ইজেল জুড়ে রং
জলরং
ক্ল্যাসিক রোদের ঝকঝকে সকালেও টের পাওয়া যায় শীত এলো। হাত নেড়ে তাকেও স্বাগত জানাতে হয়---যেন প্রিয়মুখ ফিরেছে আপন শহরে। মেঘের উড়ালদিন ফুরোলেও চল্লিশের বুকে লাগে কাঁপন।
তৈলচিত্র
আয়নাঘরের মেঝে সাক্ষী---ঘুমারিয়ায় যে নারী নেচেছে উদ্দাম, সেও কাল কেঁদেছে ফেলে আসা ফুলের জন্য। তারাছোটা রাতে খসেছে ইরানি ঘাগরা, লক্ষ্ণৌ ঘুঙুর। আগুনে হাত পোড়ানোর সময়ও তার ছিল না অভিযোগ।
ছাপচিত্র
ক্রমশূন্য ভাঁড়ার আমরা আড়ালে রাখি পরমকৌশলে। এই যে একান্নবর্তী সংসার, তার তেল-নুনের ফর্দেও তৈরি হয়ে যায় চটকদার মনুমেন্ট। পড়শিবাড়িতেও তাই।
স্কেচ
টুকটাক বেমানান শব্দ নিয়ে খেলতে খেলতে প্রায়ই হয়ে যায় আত্মদর্শন। যতটুকু দেখা যায় ততটুকুই রোদ। মেঘেরা থাকে অন্দরে। তবুও কবিতাকেই মনে হয় কবি'র প্রতিচ্ছবি।
আধুরা
অনেকটা সময় অপচয়ের পর
আধফোটা ফুল জানায়-- " ফুটবো না" ঘাড় ঘুরিয়ে রোজ তাকে দেখে যেতো যে বখাটে শালিক - উড়ে যায় সে ডানে।
ইজেল জুড়ে ভরদুপুর
রঙ- তুলির মাখামাখি ;
এদিকওদিক ছোপছোপ দাগ।
একটা অসমাপ্ত ছবি- মুখভার।
" মেরে দুখ কি কোয়ি দাওয়া না কারো"
পুত্রশোকে চিত্রা সিং।
আধশেখা গযল,
ভুলভাল সুরে গেয়ে উঠি।
ওদিকে মুগ্ধমন, প্রশ্রয় হাসি।
শব্দেরা নাড়ায় আমূল।
দুমরে মুচড়ে আঁকিবুঁকি খেরোখাতা।
অথচ তুমি দক্ষ বাজিকর।
শব্দের লাগাম ধরে খেলে যাও তুমুল।
আমার কেবল মনকথা---
অসমাপ্ত কবিতারা বাজিয়ে যায় সাইরেন।
বৃহন্নলা রাত
গলুইয়ের ফাঁক জুড়ে
চাঁদ আগলে রাখে এক বৃহন্নলা রাতকে---
সেতারের প্রথম তারে হাওয়ার চুমো!
মহাপয়ার লুকোনো গয়নাবাক্স উজাড় করে দিতেই,
নীল তিতলি উড়ে যায় মেঘে---
অথচ মেঘ ছুঁতে চায়নি চাঁদ।
অচ্ছুৎ অভিমানের জলে
মুখ ডুবিয়ে রয় বৃহন্নলা রাত।
ইচ্ছেভুল
কুয়াশাপর্দা উঠে গেলে খুব কাঁদবে তুমি। একটা মাছরাঙা বিকেলে স্মৃতিকাঁটা বিঁধবে তোমায় নির্দয়তায়। গলুই জুড়ে মনমরা চাঁদ...
.
ভরসন্ধ্যায় ঘোরগ্রস্ত হাতে কী লিখবে তুমি? কবিতা? না কি মনকথা জুড়ে থাকবে হলুদ পৃষ্ঠা!
.
আতরদানি উপচে পড়লে বুকের মাঝে শ্মশানঘাট!
কতটুকু সইতে পারো?অসময়ে ফেরিওয়ালা বেচে দিয়ে গেলো কিছু জ্বলজ্বলন্ত গল্প।
.
বড্ড হিম এখানে!
সাড়ে তিন হাত! তবুও দিব্যি হাত পা ছড়ানো উঠোন। প্রিয় নৈঃশব্দ্য। শুধু বরফযুগ....
.
তুমি কি কাঁদছিলে? না কি ইচ্ছেভুল আমার?
এ এক অদ্ভুত মেটাফোর
শহরটাই এমন-
ছাই ছাই বিষাদমেঘেরা
সন্ধ্যে নামায় চুপিসারে।
অদ্ভুত সখ্যতায়
অর্কিডের হাত ছুঁয়ে দেয় মানিপ্ল্যান্ট।
এ শহর দূরে ছুঁড়ে দেয় অন্ত্যমিল।
গলিতে গলিতে মেলানকোলিক দুপুর,
লঘুতালে চৌরাশিয়ার ঢেউ।
বিপন্ন স্বপ্নের ডুবসাঁতার
অথবা
ফুলকুসুমের দীর্ঘশ্বাস...
কিছু খুচরো পয়সার মতো
রোজ হাত বদলে
চেনা গল্পটাও পালটে যাচ্ছে ভীষণ।
ও শহরে--
তুমি তখন তুমুল খেলছো
এক রোদেলা সকালের সাথে।।
মৃতটানেল
বিরামচিহ্নের মতো
কোনো কোনো অবয়বে এসে
থমকে দাঁড়ায় জাদুর লাটিম।
তুমিই কি সে-ই চেনামুখ?
জন্ম থেকে জন্মান্তরে
বুকে আঁকছো পাহাড়!
তোমার জটায় দূর্বাঘাস।
সেই কোমলে কড়ি খেলে
লাজুক চিত্রা হরিণ।
তুমি শব্দের পাশে লেখো ঘুম।
একখন্ড দুপুরে আকন্ঠ পিপাসায়
মেশাও মায়াজল।
তোমাকে চিনেছে যে---
সে চিনেছে পরমশূন্য
সে চিনেছে দূর্বাশোক।
আমি চোখের নীচে জমা রাখি
শোকের মতো অন্ধকার।
ভাঁটফুলে ভেসে যায় যে দেউলিয়া স্মৃতি - তাকেও জাগিয়ে রাখি
অযুত শৃঙ্গারে।
তোমার কাছে ফিরবো ভেবেও
তলিয়ে যাই মার্জিন পেরিয়ে
মৃতটানেলে।
স্বপ্নভঙ্গ
অলখে ছুঁড়ে দিই এলিজি,
এইসব শাপগ্রস্ত দিনের তামাশা ফুরোলে
নিজস্ব ব্যথা নিয়ে শুয়ে পড়বো কফিনে;
এ
র
প
র
দুঃস্বপ্ন
ভোরগুলোর গায়ে মুঠিমুঠি কালো।
অথচ
স্বাধীনতা মানে লাল!
চৌহদ্দি পেরোলেই ---
সারি সারি লালপিঁপড়ের কাঁধে- চেনা শব।
এক ব্যর্থ দেশের বুকচেরা মানচিত্র
দেখতে
দেখতে
দেখতে...
"দ্য ওল্ড গিটারিস্ট " এর চোখ গড়িয়ে জল!
ঠুনকোফুল
বিশ্বাসের তাকিয়ায় চোরকাঁটা --
রোজ তাতেই মাথা রেখে ভাবি,
গিরগিটির চেয়েও দ্রুততায় রঙ বদলায় যে বিষধর
তাকেই কেন শিখিয়েছি প্রণয়ের সপ্তশ্লোক?
এ কী এক দুর্বিপাক!
অথবা ঘুমঘোরে পেরিয়ে আসা অচেনা বাঁক।
অদৃশ্যে ছুঁড়ে দেয়া ডেথনোট---
" ভুলে যেও এক অযথা পাতার গল্প"
জরায়ুর কাছে এক অনাহূত ভ্রুণের
নিস্ফলা আর্তির মতো গুমরে ওঠা হাহাকার।
বিশ্বাস মরে যায় সবুজ ঘাসে, মাথা ঠুকরে।
এরপর
ফুল কুড়িয়ে, মেঘ কুড়িয়ে.....
আমরা তুলে রাখি অন্দরে কিছু ঠুনকো ধুলো।
কথাযাত্রা
অভিমানী হেমন্তে
কমলা বোঁটার আশ্লেষে
কথারা ঝরে পড়ে টুপটাপ
কথাদের যাবার তাড়া - এপাড়া ওপাড়া
খড়ের বিচালি পেরিয়ে অন্য উঠোন
কামিনীগন্ধা রাতের ভাঁজে নিটোল আয়েশে।
কথারা হেঁটে বেড়ায় রাজপথে
গলিতে গলিতে নামলে মেলানকোলিক দুপুর
কথারা আগুন ছড়ায় মিছিলে
স্লোগান আর হাতের মুঠোয়
ঝাঁঝালো টকশোর টেবিল থেকে
এক লাফে আড্ডায়, পাখিদের হল্লায়
রুপকথার ফিনিক্স উড়িয়ে সিম্পোজিয়াম
"কুলফিমালাই " হাঁকে চিরচেনা ভাষায়
লিলুয়া টানে কোথায় পৌঁছে যায় স্বর?

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ইজেল জুড়ে রং
জলরং
ক্ল্যাসিক রোদের ঝকঝকে সকালেও টের পাওয়া যায় শীত এলো। হাত নেড়ে তাকেও স্বাগত জানাতে হয়---যেন প্রিয়মুখ ফিরেছে আপন শহরে। মেঘের উড়ালদিন ফুরোলেও চল্লিশের বুকে লাগে কাঁপন।
তৈলচিত্র
আয়নাঘরের মেঝে সাক্ষী---ঘুমারিয়ায় যে নারী নেচেছে উদ্দাম, সেও কাল কেঁদেছে ফেলে আসা ফুলের জন্য। তারাছোটা রাতে খসেছে ইরানি ঘাগরা, লক্ষ্ণৌ ঘুঙুর। আগুনে হাত পোড়ানোর সময়ও তার ছিল না অভিযোগ।
ছাপচিত্র
ক্রমশূন্য ভাঁড়ার আমরা আড়ালে রাখি পরমকৌশলে। এই যে একান্নবর্তী সংসার, তার তেল-নুনের ফর্দেও তৈরি হয়ে যায় চটকদার মনুমেন্ট। পড়শিবাড়িতেও তাই।
স্কেচ
টুকটাক বেমানান শব্দ নিয়ে খেলতে খেলতে প্রায়ই হয়ে যায় আত্মদর্শন। যতটুকু দেখা যায় ততটুকুই রোদ। মেঘেরা থাকে অন্দরে। তবুও কবিতাকেই মনে হয় কবি'র প্রতিচ্ছবি।
আধুরা
অনেকটা সময় অপচয়ের পর
আধফোটা ফুল জানায়-- " ফুটবো না" ঘাড় ঘুরিয়ে রোজ তাকে দেখে যেতো যে বখাটে শালিক - উড়ে যায় সে ডানে।
ইজেল জুড়ে ভরদুপুর
রঙ- তুলির মাখামাখি ;
এদিকওদিক ছোপছোপ দাগ।
একটা অসমাপ্ত ছবি- মুখভার।
" মেরে দুখ কি কোয়ি দাওয়া না কারো"
পুত্রশোকে চিত্রা সিং।
আধশেখা গযল,
ভুলভাল সুরে গেয়ে উঠি।
ওদিকে মুগ্ধমন, প্রশ্রয় হাসি।
শব্দেরা নাড়ায় আমূল।
দুমরে মুচড়ে আঁকিবুঁকি খেরোখাতা।
অথচ তুমি দক্ষ বাজিকর।
শব্দের লাগাম ধরে খেলে যাও তুমুল।
আমার কেবল মনকথা---
অসমাপ্ত কবিতারা বাজিয়ে যায় সাইরেন।
বৃহন্নলা রাত
গলুইয়ের ফাঁক জুড়ে
চাঁদ আগলে রাখে এক বৃহন্নলা রাতকে---
সেতারের প্রথম তারে হাওয়ার চুমো!
মহাপয়ার লুকোনো গয়নাবাক্স উজাড় করে দিতেই,
নীল তিতলি উড়ে যায় মেঘে---
অথচ মেঘ ছুঁতে চায়নি চাঁদ।
অচ্ছুৎ অভিমানের জলে
মুখ ডুবিয়ে রয় বৃহন্নলা রাত।
ইচ্ছেভুল
কুয়াশাপর্দা উঠে গেলে খুব কাঁদবে তুমি। একটা মাছরাঙা বিকেলে স্মৃতিকাঁটা বিঁধবে তোমায় নির্দয়তায়। গলুই জুড়ে মনমরা চাঁদ...
.
ভরসন্ধ্যায় ঘোরগ্রস্ত হাতে কী লিখবে তুমি? কবিতা? না কি মনকথা জুড়ে থাকবে হলুদ পৃষ্ঠা!
.
আতরদানি উপচে পড়লে বুকের মাঝে শ্মশানঘাট!
কতটুকু সইতে পারো?অসময়ে ফেরিওয়ালা বেচে দিয়ে গেলো কিছু জ্বলজ্বলন্ত গল্প।
.
বড্ড হিম এখানে!
সাড়ে তিন হাত! তবুও দিব্যি হাত পা ছড়ানো উঠোন। প্রিয় নৈঃশব্দ্য। শুধু বরফযুগ....
.
তুমি কি কাঁদছিলে? না কি ইচ্ছেভুল আমার?
এ এক অদ্ভুত মেটাফোর
শহরটাই এমন-
ছাই ছাই বিষাদমেঘেরা
সন্ধ্যে নামায় চুপিসারে।
অদ্ভুত সখ্যতায়
অর্কিডের হাত ছুঁয়ে দেয় মানিপ্ল্যান্ট।
এ শহর দূরে ছুঁড়ে দেয় অন্ত্যমিল।
গলিতে গলিতে মেলানকোলিক দুপুর,
লঘুতালে চৌরাশিয়ার ঢেউ।
বিপন্ন স্বপ্নের ডুবসাঁতার
অথবা
ফুলকুসুমের দীর্ঘশ্বাস...
কিছু খুচরো পয়সার মতো
রোজ হাত বদলে
চেনা গল্পটাও পালটে যাচ্ছে ভীষণ।
ও শহরে--
তুমি তখন তুমুল খেলছো
এক রোদেলা সকালের সাথে।।
মৃতটানেল
বিরামচিহ্নের মতো
কোনো কোনো অবয়বে এসে
থমকে দাঁড়ায় জাদুর লাটিম।
তুমিই কি সে-ই চেনামুখ?
জন্ম থেকে জন্মান্তরে
বুকে আঁকছো পাহাড়!
তোমার জটায় দূর্বাঘাস।
সেই কোমলে কড়ি খেলে
লাজুক চিত্রা হরিণ।
তুমি শব্দের পাশে লেখো ঘুম।
একখন্ড দুপুরে আকন্ঠ পিপাসায়
মেশাও মায়াজল।
তোমাকে চিনেছে যে---
সে চিনেছে পরমশূন্য
সে চিনেছে দূর্বাশোক।
আমি চোখের নীচে জমা রাখি
শোকের মতো অন্ধকার।
ভাঁটফুলে ভেসে যায় যে দেউলিয়া স্মৃতি - তাকেও জাগিয়ে রাখি
অযুত শৃঙ্গারে।
তোমার কাছে ফিরবো ভেবেও
তলিয়ে যাই মার্জিন পেরিয়ে
মৃতটানেলে।
স্বপ্নভঙ্গ
অলখে ছুঁড়ে দিই এলিজি,
এইসব শাপগ্রস্ত দিনের তামাশা ফুরোলে
নিজস্ব ব্যথা নিয়ে শুয়ে পড়বো কফিনে;
এ
র
প
র
দুঃস্বপ্ন
ভোরগুলোর গায়ে মুঠিমুঠি কালো।
অথচ
স্বাধীনতা মানে লাল!
চৌহদ্দি পেরোলেই ---
সারি সারি লালপিঁপড়ের কাঁধে- চেনা শব।
এক ব্যর্থ দেশের বুকচেরা মানচিত্র
দেখতে
দেখতে
দেখতে...
"দ্য ওল্ড গিটারিস্ট " এর চোখ গড়িয়ে জল!
ঠুনকোফুল
বিশ্বাসের তাকিয়ায় চোরকাঁটা --
রোজ তাতেই মাথা রেখে ভাবি,
গিরগিটির চেয়েও দ্রুততায় রঙ বদলায় যে বিষধর
তাকেই কেন শিখিয়েছি প্রণয়ের সপ্তশ্লোক?
এ কী এক দুর্বিপাক!
অথবা ঘুমঘোরে পেরিয়ে আসা অচেনা বাঁক।
অদৃশ্যে ছুঁড়ে দেয়া ডেথনোট---
" ভুলে যেও এক অযথা পাতার গল্প"
জরায়ুর কাছে এক অনাহূত ভ্রুণের
নিস্ফলা আর্তির মতো গুমরে ওঠা হাহাকার।
বিশ্বাস মরে যায় সবুজ ঘাসে, মাথা ঠুকরে।
এরপর
ফুল কুড়িয়ে, মেঘ কুড়িয়ে.....
আমরা তুলে রাখি অন্দরে কিছু ঠুনকো ধুলো।
কথাযাত্রা
অভিমানী হেমন্তে
কমলা বোঁটার আশ্লেষে
কথারা ঝরে পড়ে টুপটাপ
কথাদের যাবার তাড়া - এপাড়া ওপাড়া
খড়ের বিচালি পেরিয়ে অন্য উঠোন
কামিনীগন্ধা রাতের ভাঁজে নিটোল আয়েশে।
কথারা হেঁটে বেড়ায় রাজপথে
গলিতে গলিতে নামলে মেলানকোলিক দুপুর
কথারা আগুন ছড়ায় মিছিলে
স্লোগান আর হাতের মুঠোয়
ঝাঁঝালো টকশোর টেবিল থেকে
এক লাফে আড্ডায়, পাখিদের হল্লায়
রুপকথার ফিনিক্স উড়িয়ে সিম্পোজিয়াম
"কুলফিমালাই " হাঁকে চিরচেনা ভাষায়
লিলুয়া টানে কোথায় পৌঁছে যায় স্বর?

আপনার মতামত লিখুন