দিকপাল

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান আইরিন খানের


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:২৮ পি এম | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান আইরিন খানের
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব ও রোডম্যাপ পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। নিউইয়র্ক থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা এই বৈশ্বিক সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে আইরিন খান জানান, বাস্তুচ্যুতি ধরে রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এখন তা চিরতরে অবসানের সময় এসেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাওয়া এবং বিশ্ব রাজনীতির মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ার কারণে ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, যাদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায় বন্দি।

সংকট নিরসনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন: ১. রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন। ২. মিয়ানমারে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ৩. রোহিঙ্গা ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। ৪. মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। ৫. সীমান্ত এলাকায় মাদক, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ অস্ত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

আইরিন খান যোগ করেন, বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের আস্থা রয়েছে, তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে কেবল সহমর্মিতা না দেখিয়ে এবার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দিকপাল

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান আইরিন খানের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া পাঁচ দফা প্রস্তাব ও রোডম্যাপ পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। নিউইয়র্ক থেকে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে চলা এই বৈশ্বিক সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রথম ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে আইরিন খান জানান, বাস্তুচ্যুতি ধরে রাখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এখন তা চিরতরে অবসানের সময় এসেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আর্থিক প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাওয়া এবং বিশ্ব রাজনীতির মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাওয়ার কারণে ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ ও তাদের আশ্রয়দাতা বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে, যাদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায় বন্দি।

সংকট নিরসনে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলোকে অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান এই শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন: ১. রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন। ২. মিয়ানমারে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং তাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। ৩. রোহিঙ্গা ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা। ৪. মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। ৫. সীমান্ত এলাকায় মাদক, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধ অস্ত্রের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

আইরিন খান যোগ করেন, বৈশ্বিক বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের আস্থা রয়েছে, তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে কেবল সহমর্মিতা না দেখিয়ে এবার বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


দিকপাল

প্রধান সম্পাদক: কাদির নোমান
সম্পাদক: আল জাবিরী
প্রকাশক: মু. আবদুর রহমান
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দিকপাল