হাত-পায়ের হাড় ও পিঠের পাঁজর ভেঙে গেছে। নির্যাতনের তীব্রতার কারণে বেশ কয়েকজন কর্মীকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্ত এক ইতালীয় অর্থনীতিবিদ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, তাদের সবাইকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় আইনি সহায়তা বা আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
এই পৈশাচিক আচরণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় দেশগুলো কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তারা এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং তারা মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড় ভাঙা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। ইতালির বিচার বিভাগীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রোমের কৌঁসুলিরা ইতিমধ্যেই অপহরণ, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ধারা যুক্ত করে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। স্পেন সরকারও জানিয়েছে যে, তাদের ৪৪ জন নাগরিক ইস্তাম্বুল হয়ে দেশে ফিরেছেন এবং তাদের মধ্যেও কয়েকজন মারাত্মক শারীরিক আঘাতের জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে এই অমানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে। কারাগারে বন্দিদের মাটিতে মুখ থুবড়ে ফেলে রাখার দৃশ্য নিয়ে ওই মন্ত্রীর উপহাসমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো বিতর্কিত ওই ইসরাইলি মন্ত্রীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা ও প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
তবে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ঢালাওভাবে অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তাদের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করেই আইন অনুযায়ী পেশাদার কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল এবং সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে ঠেলে দিলে, সেখান থেকেও পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের বিবৃতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, তারা স্বাধীনভাবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি, তবে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের বিবরণ কর্মীদের দাবির সত্যতাকেই জোরালো করছে। ফ্লোটিলার আয়োজকদের মতে, বিশ্ববাসী এখন আন্তর্জাতিক কর্মীদের দুর্ভোগ দেখছে, যা আসলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর প্রতিদিন চলতে থাকা ইসরাইলি বর্বরতার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টাকালে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লোটিলা বা সহায়তা বহরের মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি নৌবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর মুক্ত হয়ে ফিরে আসা স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, কারাবন্দি অবস্থায় তাদের ওপর চরম অমানবিক আচরণ, মারধর এবং যৌন নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ৫০টি জাহাজ থেকে ৪৩০ জন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে অনেককে মুক্তি দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলে এই নির্যাতনের লোমহর্ষক বিবরণ সামনে আসে। 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র আয়োজকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, বন্দি অবস্থায় অন্তত ১৫ জন কর্মী ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এছাড়া খুব কাছ থেকে রবার বুলেট ছোড়া, টেজার গান দিয়ে শক দেওয়া এবং বেধড়ক মারধরের কারণে অনেকের হাত-পায়ের হাড় ও পিঠের পাঁজর ভেঙে গেছে। নির্যাতনের তীব্রতার কারণে বেশ কয়েকজন কর্মীকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মুক্তিপ্রাপ্ত এক ইতালীয় অর্থনীতিবিদ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, তাদের সবাইকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় আইনি সহায়তা বা আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
এই পৈশাচিক আচরণের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় দেশগুলো কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিক গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তারা এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং তারা মেরুদণ্ড ও পাঁজরের হাড় ভাঙা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। ইতালির বিচার বিভাগীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রোমের কৌঁসুলিরা ইতিমধ্যেই অপহরণ, নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের ধারা যুক্ত করে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন। স্পেন সরকারও জানিয়েছে যে, তাদের ৪৪ জন নাগরিক ইস্তাম্বুল হয়ে দেশে ফিরেছেন এবং তাদের মধ্যেও কয়েকজন মারাত্মক শারীরিক আঘাতের জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে এই অমানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে। কারাগারে বন্দিদের মাটিতে মুখ থুবড়ে ফেলে রাখার দৃশ্য নিয়ে ওই মন্ত্রীর উপহাসমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো বিতর্কিত ওই ইসরাইলি মন্ত্রীর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা ও প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
তবে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ঢালাওভাবে অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তাদের মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, বন্দিদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করেই আইন অনুযায়ী পেশাদার কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল এবং সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে ঠেলে দিলে, সেখান থেকেও পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের বিবৃতির দিকেই ইঙ্গিত করা হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে, তারা স্বাধীনভাবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করতে পারেনি, তবে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের বিবরণ কর্মীদের দাবির সত্যতাকেই জোরালো করছে। ফ্লোটিলার আয়োজকদের মতে, বিশ্ববাসী এখন আন্তর্জাতিক কর্মীদের দুর্ভোগ দেখছে, যা আসলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর প্রতিদিন চলতে থাকা ইসরাইলি বর্বরতার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আপনার মতামত লিখুন