ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনাকর্তা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির।
এর আগে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ, সরকারি কাজে বাধা ও কেপিআই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই মাজেদুল ঘটনাটির তদন্তভার পেয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ভিড়ের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। যাত্রীদের অসন্তোষের খবরে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে ধেয়ে যান এবং ‘ধরে পিটাবো’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের অতিসংবেদনশীল (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে থাকেন। দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া তিনি অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের আনা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তার সঙ্গেও মারমুখী আচরণ করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ও তার সহযোগীদের এমন মারমুখী ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিমানবন্দর যেমন স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও আচরণ বেশ বিতর্কিত। তিনি এর আগে বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বিমানবন্দরে সংঘটিত এই হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে তার সেই ধারাবাহিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল আচরণেরই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সেনাকর্তা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির।
এর আগে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ, সরকারি কাজে বাধা ও কেপিআই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এসআই মাজেদুল ঘটনাটির তদন্তভার পেয়েছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ভিড়ের কারণে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয়। যাত্রীদের অসন্তোষের খবরে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে ধেয়ে যান এবং ‘ধরে পিটাবো’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের অতিসংবেদনশীল (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে থাকেন। দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া তিনি অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের আনা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তার সঙ্গেও মারমুখী আচরণ করেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ও তার সহযোগীদের এমন মারমুখী ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিমানবন্দর যেমন স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়ে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও আচরণ বেশ বিতর্কিত। তিনি এর আগে বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। বিমানবন্দরে সংঘটিত এই হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে তার সেই ধারাবাহিকভাবে উচ্ছৃঙ্খল আচরণেরই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন