‘আমার সন্তান কোথায়?’—এই আকুল প্রশ্ন তুলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
নিখোঁজ শিশুদের ভুক্তভোগী পরিবারসমূহের আয়োজনে এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টি। আর চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১৫ হাজার ৭১৭ জন নিখোঁজ শিশুর মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি (১৩ হাজার ৬৭৯ জন) উদ্ধার হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়ে গেছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান হারানোর পর বছরের পর বছর ধরে থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা সন্তানদের সন্ধান পাচ্ছেন না। এতে এক অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। বক্তারা আরও বলেন, এসব তথ্য কেবল সাম্প্রতিক সময়ের চিত্র; দীর্ঘদিন ধরেই দেশে শিশু অপহরণ ও পাচারের নানা ঘটনা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালুর দাবি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সমন্বয়ে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ‘১৩২১৯’ চালু করা হয়, যা বর্তমানে শিশু উদ্ধারে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের স্বজন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘আমার সন্তান কোথায়?’—এই আকুল প্রশ্ন তুলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়’ শীর্ষক এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
নিখোঁজ শিশুদের ভুক্তভোগী পরিবারসমূহের আয়োজনে এবং ‘জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন’-এর সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের পরিসংখ্যান আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশে শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টি। আর চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যানুসারে, চলতি বছরের ১৫ হাজার ৭১৭ জন নিখোঁজ শিশুর মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি (১৩ হাজার ৬৭৯ জন) উদ্ধার হলেও এখনো ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ রয়ে গেছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান হারানোর পর বছরের পর বছর ধরে থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তারা সন্তানদের সন্ধান পাচ্ছেন না। এতে এক অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। বক্তারা আরও বলেন, এসব তথ্য কেবল সাম্প্রতিক সময়ের চিত্র; দীর্ঘদিন ধরেই দেশে শিশু অপহরণ ও পাচারের নানা ঘটনা অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালুর দাবি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সমন্বয়ে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ‘১৩২১৯’ চালু করা হয়, যা বর্তমানে শিশু উদ্ধারে কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের স্বজন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন